বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০১৯, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী খোদেজা মা-বাবার খোঁজে কুড়িগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী খোদেজা মা-বাবার খোঁজে কুড়িগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী খোদেজা মা-বাবার খোঁজে কুড়িগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারীতে হারানো বাবা-মায়ের খোঁজে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক সুইজারল্যান্ড প্রবাসীকন্যা খোদেজা। স্বামী ও প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান করেও কোনো সূত্র না পেয়ে হতাশ পরিবারটি।

তিনি জানান, বড় হয়ে যখন জানলেন তার দেশ সুইজারল্যান্ড নয়। জন্ম বাংলাদেশে। তখন থেকেই খচখচ করছিল মনটা। একসময় স্বামীকে বলেই ফেললেন আরাধ্য কথাটি। স্বামীও রাজি হলেন তার কথায়। তারপর বাংলাদেশে এলেন হারিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের খোঁজে।

প্রবাসী খোদেজা এখন চষে বেড়াচ্ছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ।

তার সফরসঙ্গী ও অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে সাড়ে ৩ বছর বয়সী খোদেজাকে উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে কাঁদতে দেখে পার্শ্ববর্তী চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত বেসরকারি শিশু সংগঠন টেরেডেস হোমসের একটি নোঙরখানায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানেই ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন তিনি। এরপর সুইজারল্যান্ডের রওফি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। ছোটবেলার স্মৃতি একটি সাদাকালো ছবি নিয়ে তিনি নতুন বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দেন জেনেভা শহরে। সেখানেই সন্তান হিসেবে পরিচতি লাভ করেন।

মেয়েটি জানান, পড়াশোনা শেষ করে জেনেভার সাইকেল ডেলা গোলেহে স্কুলের শিক্ষক হিসেবে ২০০১ সাল থেকে কাজ করছেন। মা-বাবা হারানোর সময়ের স্মৃতি হিসেবে তার কোনো কিছু মনে নেই। তবে তিনি জানান, এতটুকু মনে রয়েছে আমি তখন অন্য কোনো শহরে চলে এসেছি। এত দিন পরে আমি আমার নিজের জন্মভূমিতে এসেছি শুধুমাত্র আমার প্রকৃত মা-বাবার খোঁজে। কিন্তু আমি তাদের নাম-ঠিকানা কিছুই জানি না। আছে শুধু আমার নিজের একটি ছোটবেলার সাদাকালো ছবি।

তিনি জানান, শেষ বয়সে এসে যদি আমার মা-বাবা এবং বংশধরদের খুঁজে পাই। জানি না পাব কিনা। তবে পেলে আমার থেকে বড় খুশি আর কেউ হবে না।

খোদেজা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার জিইয়াস মরিনোকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ইলিয়াস নামে ৫ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

খোদেজার সফরসঙ্গী হিসেবে ইনফ্যান্টস ডু মনডের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রাকিব আহসান জানান, প্রাথমিকভাবে আমাদের সোর্সদের কাজে লাগিয়ে আমরা খোদেজার মা-বাবা এমনকি তার স্বজনদের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কেউ কোনো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেনি। তবে কেউ যদি কখনও খোদেজার মা-বাবার পরিচয় দাবি করেন সে বিষয়ে আমরা সঠিক তথ্য-উপাত্তসহ ডিএনএ টেস্ট করিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হব। কেন না আমরা চাই না এই সময় এসে খোদেজা কোনো প্রতারণার শিকার হোক।

অপর সফরসঙ্গী জেনেভা বাংলা পাঠশালার পরিচালক ও সুইস বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেন, খোদেজার সঙ্গে আমার পাঠশালাতেই পরিচয় হয়। সেখানে আলাপচারিতার তার শৈশবের কথা জানালে আমিও তার মা-বাবার খোঁজে এসেছি। কিন্তু বিষয়টি খুবই জটিল। কেননা কোনো ডকুমেন্টস আমাদের হাতে নেই। কিন্তু তারপরেও যদি মিরাকল কিছু ঘটে।

স্থানীয় এনজিও কর্মী নুরুল হাবীব পাভেল জানান, সেই সময় কুড়িগ্রামে খুবই দুর্ভিক্ষ ছিল। তখনকার পরিস্থিতি দেখে চিলামারীর নুরন্নবী চৌধুরী, দেলোয়ার মাস্টার, ছমচ হাজীসহ অনেকেই একটি নোঙরখানা খোলেন। পরবর্তীতে টিডিএইচ নোঙরখানাটি নেন। সেখানে ১ হাজার ২০০ শিশু ছিল নোঙরখানায়। প্রতি ৫০ জন শিশুকে দেখার জন্য একজন করে টিম লিডার ছিল।

তিনি জানান, খোদেজার টিম লিডার আনিছুর ছিলেন। তিনি খোদেজার ছবি দেখে চিনতে পেরেছেন। কিন্তু তার মা-বাবার বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, ১৯৭৮ সালে আমার জানা মতে ৩৬ জন এতিম শিশুকে অনেক বিদেশি দত্তক নিয়েছিল। খোদেজার সঙ্গে তার সমবয়সী পিপিজ এবং কুরানি নামের আরও দুটি শিশু বিদেশে গিয়েছিল। সেই সময় টিডিএইচ-এ যেসব শিশু বড় হয়েছিল তাদের মধ্যে যাদের মাতা-পিতা মারা গেছে তাদের কেউ শুধু বিদেশে দত্তক দিয়েছে। আর যাদের পিতা-মাতা ছিল তাদেরকে স্বাবলম্বী করে দেয়া হয়। আর খোদেজাকে রাস্তা থেকে নিয়ে আসায় তার পিতা-মাতা সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারছে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com