বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

নিরপরাধ মা’কে পিটিয়ে হত্যা, দায় কে নিবে?

নিরপরাধ মা’কে পিটিয়ে হত্যা, দায় কে নিবে?

নিরপরাধ মা’কে পিটিয়ে হত্যা, দায় কে নিবে?

সকাল ৮টা। মা তাসলিমা বেগম রেনু। পারিবারিক কলহে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের মানুষ করার জন্য ছিলেন বন্ধপরিকর। আর তাইতো ছেলেকে স্কুলে ভর্তির জন্য খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন।

হতভাগ্য মা জানতেন না সন্তানদের স্বপ্নপূরর্ণ অধরাই থেকে যাবে তার পক্ষে। তিনি উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলে স্থানীয়দের ছেলেধরা সন্দেহ হয়। এ সময় তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিরপরাধ মা’কে পিটিয়ে হত্যা করার এই দায়িত্ব কে নিবে? সরকার নাকি জনগণ?

সমাজ দায় এড়াতে পারে না: একবিংশ শতাব্দীতে যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ পরে আছে কিভাবে দেশকে আরও উন্নতির দিকে ধাবিত করা যায়। আর সেখানে আমরা পরে আছি ‘পদ্মা সেতুতে মাথা’ দেয়া নিয়ে। আমাদের ঘুনে ধরা এই সমাজ ব্যবস্থায় এখনও অনেক উন্নতি বাকি। দেশের অপকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। এর অন্যতম কারণ হল নৈতিকতার অবক্ষয়, ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব, পারিবারিক শিক্ষা।

আমাদের সমাজে কথা বলা লোকের অভাব নেই, কিন্তু কাজ করা লোকের অভাব। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করি দুর্বলদের প্রতি। উচ্চস্বরে কথা বলি যেখান থেকে প্রতুত্ত্বর পাওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। ধরুন আপনি রিকশা নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন ভাড়া ঠিক না করে। পৌঁছে আপনার ইচ্ছা মতো ভাড়া দিলেন। এতে রিকশাওয়ালার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে গেলেন। টাকা বেশি না দিয়ে আপনি কথায় পার পেয়ে গিয়ে এক পৈশাচিক তৃপ্তির ঢুকুর তুললেন। অথচ এই আপনি নিজের কর্মসিদ্ধির জন্য কোন অফিস থেকে ঘুষ চাইলে সেখানে কোন উচ্চবাচ্চ্য না করে সহজ-সরল মনে তা দিয়ে দিচ্ছেন।

সমাজ ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থেই অনেকটাই অধঃপতন হয়েছে। যেখানে বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা সহ যাবতীয় নৈতিকতা বিলুপ্তির পথে। এজন্য দায়ী আমরা, আমাদের পরিবার। যান্ত্রিক জীবনে আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আর ব্যস্ত সন্তানকে ভাল স্কুলে ভর্তি করাতে। অথচ সন্তানকে কোন প্রকার সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করছি না। তাদের মধ্যে তৈরি করছি না কোন প্রকার নৈতিকতা।

সরকার বা প্রশাসনও এর জন্য দায়ী: বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে গেলে সেখানে মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে দ্বিধা করে না। সঠিক বিচার ব্যবস্থা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে অন্যায় কমে যেত। আইনের প্রয়োগও সঠিকভাবে হলে মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সাহস করতো না।

ছেলে ধরা গুজব সম্পর্কে সরকারকে আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। সমাজের মধ্যে এ সম্পর্কে সচতনেতা বৃদ্ধিতে আরও অনেক পদক্ষেপই নিতে পারতো।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, প্রশাসনের দুর্বলতা, সরকারের অবহেলা সহ নানা কারণে আজ জীবন দিতে হল নিরপরাধ মায়ের। এর দায় আমি আমরা কেউ এড়াতে পারবো না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com