বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, সবার পড়া উচিৎ

বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, সবার পড়া উচিৎ

বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, সবার পড়া উচিৎ

এক রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আমার স্ত্রি প্রতিদিনের মত আমাকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসলো। তখন আমি তার হাতটি জড়িয়ে ধরলাম এবং বললাম, “আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।”সে আমার চোখের দিকে শান্ত ভাবে তাকালো…আমি বুঝতে পারছিলামনা যে তাকে আমি কথাগুলো কিভাবে বলবো।

কিন্তুতাকে আমার জানানো উচিৎ যে, আমি তার সাথে আরসংসার করতে চাই না। আমি খুব ধীরে,শান্তভাবে বিষয়টি তুললাম। সে আমারকথায়কোনরকম বিরক্ত প্রকাশনা করে ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”আমি তার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলাম।এতে সে রেগে গেলো।টেবিলের উপর থেকে সবকিছু ছুড়ে ফেলে দিয়ে চিৎকারকরে বললো, “তুমি একটা কাপুরুষ।”

সেই রাতে আমাদেরআর কথা হল না। সে সারা রাত নিঃশব্দে কাঁদলো।হয়তো ও বুঝার চেষ্টা করছিল কেনআমি এমনটা চাইলাম। কিন্তুআমি তাকে বলতে পারিনি যে, আমি আরএকটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছি।আমি নিজেকে খুব অপরাধী মনে করেছিলাম, আরঐঅপরাধবোধ নিয়েই আমি ডিভোর্স লেটার লিখলাম

যেখানে উল্লেখ ছিল, আমাদের বাড়ি, আমাদের গাড়ি,এবং আমার ব্যবসায়ের ৩০% এর মালিক সে হবে।তারহাতে কাগজটি যাওয়ারসাথে সাথে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেললো।যে মানুষটার সাথে আমি ১০ টা বছর সংসার করলাম,আজকে আমি তাকেই আর চিনি না। তার এতগুল সময়,সম্পদ, এবং শক্তি নষ্ট করার জন্য আমার খুব খারাপলাগছিলো, কিন্তু এখন আমি আর তাকে ফেরতনিতে পারবো না কারণ, আমি ফারহানা কেভালোবাসি।অবশেষে সে আমার সামনে চিৎকারকরে কান্না করে দিল, যা আমি আশা করছিলাম।

আমারকাছে তার কান্না একরকম মুত্তিরচিহ্নেরমতলাগছিল। তখন মনে হচ্ছিল, এবার আমি আসলেওসফল।পরের দিন, আমি অনেক দেরী করে বাসায় ফিরি।দরজায় ঢুকতেই দেখি, ও ডাইনিং রুমেটেবিলে কিছুলিখছিল। আমি আর খাবার খেতে গেলামনা এবং সরাসরি ঘুমাতে চলে গেলাম, কারণ সারাদিনফারহানাকে নিয়ে অনেক ঘুরেছি এবং এখনআমি ক্লান্ত। আমি ঘুমিয়ে গেলাম। যখন আমার ঘুমভাঙ্গলো, তখনো ও লিখছিল। আমি গ্রাহ্য করলামনা এবং আবার ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে সে আমাকে কিছু শর্ত দিল, যেখানে লেখাছিল,“আমি তোমার থেকে কিছুই চাইনা, কিন্তুআলাদা হয়ে যাওয়ার আগে শুধু এক মাস সময় চাই। এইএকমাসে আমরা জতটুকু সম্ভবস্বাভাবিকজীবন জাপনকরবো, কারণ আর একমাস বাদেই আমাদের ছেলেটারপরীক্ষা। ওর যাতে কোন ক্ষতি না হয় তাইআমি এমনটা চাইছি।”আমি মেনে নিলাম। কিন্তু সে আমার কাছে আরও কিছুচেয়েছিল… ও আমাকে মনে করতে বললো, বিয়ের দিনআমি তাকে যেভাবে কোলে করে নিয়ে ঘরেঢুকেছিলাম।

