রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

এ কেমন অবিচার

এ কেমন অবিচার

এ কেমন অবিচার

সন্তুষ্ট (Satisfied) করা বা হওয়া এবং সন্তোষ (Satisfaction) প্রকাশ করা হতে পারে অর্থে, শর্তে বা ভালোবাসাতে। অর্থ আছে ভালোবাসা নেই। ভালোবাসা আছে অর্থ নেই। অর্থ আছে শর্ত নেই। অর্থ নেই, ভালোবাসা নেই, তবে শর্ত আছে। অর্থ নেই, তবে শর্ত এবং ভালোবাসা আছে। অর্থ নেই, শর্ত নেই, শুধু ভালোবাসা আছে। অর্থ আছে, ভালোবাসা আছে শর্ত নেই।

যখন সঙ্গী ও সঙ্গিনীর দুটি ভিন্ন মন এক ও অভিন্ন হয়ে সন্তুষ্ট এবং সন্তোষে পরিণত হয় ঠিক তখন যে বন্ধন ঘটে সেটাই জীবন। এমন একটি সুখি জীবনের সন্ধানে আমরা সবাই। কিন্তু কেউ এ জীবন খুঁজে পাই, কেউ পাই না। কেউ সুখি হয়, কেউ হয় না।

ভালোবাসার এ জীবন খুঁজতে পৃথিবীর নানা দেশে নানা সিস্টেম বা পদ্ধতি রয়েছে। বিবাহবন্ধন বা লিভিং টুগেদার হতে পারে আকস্মিক ঘটনা বা সাজানো গোছানো এবং শুরু থেকে শেষ একটি প্রসেস ওরিয়েন্টেড। বলতে পারি শুরু থেকে পরিচয়, পরে হয় মন বিনিময় এবং শেষে কোনো এক শুভলগ্নে হয় শুভ পরিণয়। সব কিছু প্রসেস ওরিয়েন্টড ওয়েতে হওয়া সত্বেও অনেক সময় এ ভালোবাসার সেতুর ভাঙ্গন ধরে।

এ ভাঙ্গা সেতু কেউ মেরামত করে, কেউ নতুন করে গড়ে, কেউ সেতু ছেড়ে নতুন সেতু খোঁজে, কেউ তার বাকি জীবন কাটিয়ে দেয় এবং যেমন আছে তেমন থাকে।

পরে মেনে নেয় ‘ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন’। সময় স্থির নয়, জীবন স্থির নয়, চাহিদা স্থির নয়, মন স্থির নয়। তারমানে সব কিছুরই রয়েছে পরিবর্তন। ভালোবাসার পরিবর্তন এবং কিভাবে তাকে অ্যাডজাস্ট এবং ম্যানেজ করে সন্তোষ এবং সন্তুষ্ট হওয়া যায় সেটাই মানবজাতির চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জে রয়েছে হতাশা, আশা ও ভরসা। তাই জীবন থেমে নেই, জীবন চলছে, জীবন চলবে। আজ তুলে ধরবো একজন মানুষের জীবন যে জীবনে ছিল, প্রেম, প্রীতি, রীতিনীতি, অর্থ এবং শর্ত।

সব ছিল এবং আছে, শুধু নেই আজ তার এক হাত। মাগুরা জেলা, নহাটা ইউনিয়নে, বেজড়া গ্রামের দিনমজুর মাছুদ বিশ্বাস কয়েক মাস ধরে আক্রান্ত হয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা। এ অবস্হায় ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষা, সর্বশেষে এনজিওগ্রাম করলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার হাতের ঐ অংশ কেটে ফেলতে হবে এবং হার্টে একটি রিং বসাতে হবে। সহায় সম্বলহীন দিনমজুর মাসুদের চিকিৎসার জন্য নিজের সামর্থের সবটুকু শেষ করে আজ তিনি নি:স্ব।

বয়স ৫০ প্লাস, বিবাহিত, ৫ সন্তানের বাবা এবং পেশায় নানা কর্মের কর্মী। কঠিন হলেও ভালোবাসার কুটিরে তার রয়েছে এক সুখের ঘর। অর্থের সন্ধানে ইছামতির বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ ঘটে তার ডান হাতের এই পরিণতি। ডাক্তার বলেছেন দু-একদিনের মধ্যে তার হাত একেবারে গোড়া থেকে কাটতে হবে৷ আর যেহেতু হাতে রক্ত চলাচল হচ্ছে না সেজন্য হাত কাটার পরে ঘা শুকাবে না, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছে যে হাত কাটতে প্রায় এক দেড় লক্ষ টাকার মতো খরচ হবে।

অনেকের সাহায্য সহযোগিতায় আজ এ পর্যন্ত। তার পরবর্তী চিকিৎসা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল এবং হৃদরোগ হাসপাতালে চলমান রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে লেখা লেখি করছে এবং সব ধরণের সাহয্যের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই এলাকার একজন জনদরদী মহম্মদ রাকিব মিয়া এবং আমাকে বিষয়টি অবগতি করেছে। আমার এক বন্ধু ডা. শরিফ আহম্মেদ মানবতার ডাকে সাড়া দিয়েছেন আরো অনেকের মত। শুরু করেছিলাম জীবন এবং ভালোবাসা দিয়ে, শেষ করতে গিয়ে এসে গেল জীবন থেকে নেয়া মানবতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

এক ভালোবাসা, বেঁচে থাকার ভালোবাসা। পরিবারের, সমাজের এবং দেশের করুণার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার ভালোবাসা! কিভাবে বা কেমন করে রক্ষা করা সম্ভব এমন একটি করুণ ভালোবাসাকে? যে একদিন পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে ভালোবাসার জীবন গড়ে তুলেছিলো। আজ সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে গেল। কে নেবে তার দায়িত্ব এখন? পরিবার, সমাজ নাকি দেশ? গণতন্ত্রের দেশে তো এটাই স্বাভাবিক যে সরকার সাধারণত নিয়ে থাকে এসব লোকের দায়ভার। আমার প্রশ্ন, আমরা কি সেই গণতন্ত্রের দেশে বাস করছি, নাকি হৃদয়হীন এবং অমানবিক এক গণতন্ত্রে বাস করছি?

কে দেখবে এখন এই মাছুদ বিশ্বাসকে? কে নেবে তার দায়িত্ব? কোথায় এখন বাংলাদেশ? আমি সেই সোনার বাংলাকে খুঁজছি এখন। স্বাধীনতার মাসে সোনার বাংলায় কি তার জায়গা হবে নাকি সে সমাজের থেকে দূরে বহুদূরে সরে যাবে? আছে কি একটু সহানুভূতি? আছে কি একটু ভালোবাসা সোনার বাংলায় তার দাঁয়ভার নেবার মতো কেউ? সোনার বাংলায় সরকার আছে, মানুষ আছে, চিকিৎসা আছে, আছে ভালোবাসা, আছে জীবন, আছে সন্তুষ্ট এবং সন্তোষ। এখন দেখতে চাই মাছুদ বিশ্বাসের জীবনে সোনার বাংলাকে। দেখতে চাই দেশ ও জাতির সমন্বয়। একই সঙ্গে সরকারের আশুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি মাছুদ বিশ্বাসের এই দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com