বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

পটুয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসির বিরুদ্ধে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১৯ নং শিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর চিত্র দেখা গেছে। শুধু কাজ করানো নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ এবং নির্দেশ রয়েছে বলে দিন-রাত হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে শিশুদের। এ সময় একাধিক শিক্ষিকাদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। ওই প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সখ্য থাকায় মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ।

সরেজমিন সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার দিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১৯ নং শিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাজসজ্জার জন্য ধৌত এবং ঘষামাজা করছে ওই স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ে কাজ করা বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ সময় প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসি বলেন, সরকার এবং ইউনিসেফের সহায়তায় স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামত এবং সাজসজ্জা, চিত্রাঙ্কন কাজ চলছে।

শ্রমিকের কাজ কেন স্কুল শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং অর্থ বরাদ্দকারী ইউনিসেফের অনুমতি রয়েছে। তাই শিশুদের দিয়ে ধৌত করানো হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ফেরদৌসি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধমকি এবং মৃদু আঘাত করে কাজ করতে বাধ্য করছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, শিশুরা কাজে তো একটু অমনোযোগী হবেই। তাই তাদের কাজে মনোনিবেশ করতে একটু ই-ই করা হয়েছে।

তবে এ প্রসঙ্গে ওই স্কুলের কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি নয়। এ সময় শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ভয়ে ভীত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষিকা ওই বিদ্যালয়ে একযুগ ধরে চাকরি করছেন। সবকিছু তার অনুকূলে থাকায় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না। তিনি প্রতিনিয়ত সবার সঙ্গে রুক্ষ আচরণ করে থাকেন।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রতিবছর বিভিন্ন বরাদ্দের সিংহভাগ তিনি নিজেই হাতিয়ে নেন। বরাদ্দের অর্থ বাস্তবায়ন হয় শুধু কাগজপত্রে।

এ প্রসঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান মুক্তা মিয়া বলেন, এলাকার কিছু ছেলেপেলে রয়েছে যারা এই স্কুলের পোশাক পরে থাকতে ভালোবাসে। তারা হয়তো ওই কাজে ছিল। শিশু শিক্ষার্থীরা কোনো কাজ করেনি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানোর নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এটা সম্পূর্ণ বে-আইনি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com