বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০১৯, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

সিলেটে ছাত্রলীগের কাছ থেকে বালু পাথর না নেয়ায় কাজ বন্ধ

সিলেটে ছাত্রলীগের কাছ থেকে বালু পাথর না নেয়ায় কাজ বন্ধ

সিলেটে ছাত্রলীগের কাছ থেকে বালু পাথর না নেয়ায় কাজ বন্ধ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ প্রকল্পের চলমান কাজে বালু-পাথর সরবরাহ করতে চান ছাত্রলীগ নেতারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে বালু-পাথর না নিতে চাইলে তারা জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেন।

তারা বালু-পাথর দিতে চান। তাদের কাছ থেকে মাল না নিলে কাজ করা যাবে না বলে জানান। রোববার বেলা ২টায় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের ও রাফি এসে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন। কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোম্পানির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। মামুন বলেন, বিষয়টি কোম্পানি ও সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং ঝামেলা এড়াতে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। কোম্পানি ও সিসিকের লোকজন আজ (সোমবার) তাদের সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে।

সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর যুগান্তরকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়েছি। কয়েকজন লোক এসে নাকি তাদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। তারা প্রকল্পের কাজে বালু-পাথর দিতে চায়। এরা কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী মালামাল দিতে পারবে না, তাই কোম্পানি তাদের কাছ থেকে মালামাল নিতে চাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিসিকের অপর এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এটা সিলেট বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড।

এতে সিলেটের সুনাম নষ্ট হবে। এ রকম হলে স্বনামধন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সিলেটে কাজ করতে আসবে না। আর সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কয়েকজন ছেলে বালু-পাথর দিতে চায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেছি তাদের আমার কাছে পাঠানোর জন্য। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। কাজ বন্ধ নয় দাবি করে মেয়র বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকজন অন্য বিভাগের হওয়ায় এরা ভয় পেয়েছে। তবে ঢালি কনস্ট্রাকশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহতাব উদ্দীন রাজীব যুগান্তরকে বলেন, এলাকার ছেলেরা প্রকল্পের কাজে মাল-মেটিরিয়ালস দিতে চায়। তারা কোম্পানির চাহিদা ও নিয়ম-কানুন জানে না। আমরা তাদের বিষয়টি বুঝিয়েছি।

এটা সমাধানের পথে। আশা করি কাজ শুরু হয়ে যাবে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের খান কাজ বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, আমরা ব্যবসা করতে আগ্রহী। কোম্পানি তো ঢাকা থেকে মালামাল আনবে, আমাদের কাছ থেকে নিতে সমস্যা কী ? তারা বলছে, ৫০-৬০ লাখ টাকার মালামাল বাকি দিতে হবে, আমরা এতেও রাজি।

আমার নেতা আজাদুর রহমান আজাদ (সিটি কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক) সিসিকের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি (চিফ ইঞ্জিনিয়ার) ঢাকা থেকে এলে আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন। একইভাবে জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রাফিকুল ইসলাম রাফি যুগান্তরকে বলেন, কাজ বন্ধ করব কেন, আমরা ব্যবসা করতে আসছি। দাম-ধরে পোষালে ব্যবসা করব, অন্যথায় করব না। কাজ বন্ধ করলে তো সিলেটেরই ক্ষতি।

সিসিকের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নুর আজিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর আজাদ সাহেব আমাকে ফোন করেছেন। তিনি ওই ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বসে চা খাওয়ার জন্য বলেছেন। আমি তো ঢাকা বলছি, এসে কথা বলব। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি তিনি সোমবার দুপুরে শুনেছেন। এরপর সিসিকের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ শুরু করতে বলেছি। আর ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বসে চা খাওয়ার জন্য বলেছি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতারা বালু-পাথর দিতে চাইছে, এতে দোষের কিছু দেখছি না। তবে কাজ বন্ধ করাটা অন্যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর ধোপাদিঘির সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সিসিক। ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট ভারত সরকারের অর্থায়নে এই প্রকল্পের সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে রাজধানীর ‘ঢালি কনস্ট্রাকশন’ কাজটি পায়।

একই বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৩ কোটি টাকা মূল্যের এই প্রকল্পে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলেও জায়গা দখলমুক্ত থাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com