সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

অশ্রুঝরা আগস্ট: ‘ধন্য সেই পুরুষ, যার নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল’

অশ্রুঝরা আগস্ট: ‘ধন্য সেই পুরুষ, যার নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল’

অশ্রুঝরা আগস্ট: ‘ধন্য সেই পুরুষ, যার নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ হারিয়েছে তার স্রষ্টাকে। কিন্তু বাঙালির কাছ থেকে তার পিতাকে আলাদা করতে পারেনি ঘাতকরা।

কোটি কোটি বাঙালি আজও আগস্ট এলেই শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তাদের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মর্মস্পর্শী সেই আগস্টের একাদশ দিন আজ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নির্যাতিত নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখান। শুধু স্বপ্ন নয় সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য পথ নির্দেশনাও দেন রাজনীতির এই কবি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সেই রেসকোর্স ময়দানে বজ কণ্ঠে শোনান তার বাণী- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই জ্বালাময়ী ভাষণ নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে উজ্জীবিত করে। অস্ত্র হাতে তুলে নেয় বাঙালি। ৯ মাস লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে তার ভাষণটি শ্রেষ্ঠ ভাষণের মর্যাদা পেয়েছে।

ওই ভাষণ নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’- নামে একটি কবিতা লিখেছেন। ওই কবিতার কয়েকটি লাইন হল- ‘বছরের শত সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে, অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন। তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সব দুয়ার খোলা-কে রোধে তাহার বজ কণ্ঠ বাণী? গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি : ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

৯ মাস সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। স্বাধীনতার পর বহির্বিশ্বের চাপে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডন হয়ে স্বাধীন দেশে পা রেখেই মাটিতে চুমুখান। কার্যক্রম হাতে নেন যুদ্ধবিধ্বস্ত নতুন দেশ গঠনের। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেন। কর্মসূচি হাতে নেন ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র তাকে বেশি দূর এগুতো দেয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে চক্রান্তকারীরা।

জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সেই আগের প্রতিক্রিয়াশীল ধারায় ঠেলে দেয়া হয়। নির্বাসনে দেয়া হয় স্বাধীনতার চেতনা। দেশ পরিচালিত হতে থাকে পাকিস্তানি ভাবধারায়। এভাবে একুশ বছর চলতে থাকে।

এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার লড়াই সংগ্রাম চলতে থাকে। তার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ফিরিয়ে আনে। এরপর এক মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ।

এ সময়ে বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতার অংশীদার হয় সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত। বাংলাদেশকে আবার সেই পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা হয়। ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে বাংলাদেশে।

কিন্তু বাংলার মানুষ আবার ক্ষমতায় এনেছে আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনাকে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। ঘাতকচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com