বুধবার, ১৭ Jul ২০১৯, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেলেন এতিম দুই মেয়ে

ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেলেন এতিম দুই মেয়ে

ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেলেন এতিম দুই মেয়ে

ঘুষ ছাড়াই মাত্র ২০৬ টাকায় এতিম দুই মেয়ের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে। এতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারে। এতিম লতা খাতুন ও প্রিয়া খাতুন ছোটবেলা থেকেই শিশু পরিবারের সদস্য। মেধার ভিত্তিতে তাদের পুলিশে চাকরির মধ্য দিয়ে তারা একটি নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পেলেন।

জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির আবেদন করতে ১০৩ টাকা ফি জমা দিতে হয়। কোনো ধরনের ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এতে উদ্বুদ্ধ হয়েই এই দুই এতিম মেয়ে গত ২৪ জুন মেহেরপুর পুলিশ লাইন্সে বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন। গত কয়েক দিন বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে জেলার দুই এতিমসহ ১৮ নারী ও পুরুষ পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তাদের পরিবারে।

মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারে বাবার স্নেহে এতিম মেয়েদের মানুষ করছেন প্রধান শিক্ষক তন্ময় কুমার সাহা। শুক্রবার পুলিশ লাইন্সে চাকরিপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সেখানে দুই মেয়ে লতা ও প্রিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন তন্ময় কুমার সাহা।

 

 

তাদের চাকরি হওয়ায় আবেগাপ্লুত তন্ময় কুমার সাহা বলেন, `আমার এখানে ৯০ জন এতিম কন্যাশিশু রয়েছে। এ বছর লতা ও প্রিয়া এসএসসি পাস করেছে। তাদের নিয়ে আমার চিন্তার সীমা ছিল না। সরকারি নিয়মানুযায়ী এসএসসির পরে তাদের বিদায় দিতে হবে। তাই এই চাকরির মধ্য দিয়ে আমার মেয়ে দুটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়েছে।’

চাকরিপ্রাপ্ত প্রিয়া খাতুনের বাড়ি মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যান।

প্রিয়া বলেন, ‘আমি অনেক অনেক গর্বিত। কেননা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে আমি চাকরি পেয়েছি। একই কথা বলেন লতা খাতুনও।’

প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে তারা বলেন, তন্ময় কুমার সাহা আমাদের বাবা-মায়ের স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন। পুলিশ লাইন্সে আসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড়সহ সব সময় তিনি আমাদের চোখে চোখে রেখেছিলেন। এটি কিন্তু তার সরকারি দায়িত্ব নয়। বাবার মতোই দায়িত্ব পালন করে তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠিত করলেন।

চাকরির বিষয়ে তারা বলেন, ঘুষ ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে তা আমাদের বিশ্বাসই ছিল না। আমাদের মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে। এটি ভাবতেই গর্ববোধ হচ্ছে। চাকরিতে দায়িত্ব পালন করার সময় মানুষের ভালোর জন্যই সব কিছু করতে চাই। তাছাড়া আমাদের বাবা (প্রধান শিক্ষক) ও শিশু পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও কিছু একটা করতে চাই।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে পুলিশে নিয়োগের বিষয়ে বড় ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সবার মুখে মুখে ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশের পুলিশ সুপাররা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিনা পয়সায় কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগের ঘোষণা দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি জনমনে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মেহেরপুর জেলায় ১৮ জন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের কোনো অভিযোগ না থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ বিষয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় কি-না তা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া আমরা বাস্তবায়ন করেছি। এখন থেকে যোগ্য ও মেধাবীরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com