মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন অসহায় বাবা!

লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন অসহায় বাবা!

লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন অসহায় বাবা!

দুই মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন পেশায় পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী বাবা। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের নিয়ে লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে যান তিনি। সেখানে ছোট মেয়ে লিচু খেতে চাইলে হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা কিনে দিতে পারেননি অসহায় ওই বাবা।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঠিক মতো মেয়েদের ভরণ-পোষণই করতে পারেন না ওই বাবা। তার ওপর সামনে আবার ঈদ। সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার মতো কোনো টাকাও তার কাছে নেই। এসব ভেবেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপরই দুই মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শফিকুল ইসলাম নামের ওই বাবা।

গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা দুই শিশুর নাম তাইন (১১) ও তাইবা (৪)।

আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে নিহতদের পিতা শফিকুল ইসলাম।

আজ শনিবার (২৫ মে) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ (বিপিএম)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ (বিপিএম) জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালের শৌচালয় থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে নিহতের পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত শফিকুল ইসলাম হত্যার কথা স্কীকার করেছেন।

পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে শিবপুর নিয়ে আসেন পিতা শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় সে তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার ছোট মেয়ে তার কাছে লিচু খেতে চান। কিন্তু তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিলনা। তার উপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত শূন্য হয়ে যায়।

পরে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের শৌচালয়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। সে একেক বার একক রকম কথা বলছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা দায়ের করেনি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে তিনি জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com