রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
খাঁচায় বন্দি আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রীকে বিয়ের দাওয়াত সাব্বিরের কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের চার তাবিজহুমকিতে চামড়া শিল্প: কারসাজিতে সক্রিয় ট্যানারি মালিকদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট * পূর্বপ্রস্তুতির ঘাটতি ছিল সরকারের কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের চার তাবিজ আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত ২০ ৬ হিন্দু পরিবারের ইসলাম গ্রহণ, প্রস্তুত আরও ৫০ পরিবার! গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান ট্রাম্প! ইসলামিক জীবনযাপনেই বেশি শান্তি পায়: জুনায়েদ সিদ্দিকী প্রশিক্ষণে গিয়েও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি, এএসপি বহিষ্কার ফেসবুকে মেয়ে সেজে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা কাশ্মীর ইস্যুতে রাশিয়ার আহ্বানে চমকে গেল ভারত
মিতুর শাস্তি কী হতে পারে? আইন কী বলে?

মিতুর শাস্তি কী হতে পারে? আইন কী বলে?

মিতুর শাস্তি কী হতে পারে? আইন কী বলে?

দীর্ঘ নয় বছর প্রেম। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকাকে। বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারেন বিভিন্ন ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটায় তার প্রেমিকা। এরপরেও সব ভুলে বিয়ে করে শুরু করে সংসার। এর কিছুদিন পরে আবার জানতে পারে নতুন কিছু পরকীয়া প্রমিকদের সাথে রাত কাটাচ্ছে তার স্ত্রী। এতকিছু সহ্য না করতে পেরে অবশেষে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।

বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের কথা। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৪টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ডাক্তার মুসতাফা মুরশেদ আকাশ। সেখানে নিজের আত্মহত্যার কথা জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে নিজের স্ত্রীর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এবং ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে আত্মহত্যার জন্য নিজের বউকে দায়ী করেন। পাশাপাশি শ্বশুর শাশুড়িকেও দায়ী করেন তিনি।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিক চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বরের নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

নিহতের খালাতো বোন শেখ লিমা থাকেন এই বাসার চার তলায়। তিনি জানান, তিন তলায় থাকতেন আকাশ। ভোর ৫টার দিকে খালা জোবায়দা খানম আকাশ ভাই এর রুমে গিয়ে দেখতে পান তিনি বাথরুমের কাছে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। এ সময় তার অবস্থা ছিলো গুরুতর। বাথরুমে বেশি কিছু সিরিঞ্জ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এরপর আমরা তাকে গাড়িতে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, মুস্তফা মুরশেদ আকাশ ডাক্তার ছিলেন। তিনি কোন হাসপাতালে জয়েন্ট করেননি। নগরীর চক বাজারের থ্রি ডক্টরস নামের একটি কোচিং সেন্টারের মালিকদের একজন ছিলেন তিনি। সেখানেই পড়াতেন।

তিনি জানান, ১৮ জানুয়ারি আমার বিয়ে হয়। আমার বিয়ে উপলক্ষে ১৪ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন ভাবি তানজিলা চৌধুরী হক মিতু। দুই মাস তার বাংলাদেশে থাকার কথা।

তিনি পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, আকাশ ভাই এর নির্দেশ অমান্য করে রাত ৪টার দিকে ভাবি তার বাবার পাঁচলাইশের বাসায় চলে যান। আকাশ ভাই ভাবিকে বলেছিলেন, তুমি চলে গেলে আমি আত্মহত্যা করবো।

স্ত্রীকে নিয়ে আকাশ মানসিক যন্ত্রণায় ‍ভুগছিলেন বলেও জানান তিনি।

ফেসবুক শেষের স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’

আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়ায়, প্রেম করে বেড়ায় আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল নালাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত।

ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলেনা।

বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করনা, মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা।

হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে, না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল।

ও আমাকে আর কি ভালবাসল? কিসের বিয়ে করল?

আমি শেষ পর‍্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচনা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে। আমাই এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই। তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনা আমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক। অনেকেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমিঞ্জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার। যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা’।

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় ওসি আবুল বাসার বলেন, চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ৩০৬ ধারায় তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বলেন, ডা. আকাশ মৃত্যুর ঘটনাটি অবশ্যই আত্মহত্যায় প্ররোচনার। তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে এটা স্পষ্ট যে ডা. আকাশ দাম্পত্য জীবনে সুখী ছিলেন না। তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে আত্মহত্যার করেছেন। প্ররোচনা কীভাবে হতে পারে?

মানুষকে নেতিবাচকভাবে ও মানসিকভাবে আকার-ইঙ্গিত বা কাজের দ্বারা দুর্বল করে তার বেঁচে থাকাটা অর্থহীন করে তোলা যায়। কোনো মানসিক রোগীকে যদি বোঝানো হয় যে, সে সমাজের পরিবারের বোঝা, তাকে দিয়ে কিছু হবে না। তার বেঁচে থাকাটা অপ্রয়োজনীয়, তবে তা আত্মহত্যায় প্ররোচনাদায়ক। অমুককে বাঁচানোর জন্য তমুককে বিপদে ফেলে দেয়া প্ররোচনা। তিলে তিলে কারও স্বপ্ন আশা ভেঙে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা। তীব্র অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, উত্তেজিত করা কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা।

আইন কী বলে?

বাংলদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারা অনুযায়ী-ব্যক্তির আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা। তবে আত্মহত্যা করতে গিয়ে না মরলে আপনাকে আত্মহত্যা বা নিজেকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অপরাধে এক বছরের জেলে যেতে হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারামতে, যদি আপনি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নেন এবং অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তা হলে আপনার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে বা উভয় শাস্তিই হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে ফেসবুকে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর বেশ কিছু পরকীয়ার গোপন মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন। এর আগে নিজের ফেসবুকে আরও কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন আকাশ। যেগুলো দেখলে যে কেউ বুঝবেন, আকাশ প্রচণ্ড অভিমান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। স্ত্রীর আচরণে বিরক্ত ছিলেন তরুণ এ চিকিৎসক। স্ত্রীর চরিত্র নিয়েও খোলামেলা লিখেছেন তিনি। স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর প্রতি পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন আকাশ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com