শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১৮ অপরাহ্ন

১০ হাজার আমগাছ কেটে এ কেমন শত্রুতা!

১০ হাজার আমগাছ কেটে এ কেমন শত্রুতা!

১০ হাজার আমগাছ কেটে এ কেমন শত্রুতা!

নওগাঁয় ৬০ বিঘা জমির প্রায় ১০ হাজার আমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে সাপাহার ও পোরশা থানার ১১ আমচাষির প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সাপাহার উপজেলার পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে জামালপুর ও পোরশা থানার গোন্দইল গ্রামের মাঠে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে রোপিত প্রায় ১০ হাজার আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

জানা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার ও পোরশা বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। পানি সমস্যার কারণে বছরের একটি মাত্র ফসল বৃষ্টিনির্ভর আমনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এর পর আম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। আমের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক এখন আমবাগানের দিকে আগ্রহী হয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান গড়ে উঠছে। ধান চাষ না করে চাষিরা জমি ইজারা নিয়ে আমবাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সাপাহার উপজেলা।

মঙ্গলবার রাতে জামালপুর ও গোন্দইল গ্রামের মাঠে ১১ আমচাষির প্রায় ৬০ বিঘা জমির প্রায় ১০ হাজার আমগাছের মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। সকালে বাগানের মালিকরা বাগান এলাকায় গিয়ে গাছকাটার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। কে বা কারা এসব গাছ রাতে কেটে ফেলেছে তা অনুমান করতে পারছেন না।

চাষি ফটিক চন্দ্র রায় বলেন, আমার বাড়ি সাপাহার থানার জামালপুর গ্রামে। কিন্তু আমার আমের বাগান জেলার পোরশা থানার গোন্দইল গ্রামে। প্রতি বিঘা জমি ১৩ হাজার টাকা হিসেবে ৪ বিঘা জমি ১১ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। সেখানে আম্রপালির বাগান করেছি।

আগামী বছর প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো আম বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু রাতের মধ্যে সব গাছ কোমর থেকে কেটে দিয়েছে। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক চাষি রায়হান সিদ্দিক বলেন, ১৪ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১২ বছরের জন্য ১৮ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছি। গত দেড় বছরে আমের পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাগানে আম্রপালি ও বারি জাতের গাছ ছিল। তবে আম্রপালি গাছের সংখ্যাই বেশি। আগামী বছর বাগান থেকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকার আম বিক্রি হতো। তবে কী কারণে কারা এমন ক্ষতি করেছে তা বলা যাচ্ছে না।

সাপাহার থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে বাগান থেকে অসংখ্য আমগাছ কেটে নষ্ট করায় আমচাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে বেশিরভাগ বাগানের জায়গা পোরশা থানার মধ্যে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com