রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

মেঘালয় ভ্রমণ ১ম পর্বঃ

মেঘালয় ভ্রমণ ১ম পর্বঃ

মেঘালয় ভ্রমণ ১ম পর্বঃ

— লাইটলুম Grand Cannoys – ওয়াকাভা ফলস- মৌসুমি কেইভ – সেভেন সিস্টারস ফলস —|

>>> ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার এ প্রবলেম থাকায় শিলং যেতে যেতে স্পটগুলা কভার করতে পারিনি! ভারতের ইমিগ্রেশন অফিসে ডলার দেখাতে গিয়ে এক দেশীয় ভাই তুলকালাম লাগিয়ে দেয়ার প্রথম দিন কিছুই দেখা হয় নি। অগত্যা ডাউকি বাজার এ গিয়ে দিদির দোকানে টাকা থেকে রুপী করে লোকাল সুমো গাড়ি দিয়ে শিলং শহরে চলে যায়। শিলং গিয়ে হোটেল এ চেক ইন করে বের হয় শহর দেখতে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক শিলং(পুলিশ বাজার) শহর হেটে হেটে ঘুরে দেখলাম আমরা। তারপর রাতের ডিনার করে হোটেল এ ব্যাক। পরেরদিনের জন্য আমরা ঠিক করলাম লাইটুম গ্রান্ড ক্যানিয়ন দেখে চেরাপুঞ্জি চলে যাব। তাই রাতেই টেক্সি রির্জাব করে দিয়েছিলাম । দ্বিতীয় দিন খুব সকালে আমাদের টেক্সি ড্রাইভার নিগম দাদা চলে আসায় আমারা শিলং এ পুলিশ এ দিল্লি মিষ্টান্ন ভান্ডার এ ব্রেকফাস্ট করে লাইটুম এর দিকে যাত্রা শুরু করি।

পুলিশ বাজার হতে লাইটলুম এর দুরত্ব ৭ কিলোমিটার প্রায়। বলে রাখা ভাল এই লাইটলুম এ বলিউড এর ছবি “Rock On 2” ওর শুটিং হয়েছিল। মুলত এই মুভি শ্যুট হবার পর থেকেই এই জায়গার কদর বেড়ে যায়।
প্রায় ১.৩০ ঘন্টার পর আমরা লাইটুম এ এসে পৌছালাম।

লাইটলুম ক্যানিয়নের বিশালতা আসলে বলে বুঝানো যাবে না। এই ক্যানিয়ন এতটাই বিশাল যে এর সামনে একজন মানুষকে শূন্য মনে হয়। একের পর এক সবুজ, বাদামী পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারা যায় অনায়াসে। সবুজ ঘাসের কার্পেটে শুয়ে শিশুতোষ আচরণ করলেও আশেপাশের কেউ মনেই করবে না, কারন এখানে হারিয়ে যেতে নেই মানা। কোথাও পাহাড় ছায়ার কারণে ঘন সবুজ বর্ণ আবার কোথায় রোদের কারণে উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করেছে। এ যেন দিন দুপুরে আলোছায়ার লুকোচুরি খেলা। অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্য! নিচ দিয়ে বয়ে চলা নদীটিও তখন চকচক করে জানান দিচ্ছে তার অস্তিত্ব।

আমরা যখন লাইটলুম থেকে ব্যাক করব ঠিক তখনি হঠাত করে মেঘ এসে ভরে গিয়েছিল লাইটলুম। নিজেদের খানিকটা ভাগ্যবান মনে হল। একইসাথে লাইটলুম দুই রুপ দেখা আসলেই ভাগ্যের ব্যপার! বিকেল গড়িয়ে এলে আমরা চেরাপুঞ্জির দিকে রওয়ানা দেই। লাইটলুম এ যে কিভাবে পুরোটা দিন গেল বুজেই উটতে পারলাম না! লাইটলুম থেকে চেরাপুঞ্জি প্রবেশদ্বার এই পাশেই ম্যাগি ন্ডুলস আর ডিম ফ্রাই দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম । তারপর ওয়াকাভা ফলস এ যখন পৌছালাম তখন মেঘের কারনে কিছুই দেখতে পারলাম না। তারপরেও মেঘের ফাকে ফাকে ফলস কে যতটুকু দেখা যায় দেখে নিলাম । ওয়াকাভাকে দেখার ইচ্ছাটা থেকেই গেল । ওয়াকাভা দেখে আমরা চলে গেলাম মৌসুমি কেইভ এ । কিন্তু সন্ধ্যা প্রায় হয়ে যাওয়াই আমাদের ভিতরে প্রবেশ করতে প্রথমে দেয় নাই পরে অবশ্য অনুরোধ করতে দিয়ে দিয়েছিল । যখন মৌসুমি কেইভ এর মধ্যে প্রবেশ করলাম তখন নিজেদের আদিম প্রানি বলে মনে হয়েছিল । অনেকটা ভয় এবং দুঃসাহসীকতার মধ্যে দিয়েই মৌসুমি কেইভ দেখা শেষ করলাম । তারপর খুব তাড়াহুড়া করে সেভেন সিস্টার দেখতে চলে গেলাম । কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এবং পানি কম থাকার কারনে ভালভাবে সেভেন সিস্টারস ফলস দেখা হয় নাই । আমরা রাতে চেরাপুঞ্জি ( সোহরা ) তে হোমস্টেতে থাকার প্লান ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত
রিসোর্ট এ থাকরা ব্যবস্থা হল ।

খরচঃ

–পুলিশ বাজার টু লাইটলুম + চেরাপুঞ্জি টেক্সিঃ ২৫০০ রুপী
–চেরাপুঞ্জি রিসোর্টঃ ১২০০ রুপী( ৩ জন )
— এন্ট্রি ফি সব টুরিস্ট স্পট
— ট্রাভেল ফি ৫০০ রুপী
— শিলং হোটেল ৯০০ রুপী ( ৩ জন )
— ডাউকি টু পুলিশ বাজার লোকাল সুমো ৯০০ রুপী

রিকেপঃ
১) লাইটলুম এর জন্য আপনি পুরো এক দিন রাখতে পারেন অথবা লাইটলুম দেখে চেরাপুঞ্জির দিকে যেতে পারেন।

২) লাইটলুম অব্যাশই পুলিশ বাজার থেকে দুপুরের খাবার ( ড্রাই ফুড) নিয়ে যাবেন।

৩) ছাতা / রেইনকোট মাস্ট

৪) আপনার ভ্রমন প্লান এ লাইটলুম – ওয়াকাভা ফলস- মৌসুমি কেইভ – সেভেন সিস্টারস ফলস রাখলে ভালই হয় ।
৫) শিলং এবং চেরাপুঞ্জি রাত ৯ তার আগেই আপনার সব কাজ শেষ করবেন

ড্রাইভারঃ Nigam Kuri
NUmber: +91 9862641484

Shillong Hotel: Hotel Hill Star
Cerapunji Resort: Nalgree Resort

প্রকৃতিকে উপভোগ করতে হলে প্রকৃতিকে পরিচ্ছন্নও রাখতে হয়। দেশ হোক কিংবা দেশের বাইরে, ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে পানির বোতল, পলিথিন ফেলবেন না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com