রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

সাবেক স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিল স্বামী!

সাবেক স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিল স্বামী!

সাবেক স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিল স্বামী!

বরগুনার আমতলীর সোনাউটা গ্রামের কিশোরী কন্যা মারিয়ার (ছদ্মনাম) বিয়ের পরে দৈহিক মিলনের সময় কিছু পর্নো চিত্র তুলে রাখে মাদকাসক্ত স্বামী বেল্লাল হাওলাদার। বিয়ের পরে মারিয়া জানতে পারে তার স্বামী একজন মাদকসেবী ও প্রতারক। পরে স্বামী বেল্লালকে তালাক দিয়ে দেয় মারিয়া।

তালাক দেয়ার পর পর্নো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে বেল্লাল হোসেন ও তার সহযোগী চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেন। এ অভিযোগে বুধবার রাতে মামলার পর আমতলী থানার পুলিশ স্বামী বেল্লাল হোসেন ও অভিযুক্ত তার চাচাত ভাই মাসুদকে গ্রেফতার করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের কুরিন্দা পাড়া গ্রামের মো. ফারুক হাওলাদারের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেনের সাথে আমতলী উপজেলার সোনাউটা গ্রামের মো: জহিরুল ইসলামের মেয়ে মারিয়ার সাথে ৬ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে মারিয়া জানতে পারে তার স্বামী বেল্লাল হাওলাদার একজন মাদকাসক্ত এবং প্রতারক। নেশা করার জন্য বেল্লাল প্রায়ই স্ত্রী মারিয়ার নিকট টাকা দাবী করে। অসহায় মারিয়া টাকা দিতে না পারলেই স্বামী বেল্লাল তাকে মারধর করত।

মারিয়া তার স্বামীর মারধর সইতে না পেরে গত ২০ মার্চ বেল্লাকে তালাক দেয় সে। তালাকের ৩-৪ দিন পর বেল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগী চাচাত ভাই মো: মাসুদ এর মাধ্যমে মারিয়ার বাবা মো: জহিরুরুল ইসলামের নিকট মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে মারিয়ার বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রীর একান্তে তোলা পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

কিন্ত মারিয়ার দরিদ্র বাবা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে না পারায় বেল্লাল এবং তার চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেন এর সহযোগিতায় বিয়ের পরে একান্তে তোলা মারিয়ার নগ্ন ছবি ‘এ্যানজেল মারিয়া’ নামের একটি ফেক আইডি খুলে পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এঘটনায় এলাকাসহ বিভিন্ন মানুষের মধ্যে তোলপার শুরু হলে মারিয়ার বাবা মো. জহিরুল ইসলাম বুধবার রাতে আমতলী থানায় পর্নো গ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮ (২) ধরায় মারিয়ার সাবেক স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন ও তার চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেনকে আসমামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই আসামীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এসআই মো: সহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত বেল্লাল ও মাসুদ এর নিকট থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল বাশার জানান, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com