বুধবার, ১৭ Jul ২০১৯, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

রিফাত হত্যা নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস এমপিপুত্রের

রিফাত হত্যা নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস এমপিপুত্রের

রিফাত হত্যা নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস এমপিপুত্রের

বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে স্ত্রীর সামনেই প্রকাশ্যে খুন হয় রিফাত। আর রিফাত হত্যায় এখন উত্তাল সারা দেশ। রিফাতের হত্যার বিচার দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। রিফাতের কাছের বড়ভাই ছিলেন স্থানীয় এমপি শম্ভু দেবনাথের ছেলে সুনাম দেবনাথ। রিফাতের মৃত্যুতে মুখ খুলেছেন তিনি। জানালেন রিফাতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক। এছাড়া কারাই বা তার খুনি। রিফাতের নৃশংস খুন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুনাম একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো।
রিফাত হত্যা নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস এমপিপুত্রের
”প্রথমেই আমরা স্পষ্ট হবো নাম নিয়ে, কারণ যে মারা গেছে আর যারা মেরেছে তাদের নাম এক হওয়াতে আমরা গুলিয়ে ফেলছি। কাকতালীয়ভাবে দুই জনের বাবার নামও এক। যে ছেলেটিকে হত্যা করা হলো তার নাম রিফাত শরীফ, পিতার নাম দুলাল শরীফ, সাং ৬ নং ইউনিয়ন।আর হত্যাকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নয়ন,এবং তার সহযোগীরা হচ্ছে রিফাত ফরাজী, পিতা দুলাল ফরাজী, সাং বরগুনা ধানসিঁড়ি রোড। এবং রিফাতের ছোট ভাই রিসান ফরাজী, পিতা ও সাং: ওই

এই রিফাত ও রিশানের অন্য একটি পরিচয় রয়েছে, তারা দুজনই সাবেক সাংসদ ও বর্তমান জেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। যারা আদর করে তাকে বাবা বলেই সম্মোধন করে।

রিফাত ও নয়নদের আরও একটি পরিচয় আছে, তারা অত্র এলাকায় এমন কোন ছাত্রাবাস নাই যেখান থেকে ছাত্রদের ল্যাপটপ, মোবাইল, টাকা ইত্যাদি ছিনতাই এবং চুরি করে নিয়ে আসেনাই। এ নিয়ে বহুবার মামলা হয়েছে, বহুবার জেল খেটেছে, কিছুদিন পর আবার ছাড়াও পেয়েছে। তাদের নামে কতোগুলো মামলা রয়েছে তা থানা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

নয়ন (নয়ন বন্ড) সবথেকে বেশি নজরে এসেছে তখন যখন নয়ন একটি বড় ধরনের মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মাদক পুলিশ উদ্ধার করে নয়নের কাছ থেকে। রিফাত ফরাজীর বিভিন্ন অপকর্মের নালিস থানায় দেয়ার পাশাপাশি তার খালু জেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের কাছেও দেয়া হয়েছিল, কিন্তু বারবার নালিশকারিদের সেখান থেকে অপমান, অপদস্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজনার নাম তরিকুল ইসলাম ২০১৭ সালে একবার এই রিফাত আর রিসান ফরাজী সামান্য কথাকাটিতে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছিল, এনিয়ে তরিকুলের বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলাও করেছিলো। বিচার নিয়ে গিয়েছিলো তার খালু দেলোয়ার হোসেনের কাছে। কিন্তু অপমান হয়ে ফিরতে হয় তাদের। এর পরে ভয়ে সে তার ছেলেকে বরিশালে পড়ালেখা করতে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে তরিকুল বরিশালে পড়ালেখা করছে।

আর একজন ভুক্তভোগী হচ্ছেন বরগুনা পৌরসভার একজন কাউন্সিলর, নান্না কমিশনার। তার বাসায় কিছু ছাত্ররা ভাড়া থাকে, সেখান থেকে এই রিফাত ফরাজী ৫টা মোবাইল ছিনতাই করে, এবং তার প্রতিবাদ করায় এই রিফাত ফরাজী তার সামনে রামদা নিয়ে আসে। নান্না কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের একজন প্রধান কর্মী হওয়াতে তারকাছে নালিস দিলে, তাকেও সেখান থেকে অপমান হয়ে আসতে হয়। এবং এরকম ঘটনা রিফাত করতেই পারেনা বলে তাকে সেখান থেকে অপমান করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ডিকেপি রোডের ডা. আলাউদ্দিন এর ভাড়া বাসায় কিছু ছাত্ররা ভাড়া থাকতো সেখান থেকে এই রিফাত প্রায় ২০টি মোবাইল ও ল্যাপটপ ছিনতাই করে নিয়ে আসে, পরে তখনকার ওসি রিয়াজের হস্তক্ষেপে রিফাত ফরাজীর বাবাকে থানায় এনে সেই সকল মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় তারা অন্যান্য ছাত্রাবাস থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ ছিনতাই করে নিয়ে আসতো।

এরকম আরও অনেক ঘটনা আছে, যা বলে শেষ করা যাবেনা।

যে ছেলেটির ঘটনা প্রথমেই বলেছি (তারিকুলের) সে বর্তমান ঘটনার প্রেক্ষিতে ফেসবুকে লিখেছে “২০১৭ তে আমার ঘটনার বিচার হলে আজ রিফাতের প্রাণ হারাতে হতো না”। লেখাটি কতোটা গুরুত্ববহন করে তা এখন আমরা বুঝতে পারছি।

রিফাত শরিফ আমাদের খুব কাছের ছোট ভাই ও কর্মী ছিল, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সাথে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা করেছে। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে, রিফাতের মৃত্যু সংবাদে। তবে এ খুনের পেছনে আরো অনেক রহস্য আছে। বিভিন্ন খবর ও মিডিয়াতে যাকে এখন হিরো বানানো হচ্ছে মূল ভিলেন সে নিজেও হতে পারে, রিফাত শরিফের বন্ধুদের থেকে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে এটাই বুঝা যায়। আর একটু সময় পার হলে হয়ত আরও ক্লিয়ার হওয়া যাবে।

কারোর অত্মীয় হওয়া কোন অপরাধ না। তবে পূর্বের ঘটনা গুলোর সঠিক বিচার হলে কিংবা ঠিকঠাক শাসন করা হলে আজ রিফাত শরিফকে মরতে হতো না।”

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com