সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৬ অপরাহ্ন

চাঁদপুরে ইমামের কক্ষে তার ছেলেসহ ৩ মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

চাঁদপুরে ইমামের কক্ষে তার ছেলেসহ ৩ মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

চাঁদপুরে ইমামের কক্ষে তার ছেলেসহ ৩ মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মসজিদের এক ইমামের কক্ষ থেকে তিন মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তিন শিশুর মধ্যে ওই ইমামের ছেলেও রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিনের কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ তিনটি থানায় নেয়া হয়েছে।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ওই তিনজন হল মসজিদের ইমাম বরগুনার জামাল উদ্দিনের ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান (৮), মতলবের দশপাড়া এলাকার নূরানি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইব্রাহিম খলিল এবং মতলবের নলুয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের পর মিলাদ শেষে মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিন তার কক্ষের সামনে যান। সেখানে গিয়ে রুম ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে ডাকাডাকি করে ভিতর থেকে কোনো সারা না পেয়ে রুমের জানালা দিয়ে দেখেন তার ছেলেসহ আরও দুই ছেলে খাটের ওপর পড়ে আছে।

জানালা দিয়ে তাদের ডাকাডাকি করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রুমের দরজা ভেঙে তিনজনকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ পর আরও একজন মারা যায়।

ইমাম জামাল উদ্দিন বলেন, জুমার নামাজের আগে বেলা পৌনে ১টার দিকে আমি বয়ান ও খুদবার জন্য মীমবরের দিকে যাই। নামাজ পড়ানো শেষে সমজিদে মিলাদ পড়িয়ে নিজের রুমে ফিরে আসি। ওই সময় আমার রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো দেখে অনেক ধাক্কা-ধাক্কি করি।

তিনি বলেন, পরে মুসল্লিদের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে দেখি আমার ছেলেসহ অপর দুই শিশু-কিশোর অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।

এলাকাবাসী জানান, দুই মাস পূর্বে মসজিদের ইমাম হিসেবে মাওলানা জামাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সেই থেকে তার শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ ওই কক্ষে বসবাস করতের তিনি। পরে এক মাস পূর্বে মসজিদ সংলগ্ন মুক্তা ভিলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার কালাই মুদাফাত গ্রামে। এর আগে তিনি চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।

মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মাহাবুর রহমান বলেন, মৃত ওই তিন শিশু-কিশোরের মুখ থেকে শুধু ফেনা বের হচ্ছিল। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না।

ওসি স্বপন কুমার আইচ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে তিন ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছি। তদন্তসাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানান।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল করিম বলেন, এখনও কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হতে পারে। তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের পর কারণ জানা যেতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com