ও আমাকে অনুরোধ করলো, যাতে এই একমাসআমি তাকে প্রতি সকালে কোলে করে আমাদের শোবারঘর থেকে বাইরের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যাই।আমি ভাবলাম, ও পাগল হয়ে গেছে। যাই হোক, এই শেষসময়ে যাতে আর ঝামেলা না হয়, তাই আমি তার অনুরোধমেনে নিলাম।আমি ফারহানাকে আমার স্ত্রির দেয়া শর্তগুলোরকথা বলেছিলাম। শুনার পর সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো, যা খুবই অযৌক্তিকলাগলো আমার কাছে। তখন ফারহানা আমার স্ত্রিরউপর ঘৃণা এবং রাগ নিয়ে বললো, “সে যতইছলনা করুক আর মায়া কান্না দেখাক, তাকে ডিভোর্সনিতেই হবে।”আমাদের বিবাহবিচ্ছেদের উদ্দেশ্য স্পস্টভাবে প্রকাহওয়ার পর থেকে আমার স্ত্রি এবং আমার মধ্যে আরকোন শরীরী যোগাযোগ ছিল না।

যাই হোক, যেদিনআমি প্রথম তাকে কোলে তুললাম, তখন আমরা দুজনেইখুব বিব্রতবোধ করছিলাম। আমাদের ছেলেটা পেছনথেকে তালি বাজাচ্ছিল আর বলছিল, “আব্বুআম্মুকে কোলে তুলেছে, কি মজা কি মজা।” ছেলেটারকথা শুনে কেন জেন আমার খারাপ লাগতে শুরু করলো।শোবার ঘর থেকে ড্রইংরুম, ড্রইংরুম থেকে বাইরেরদরজা পর্যন্ত আমি ওকে কোলে করে নিয় গেলাম।সে তার চোখ বন্ধ করলো এবং ফিস ফিস করে বললো,“আমাদের ছেলেটাকে আমাদের ডিভোর্সের কথাটাকখনওজানতে দিওনা।”

আমি ওকেদরজারবাইরে নামিয়ে দিলাম। সে তার কাজে চলে গেল, আরআমি অফিসে চলে গেলাম।দ্বিতীয় দিন, আমরা দুজনেই খুব স্বাভাবিকআচরনকরলাম। সে আমার বুকে মাথা রাখলো। আমি তার চুলেরগন্ধ পাচ্ছিলাম।আমার মনে হল, আমি কতদিন এইমানুষটাকে একটু ভালোভাবে দেখিনি, বুঝারচেষ্টা করিনি। দেখলাম, ওর কত বয়স হয়ে গেছে।চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে গেছে…

চুলে কাঁচাপাকা রঙধরেছে। কিছু মুহূর্তের জন্য মনে হল আমি তারসাথে কি করেছি।চতুর্থ দিন, যখন আমি তাকে কোলে তুললাম, তখনবুঝতে পারলাম আবার আমাদের অন্তরঙ্গতা ফিরেআসছে।এটাই সেই মানুষ,যে তার জীবনের ১০ টা বছর আমারসাথে পার করেছে। পঞ্চম এবং ষষ্ঠ দিন আমারআবারো মনে হল যে, আমাদের সম্পর্কটা আবারবেড়ে উঠছে। আমি এসব বিষয়ে ফারহানাকে কিছুইবলিনি।যতই দিন যাচ্ছিল, ততই খুব সহজে আমি আমারস্ত্রিকে কোলে তুলতে পারতাম।

সম্ভবত, প্রতিদিনকোলে নিতে নিতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। একদিনসকালে বাইরে যাওয়ার জন্য সে পছন্দের কাপড়খুঁজছিল। প্রায় অনেকগুলো কাপড় সে পরে দেখল,কিন্তু একটাও তার ভালো লাগছিলো না। সে স্থিরহয়ে বসলো এবং দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বললও, “আমারসব গুলো কাপড় ঢিলে হয়ে গেছে…।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com