মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমিক ধরা, তুলকালাম কাণ্ড

গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমিক ধরা, তুলকালাম কাণ্ড

গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমিক ধরা, তুলকালাম কাণ্ড

রাজশাহীর পুঠিয়ায় গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার নামে অনৈতিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে গণপিটুনীর শিকার হয়েছে প্রেমিক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশকেও অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত গ্রামবাসী।

সোমবার (২৭ মে) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রেমিক ও তার বন্ধুদের আটকের ঘটনার জের ধরে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে।

মেয়েটি পুলিশকে জানিয়েছে, দেখা করতে এসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হায়দার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এ সময় তার দুই বন্ধু পাশের বাজারে অপেক্ষায় ছিল। তবে ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা হায়দারসহ তার দুই বন্ধুকে আটকে গণপিটুনী দেয়। এক পর্যায়ে প্রেমিক হায়দারের এক পায়ে লোহার রডও ঢুকিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তারা অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিতে যেতে চাইলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। তারা পুলিশকে জানায়, সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিচার হবে। এ নিয়ে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে মসজিদের মাইক থেকে পুলিশকে প্রতিহত করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত গ্রামের লোকজন পুলিশের গাড়ির হাওয়া ছেড়ে দিয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। গ্রামবাসী থানার নারী পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিতও করে। এ সময় পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে ভোরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এক এক করে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হায়দার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই উপজেলার হারুগাতি গ্রামের অধিবাসী ও সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর। গতকাল রবিবার রাত ১২টার দিকে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে হারুগাতি গ্রামে যায় হায়দার। এ সময় দুই বন্ধু নাদিম মোস্তফা ও রবিন হোসেনও তার সঙ্গে ছিল

তিনি আরও জানান, আহত হায়দারকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুঠিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও একটি মামলা দায়ের করা হবে। ওই মামলায় অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চালানো হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com