বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

কাজ করছে না মশার ওষুধ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

কাজ করছে না মশার ওষুধ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

কাজ করছে না মশার ওষুধ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে ডেঙ্গু। রোগের প্রাদুর্ভাব এবার অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিস্তার গত বছরের এ সময়ের তুলনায় সাত গুণ বেশি। বাংলাদেশে গত ১২ দিনে মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন আক্রান্ত রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এমন কি মশা মারতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করছে। তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) পৃথক দুটি গবেষণায় দেখা গেছে এই ওষুধে মশা মরছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে। ১২টি সরকারি ও আধা সরকারি এবং ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে তথ্য নিয়ে তারা তালিকা তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রণকক্ষের তালিকায় দেখা যায়, গতকাল বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ হাজার ৫৯ জন। প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও অনেকেই হাসপাতালে আসেন না, অনেকেই চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে যান বা ফার্মেসি থেকে পরামর্শ ও ওষুধ কিনে খান। এতে করে আনেক রোগি হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত ও সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব না হলে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ২০ জনের মৃত্যুঝুঁকি থাকে। তবে দ্রুত শনাক্ত ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি ১ ভাগেরও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।

এদিকে দেশে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে সব ধরনের মশা। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসেছে আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায়।

সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক যৌথ বৈঠকে এ গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-সিডিসির অর্থায়নে রাজধানী ঢাকা শহরে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

মশক সুপারভাইজার এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটা ওয়ার্ডকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেই সুবাদে চারদিন পর পর ওষুধ দেয়া হয়, এতে সপ্তাহে দুবার হয়ে যায়। এই ওষুধের ক্ষমতা কত দিন থাকে জানতে চাইলে তিনি এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি তিনি। কিন্তু ফোন করে অভিযোগ করতে হয় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় জরুরি কোন কাজ থাকার কারণে মিসিং হয়ে যায়, যখন ফোন করা হয় তখন ওই এলাকায় ওষুধ দেয়া হয়।

রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার বসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, এখন মশা অনেক বেড়ে গেছে। আবার ডেঙ্গু রোগের যেই মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে এতে আমরা উদ্বিগ্ন। এই এলাকায় মশার ওষুধ তেমন একটা ছিটাতে দেখি না। সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে এই এলাকায় যাতে নিয়মিত ভাবে ওষুধ ছিটানো হয়।

ঢাকা নিউমার্কেট এলকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দিনের বেলায়ও মশার কামড়ের জন্য বসতে পারি না। এতে করে বোঝা যায় রাতের বেলাতে কি পরিমানে সমস্যা হয়। নিয়মিত মশার ওষুধ না ছিটানোর কারণেই এতো মশার উৎপাত বেড়েছে। এখন যেভাবে ডেঙ্গু রোগ ছড়াচ্ছে এর জন্য অনেক শঙ্কায় আছি। সিটি কর্পোরেশন যদি তৎপর হয়, তাহলে মশা কমবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমি অনেকদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলাম। এ রোগ কতটা কষ্টের তা আমি নিজেই জানি। এখন পর্যন্ত বসে নামাজ পড়তে পারি না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ব্যাথা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অনেক সমস্যার কারণে ওষুধ থাকে না আসতে দেরি হয়। এজন্য ওষুধ সময় মতো ছিটানো যায় না। এজন্য মশার প্রকোপ বেড়ে যায়। এর কারণে আমাদের যেই দায়িত্ব ও কর্তব্য তাতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ইনচার্জ কোহিনুর ইসলাম বলেন, সপ্তাহে দুবার ওষুধ ছিটানো হয়। এই এলাকা থেকে কিছু অভিযোগ যাওয়ার কারণে আজকে এখানে আসা হয়েছে। সপ্তাহে দুবার ওষুধ ছিটানো হলে আবার কেন অভিযোগ করতে হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মশায় হয়তো বেশি কামড়ায়। আবার ডেঙ্গু মশার সিজন একজন্য অভিযোগ করে। আর অভিযোগ করা হলে সেখানে ওষুধ ছিটানো হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সাথে একাধিক বার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয় নি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com