মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০১৯, ০১:১৪ অপরাহ্ন

যেভাবে চিনবেন পুরুষের যৌনবাহিত রোগ

যেভাবে চিনবেন পুরুষের যৌনবাহিত রোগ

যেভাবে চিনবেন পুরুষের যৌনবাহিত রোগ

গনোরিয়া রোগ নারী-পুরুষ উভয়ের হতে পারে। সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু নারী ও পুরুষের মেলামেশার কারণেই এ রোগ ছড়ায়। গনোরিয়া যৌনবাহিত রোগ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রনালি দিয়ে পুজ বের হয়।

সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু নারী ও পুরুষের মেলামেশার কারণেই এ রোগ ছড়ায়।

গনোরিয়া রোগটি ‘নাইসেরিয়া গনোরিয়া’ নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশার ২-১০ দিন পরই এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। পুরুষের যৌনাঙ্গ দিয়ে পুঁজ বের হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এ রোগের উপসর্গ।

প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জীবাণুবাহিত রোগ। এটা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে।

গনোরিয়ার জীবাণু ‘নাইসেরিয়া গনোরিয়া’ দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন মিলনের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে।

যেভাবে ছড়ায়:

পুরুষ-মহিলার অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে ছড়ায়। জীবাণুমুক্ত তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করলেও গনোরিয়া হতে পারে।

গর্ভাবস্থায়:

গনোরিয়ার জীবাণু গর্ভবতী নারীদের জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

নবজাতকের গনোরিয়া:

প্রসবকালে যদি গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয় তবে নবজাতকের চোখ আক্রান্ত হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে ও পরে ঘন পুঁজ ঝরতে থাকে।

উপসর্গ:

গনোরিয়ায় আক্রান্ত মহিলারা সাদা স্রাব নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে গনোরিয়া শনাক্ত করা যায়। এছাড়া মহিলারা প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া, বারবার প্রস্রাব হওয়া, মিলনের পর রক্ত বের হওয়া সমস্যায় ভোগে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তলপেটে ব্যথা বা প্রদাহ। পুরুষদের প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া বা কুট কমে কামড় দেয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বিজল ও ঘন পুঁজ বের হতে পারে।

চিকিৎসা:

চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার বড়ি বা ইনজেকশনের পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানে মলম লাগানোর প্রয়োজন হয়। পরিষ্কার ভেজা তুলা দিয়ে পুঁজ পরিষ্কার করতে হবে ও স্যালাইন পানি দিয়ে ধুতে হবে। খুব সাবধানতার সঙ্গে এ কাজ করতে হবে নতুবা পরিচর্যাকারীরও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com