বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

সাবেক এমপি রানার জামিন

সাবেক এমপি রানার জামিন

সাবেক এমপি রানার জামিন

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তবে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় সম্প্রতি হাইকোর্টের দেয়া জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় রানাকে জামিন আদেশ দেন।

হাইকোর্টে রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চেৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) আমানুর রহমান রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে যাবে।

এদিকে টাঙ্গাইলে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যার মামলায় গত ৬ মার্চ রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বৃহস্পতিবার চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ।

কয়েক দফা চষ্টোর পর ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ফারুক হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন রানা। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ।

এরপর ওই বছরের ১৯ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামিনের এ স্থগিতাদেশ চলমান রেখে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ৪ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

পরে নতুন করে বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করেন রানা। বিচারিক আদালতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ফারুক হত্যা মামলায় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তত্কালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০, ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

অন্য মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৩ সালে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন।

পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই ঘটনায় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত করে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে পুলিশ।

পরে এ মামলায় গ্রেফতার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরন মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানার নাম আসে। গ্রেফতার আসামিরা আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, রানার নির্দেশেই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com