সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

পবিত্র হজ পালিত

পবিত্র হজ পালিত

পবিত্র হজ পালিত

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’।

আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।
আরাফাতের ময়দানে শনিবার আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনা নিয়ে এভাবেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন সারা বিশ্ব থেকে সমবেত মুসলমানরা। ময়দানে বা এর পাশের ক্ষমার পাহাড়ে (জাবালে রহমত) অবস্থান নিয়ে খুতবাহ শুনেছেন, তিলাওয়াত-তাসবিহাত পড়েছেন, আদায় করেছেন নামাজ। মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে জানিয়েছেন শত আর্জি। আরাফাতের ময়দানে এ অবস্থান হজের প্রধান ফরজ।

এদিন হজের খুতবায় আহ্বান জানানো হয়েছে শান্তির পথে মুসলমানদের এক থাকার। অনৈক্য থেকে সরে গিয়ে একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে বিশ্ব গড়ার। বিভেদ-হানাহানি ভুলে এক হয়ে পথ চলার। খুতবায় মুসলিমবিশ্বের কল্যাণ কামনা করা হয়।

এর আগে সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শেখ মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তুম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর সবই একজন মুসলমানকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যার শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাকে অবশ্যই হজ পালন করতে হবে। রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, আঞ্চলিক বিভাজন বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, শুধু আল্লাহর জন্যই জীবনের প্রতিক্ষেত্রে ইসলাম পরিপালন করতে হবে, হজ পালন করতে হবে।

আরাফাতের ময়দানে সমবেত মুসল্লিরা মসজিদে নামিরায় আদায় করেছেন জোহর ও আসরের নামাজ। ১ লাখ ১০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ মসজিদ ও এর ৮০ হাজার বর্গমিটার চত্বর ছাপিয়ে রাস্তা ও আশপাশের বাগানেও নামাজে দাঁড়িয়ে যান মুসল্লিরা।

এ দুই জামাতে যুবরাজ খালিদ আল ফয়সাল, গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শেখ, ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল সেখও হাজীদের সঙ্গে শরিক হন।

বিকালে মুসল্লিরা পা বাড়ান প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফার পথে। মাগরিব ও এশার নামাজ সেখানে পড়েন তারা। সেখানেই রাতে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন। এটি ওয়াজিব।

এ সময়েই তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাথর সংগ্রহ করেছেন, যা মিনার জামারায় প্রতীকী শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর হাজীরা কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে, কেউ হেঁটে মিনায় ফিরে নিজ তাঁবুতে ফিরবেন।

মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া) গোসল করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। এটি হজের আরেকটি ফরজ।

কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। মিনায় তারা যত দিন থাকবেন, তত দিন প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ করে পাথর ছুড়ে মারবেন। সবশেষে কাবা শরিফ বিদায়ী তাওয়াফের (ওয়াজিব) মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার আরাফাতের ময়দানে (হজের জন্য) ছিলেন ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ হাজার জন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মুসল্লি রয়েছেন ৬ লাখ ৩২ হাজার ১৩৩ জন। সূত্র মতে, ১ লাখ ২৬ হাজার বাংলাদেশি এবার হজের জন্য সৌদি আরবে গেছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com