মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

নুসরাত হত্যা: ওসি মোয়াজ্জেমের যত কুকীর্তি

নুসরাত হত্যা: ওসি মোয়াজ্জেমের যত কুকীর্তি

নুসরাত হত্যা: ওসি মোয়াজ্জেমের যত কুকীর্তি

গত ৯ মে সাময়িক বরখাস্ত হন সোনাগাজীর সেই নিন্দিত ও বিতর্কিত সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নুসরাত হত্যার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও ফুটেজ। যেখানে দেখা গেছে, থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওসি মোয়াজ্জেমের সামনে আতংকিত অবস্থায় কথা বলছেন নুসরাত জাহান রাফি।

রাফির এসব আকুতির কোনোটিই আমলে না নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম উল্টো তার ভিডিও ধারণ করে তাকে হয়রানি করছেন।

এ ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে।

এরপর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে ওসি মোয়াজ্জেমের একের পর এক কুকীর্তির ঘটনা।

জানা গেছে, ওসি পদে যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই টাকার পেছনে ছুটেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এর জন্য দায়িত্বে অবহেলাসহ নিজের মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতেও দ্বিধাবোধ করেননি তিনি।

তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষকে হয়রানির অভিযোগ। সোনাগাজীতে এসেও একই বদঅভ্যাসের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় ওসি পদে যোগ দেন মোয়াজ্জেম। সেখানে ব্যাপক ধড়পাকড় ও টাকা নিয়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার ওপর। এমন অভিযোগের পর তাকে কুমিল্লা জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের কুমিল্লা (উত্তর) জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোয়াজ্জেম হোসেনকে মুরাদনগর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর কিছুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন তদবির করে মুরাদনগর উপজেলার নতুন থানা ভাঙ্গুরা বাজার থানায় ওসি পদে যোগদান করেন। সেখানে গিয়ে তিনি তার সেই অসৎ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরায় সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

এভাবে ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরার আকুপুর ইউনিয়নের বলিগড় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ৬৪টি মিথ্যা মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুরায় মোয়াজ্জেম দায়িত্বে থাকাকালীন এক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক হন এক স্থানীয় প্রভাবশালী। কিন্তু পরে সেই প্রভাবশালীকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ, মোয়াজ্জেম মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কেসটি রফাদফা করেন।

এরপর ঘটনাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। উচ্চ আদালত ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরা থানা থেকে সরিয়ে নিয়ে ফের ফেনী জেলার একটি থানায় ওসির দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের এমন মহান, পবিত্র পেশায় বারবার এতোসব কুকীর্তি করে কীভাবে বহাল তবিয়তে টিকেছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম?

এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোয়াজ্জেম নিজেকে বরাবরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার ভাগ্নে বলে পরিচয় দিতেন ও কার্যসিদ্ধি করতেন।

যে কারণে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন পুলিশ লাইনসে গিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক তদবিরের মাধ্যমে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ফেনীর সোনাগাজী থানায় সর্বশেষ পোস্টিং নেন।

এখানে এসেই অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হলেও তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মত দিয়েছেন, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের যে ধারায় মামলা হয়েছে সে হিসাবে তাকে কোনোভাবেই সংযুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।

তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো উচিত বলে মনে করছেন তারা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com