মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

আমরা অনেকেই নিপীড়নের শিকার হয়েছি: সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ

আমরা অনেকেই নিপীড়নের শিকার হয়েছি: সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ

আমরা অনেকেই নিপীড়নের শিকার হয়েছি: সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় সারাদেশ।

এমন নিষ্ঠুর, বর্বর, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার করতে দাবি জানাচ্ছে দেশবাসী।

রিমান্ডে রয়েছেন ঘটনার মূল আসামি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা।

এদিকে এমন নিষ্ঠুর, বর্বর, হত্যাকাণ্ডের পর শোক প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয়রা।

একে একে বেরিয়ে আসছে সিরাজউদ্দৌলার অপকর্মের ইতিহাস। অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের কথা জানা গেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রভাবে এতোদিন মুখ বন্ধ রেখেছিল ভুক্তোভোগীসহ স্থানীয়রা।

এবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ সিরাজ যে শুধু নুসরাতের সঙ্গে এমন করেছেন তা নয়, বিভিন্ন সময় আমরা অনেকে তার থেকে নিপীড়নের শিকার হয়েছি।

মাদ্রাসার ছাত্রীদের হেনস্তা করাই তার অভ্যাস ছিল বলে জানান নুসরাতের এক সহপাঠী।

ছাত্রীদের অভিযোগ, বেপরোয়া ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন তিনি।

তারা জানান, যে কোনো সমস্যায় তার কক্ষে কেবল একজন শিক্ষার্থীর প্রবেশের নিয়ম ছিল। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতেন তিনি। নুসরাতের বেলায়ও এই সুযোগটা নিয়েছিলেন তিনি।

এ জন্য মাদ্রাসা কমিটিকে দায়ী করছেন ছাত্রীরা। তারা বলছেন, যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে মাদ্রাসা কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন নুসরাতসহ একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এতে কোনো কাজ হয়নি।

উল্টো সেসব শিক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবক বিপদে পড়েছেন। যে কারণে ভয়ে অনেকে অভিযোগ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও নাসরিন নামের এক শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষ সিরাজ নিপীড়ন করেছেন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার প্রভাসক আবুল কাশেম।

তিনি জানিয়েছিলেন, নুসরাতই প্রথম নয় ২০১৭ সালে সিরাজউদ্দৌলার দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিল ওই মাদ্রাসারই আরেক ছাত্রী নাসরিন।

ভুক্তোভোগীর বাবা তার মেয়েকে হেনস্তা করা হয়েছে দাবি করে অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেয় সিরাজ। মাদ্রাসা কমিটিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রিপোর্ট দাখিল করেনি বলে জানান তিনি। উল্টো ওই নিপীড়িত ছাত্রীর পক্ষ নেয়ায় তিনিসহ আরও দুই শিক্ষককে শোকজ নোটিস দেন অধ্যক্ষ সিরাজ।

নুসরাত হত্যার পর মাদ্রাসার প্রভাসক ও শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ ব্যর্থ জানিয়ে তা বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহেদুজজামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, গভর্নিং বডি নিয়ে যে কথা উঠছে, যদি তাদের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে সেটা আমরা দেখব।

এ বিষয়ে প্রশাসন তদন্তে নেমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দায়ী হলে মাদ্রাসা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।

শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

0

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com