বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

পদ্মার ইলিশ গঙ্গায় নিতে ভারতের নিপুন কৌশল

পদ্মার ইলিশ গঙ্গায় নিতে ভারতের নিপুন কৌশল

পদ্মার ইলিশ গঙ্গায় নিতে ভারতের নিপুন কৌশল

সত্তর দশকে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ পর্যন্ত ইলিশ পেত ভারতের জেলেরা। নৌযানের চলাচল নিশ্চিত করতে ফারাক্কা বাঁধে নির্মাণ করা নেভিগেশন লকের কারণে বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল। ভারতে কম ধরা পড়তে শুরু করে সুস্বাদু এই মাছটি।

তবে এবার বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের ওপর শকুনি দৃষ্টি পড়েছে ভারতের। বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ কোলকাতা বাঙ্গালীদের চাই!! এ জন্যই প্রজনন মওসুমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল (ইলিশ যাতে পদ্মা থেকে উজানে গঙ্গায় যেতে পারে তা নিশ্চিত করতেই ফারাক্কা বাঁধের নেভিগেশন লকটির নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এমনভাবে নকশা সংস্কার করা হচ্ছে যাতে করে বাঁধ দিয়ে ইলিশ প্রবেশ করতে পারে। ফলে চার দশক পর আসন্ন বর্ষাকালে ভারতে ইলিশ পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এখবর জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ পর্যন্ত ভারতের জেলেরা ইলিশ পেত। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর নৌযানের চলাচল নিশ্চিত করতে নেভিগেশন লক নির্মাণ করা হয়। এতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন থেকেই সুস্বাদু এই মাছটি ভারতে কম ধরা পড়তে শুরু করে।

ইলিশ লোনা পানির মাছ হলেও প্রজনন মৌসুমে এরা বঙ্গোপসাগর থেকে মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী হয়ে এই মাছটি ভারতের গঙ্গা নদী দিয়ে এলাহাবাদ পর্যন্ত পৌঁছানোর নজিরও রয়েছে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে ইলিশ আর বাঁধ পেরিয়ে খুব একটা যেতে পারত না। এ কারণেই বাঁধটির নেভিগেশন লকে সংস্কার এনেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপথ কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর পান্ডে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমরা ইলিশের চলাচলের পছন্দের সময় রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটটি আট মিটার পর্যন্ত খুলে রাখব। অভ্যন্তরীণ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় পানি কমিশন এবং ফারাক্কা বাঁধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘খাবার খুঁজতে আর ডিম ছাড়ার সময়ে প্রায়ই মাছেরা বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইলিশের চলাচল নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলে মাছটির উৎপাদন বাড়বে। এ ছাড়া এর ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের অর্থনীতিকে বেগবান করবে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com