রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের

ইসরাইল ও সৌদি আরব যতই ফুসলাক-কানপড়া দিক কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।

গত বছরই প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া এক বিলের মাধ্যমে ট্রাম্পের একক সদ্ধিানে্ত যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা বাতিল করা হয়।

বিলটির কারণেই কোনো যুদ্ধ ঘোষণার জন্য অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পর ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন-২০১৯’র অংশ হিসেবে বিলটি পাস হয়।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সে কথা ফের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর ন্যান্সি পেলোসি। খবর সিএনএনের।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষে সিরিয়া থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু ইরান ক্রমেই ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি’ হয়ে উঠছে দাবি করে ‘যুদ্ধবাজ’খ্যাত জাতীয় নিরাপত্তা উপদষ্টো জন বোল্টন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক এফবিআই প্রধান মাইক পম্পেওসহ পেন্টাগন কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে তাকে অবিরাম কানপড়া দিয়ে যাচ্ছেন।

কুশীলবদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

বাহরাইন ও আরব আমিরাতও নিজেদের শিয়া সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে ইরানের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট।

তড়িঘড়ি করে যুদ্ধে যাওয়ার যে কথাবার্তা চলছে, তাতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প নিজেও।

এক টুইটে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান প্রশ্নে তার প্রশাসনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেই। তবে কী করা হবে, সে প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।

এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সদ্ধিান্ত তিনিই নেবেন। বোল্টনের মতো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তায় অসন্তুষ্ট মার্কিন রিপাবলিকান নেতারা। একইভাবে বিরোধী ডেমোক্রেট শিবিরেও।

পেন্টাগনের যুদ্ধপরিকল্পনা তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর রিপাবলিকান নেতারা খোলামেলাভাবেই এ যুদ্ধ মহড়ার কোনো যেৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

যুদ্ধের ব্যাপারে কোনো সদ্ধিান্ত গ্রহণের আগে এ প্রশ্নে কংগ্রেসের সম্মতি নিতে হবে- এমন দাবি রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় পার্টির নেতারাই তুলেছেন।

ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা বলছেন, যুদ্ধের সুর নরম করে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল উন্মুক্ত করতে হবে।

যদি কোনো ধরনের যুদ্ধের পরিকল্পনা থাকে তা কংগ্রেসের সামনে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ক্ষোভের সুরে বলেছেন, ‘কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণার একচুল অধিকার নেই হোয়াইট হাউসের।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com