বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

ছাত্রীদের পর্নোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ফাঁদে ফেলত সেই হুজুর

ছাত্রীদের পর্নোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ফাঁদে ফেলত সেই হুজুর

ছাত্রীদের পর্নোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ফাঁদে ফেলত সেই হুজুর

পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি থেকেই মাদ্রাসার ১২ কোমলমতি ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সেই মাদ্রাসা শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাউসার কাউছার আলমের আদালত এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার অধ্যক্ষ আল আমিন নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি করে ঘটনার বর্ণনা দেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ডের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় রোববার (১৪ জুলাই) আরও ১০ দিনের রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ আল আমিন নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসার মুহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম জানান, গত এক বছর যাবত সে মোবাইল ফোনে পর্নো ভিডিও দেখা শুরু করে। এরপর থেকেই তার মনে কুচিন্তার উদ্রেক হয়। পরে সে তার কক্ষে পছন্দের ছাত্রীদের বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে নিত। এরপর রুমে নিয়ে তাদের কাউকে ধর্ষণ করত, আবার কারও স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিত। এভাবে সে মাদ্রাসার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এসব ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এছাড়াও সে আরও গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তুলে সেই ছবির মাথা কেটে অন্য দেহে পর্নোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করতেন আল আমিন। আর এসব ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে ওই স্কুলের ২০ ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সেই সংবাদ র‌্যাব-১১ এর এক কর্মকর্তা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। সেই ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে দেখছিলেন আল আমিনের মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মা। ওই সময় পাশে থাকা ছাত্রী তার মাকে উদ্দেশ করে বলে, স্কুলের ওই স্যারকে র‌্যাব ধরলে আমাদের হুজুরকে কেন ধরে না? এরপর ওই ছাত্রীর মা ঘটনার বিশদ জেনে তা র‌্যাব-১১-কে অবহিত করেন। র‌্যাব তদন্ত শেষে গত ৪ জুলাই সকালে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় অবস্থিত ওই মাদ্রাসা থেকে আল আমিনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম। এ সময় তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমানের পর্নোগ্রাফি ভিডিও উদ্ধার করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com