মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গুজ্বর কাদের সবচেয়ে বেশি হয়? জেনে নিন করণীয়

ডেঙ্গুজ্বর কাদের সবচেয়ে বেশি হয়? জেনে নিন করণীয়

ডেঙ্গুজ্বর কাদের সবচেয়ে বেশি হয়? জেনে নিন করণীয়

কোনও দেশই মশামুক্ত নয়। প্রাগ ঐতিহাসিক আমল থেকেই মশা আছে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু মশা বিলুপ্ত হয়নি। ডেঙ্গু রোগের বাহক যে এডিস মশা তা আমাদের দেশে বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই আছে বলে অনেকেই দাবি করেছেন। অন্য অনেক ভাইরাল জ্বরের মত হওয়ায় হয়ত আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না কখন আমাদের এই মশা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি।

এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ আবিষ্কৃত হয়েছে-১,২,৩ এবং ৪। একটি দ্বারা আক্রান্ত হলে সেটির বিরুদ্ধে এন্টিবডি মানে সেই ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকরী শক্তি তৈরি হয়ে যায়। তবে নতুন আরেকটি সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হলে তখনই শুরু হয় ঝামেলা। কারণ পূর্বে সৃষ্ট এন্টিবডির সঙ্গে এটি সংযোগ স্থাপন করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এবারের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা তাই ব্যাপক।

মশা যখন আমাদের শরীরে হুল ফুটায় বা কামড় দেয় তখন সেটি আমাদের চামড়ার নিচে জমা হয়। সেখান থেকে সেটি রক্তের মাধ্যমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পৌঁছায় ধীরে ধীরে। তারপর শুরু হয় নানা লক্ষণ এবং পরিশেষে পরিণতি।

এখন কথা হল, মশা তো কাউকে বাদ দেয় না, তাহলে কেউ বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে কেন?

সবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক না। কেন সেটি? তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হবে আরও। প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি থিউরির মাঝে রয়েছে মাইক্রো-নিউট্রিয়েনটের তারতম্য। এ ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হবার পেছনে The American Society of Tropical Medicine and Hygiene তে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিল তাতে তারা দেখিয়েছিল কিভাবে নানা মাইক্রো-নিউট্রিয়েনটের অভাবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মাঝে একটি হল ভিটামিন ডি।

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের Adaptive এবং Innate Immunity দুইটিই কার্যকরী রাখতে সহযোগিতা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে যখন শরীরে রক্তক্ষরণ হয় তখন রক্তে ভিটামিন ডি এর একটি নির্দিষ্ট উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তার মানে এর বিরুদ্ধে ভিটামিন ডি কার্যকর থাকে। তারা প্রস্তাব করেছে, ডেঙ্গু মৌসুমে স্বল্প মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করার জন্য।

এরপর রয়েছে জিংক। জিংক আমাদের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করার শক্তি তৈরি করে।

ইন্দোনেশিয়ায় এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যেসব রোগী ডেঙ্গুর তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত তাদের শরীরে জিংকের অভাব তীব্র ছিল। তাই জিংক স্বল্প মাত্রায় গ্রহণ করার পক্ষে তারা সমর্থন জানিয়েছে। লক্ষ রাখা দরকার সেটি যেন উচ্চমাত্রায় না হয়।

এর পরপরই রয়েছে ভিটামিন ই। আমরা অনেকেই জানি এটি Antioxidant হিসাবে কাজ করে। এর অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ভারতে এটি নিয়ে কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। ডেঙ্গু যখন হয় তখন অনেকেরই প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। তারা দেখেছে যেসব রোগীকে ভিটামিন ই দেওয়া হয়েছে একটি করে তাদের প্লাটিলেটের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।

মনে রাখা দরকার, সুষম খাবার খেলে এসব মাইক্রো-নিউট্রিয়েনটের অভাব পূরণ হয়ে যায়। তাই খাদ্য তালিকায় দেশী ফলমূল, শাক-সবজি ইত্যাদি রাখা উচিত। আমরা অনেকেই মুখের রুচির কথা ভেবে এসব খাবার পরিমাণ মত গ্রহন করি না। তখনই হয় বিপত্তি।

ডেঙ্গু মৌসুমে আমাদের সবার এসব খেয়াল রাখা উচিত। কারণ ডেঙ্গুর মৌসুম কিন্তু পরিসংখ্যান মতে সামনে আরও কয়েক মাস থাকবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com