রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল ট্যুরে একদিন… <3

চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল ট্যুরে একদিন… <3

চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল ট্যুরে একদিন...

** লাউয়্যাছড়া জাতীয় উদ্যান
** জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ
** চা বাগান
** বধ্যভূমি

চায়ের রাজধানী, শীতের শহর, বৃষ্টিপাতের অঞ্চল, পর্যটন শহর, সবুজের চাদর বিছানো শহর যাই বলেন না কেনো, শ্রীমঙ্গল কখনোই তার রুপ লাবণ্যে যে কাউকে আকৃষ্ট করতে একটুও কার্পণ্য করে নি। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি উপজেলা যা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্ভুক্ত। শ্রীমঙ্গলে যত দূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি। চা বাগানের সারি সারি টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। গত কয়েকদিন যাবৎ বন্ধুর পীড়াপীড়িতে শ্রীমঙ্গল যেতে বাধ্য হয় গতকাল। বেচারা চলে যাবে কয়েকদিন পর বাহিরে৷ তাই দেখা হওয়াটা জরুরি৷ ভাবলাম বোনাস হিসেবে আশপাশটা ঘুরেও দেখা হয়ে যাবে৷ কথা ছিলো সিলেট থেকে ভোর ৭টার ট্রেনে শ্রীমঙ্গল রওনা হয়ে ঠিক ১০ টার মধ্যে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে থাকা৷ কিন্তু এতো সকালে কি কারোর ঘুম ভাঙ্গতে চায়। যা হওয়ার তাই হলো, ট্রেন মিস করে বসলাম। বাধ্য হয়ে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল ১০ টার বাসে ১২০ টাকা বাস ভাড়ায় দুই ঘন্টা ১০ মিনিটের মধ্যে শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনীতে পৌঁছে যায়।দেখা সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করে ঠিক করলাম লাউয়াছড়া উদ্যান, জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, বধ্যভূমি দেখবো। যেহেতু আমরা মাত্র দুজন ছিলাম, তাই সবকিছুতে লোকাল ভাবেই যাতায়াত করি৷ এবং খরচও খু্ব কম আসে। বাজেট ট্রাভেলাররা আশা করি উপকৃত হবেন।

চৌমুহনী থেকে পায়ে হাঁটা পথে ভানুগাছ যাবার সিএনজি স্ট্যান্ডে চলে যান৷ ওখান থেকে ভানুগাছ যাবার বাস, সিএনজি দুটোই পাবেন। ভানুগাছ যাওয়ার পথে প্রথমে লাউয়াছড়া উদ্যান পড়বে। ওখানে নেমে যান প্রথমে। বাসভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা৷ আমরা বাসেই যাতায়াত করি৷ লাউয়াছড়া ঢুকতে প্রবেশমূল্য হিসেবে গুনতে হবে ৫০ টাকা৷ তবে স্টুডেন্টদের জন্য ২০ টাকা৷ অবশ্যই স্টুডেন্ট কার্ড সঙ্গে রাখবেন। লাউয়াছড়া ঘন্ট্যাব্যাপি ঘুরে মেইন রোডে চলে আসেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে শ্রীমঙ্গল গামী সিএনজি পাবেন। বললেই হবে গ্র্যান্ড সুলতানের সামনে নামবেন৷ ভাড়া নিবে জনপ্রতি ১০ টাকা করে৷ গ্র্যান্ড সুলতানের নেমেই দেখবেন হাতের বামপাশে সরু রাস্তা গেছে। এই রাস্তা ধরে ৩কি.মি আগালে মিলবে অপরুপ জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ। সরু রাস্তায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে সিএনজি পাবেন। মসজিদের কথা বলে উঠে পড়ুন। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ২৫ টাকা। মসজিদ দেখা শেষ করে আবার শ্রীমঙ্গল শহরে যাবার সিএনজিতে উঠে পড়ুন। ভাড়া নিবে ২৫ টাকা৷ শ্রীমঙ্গল শহরে ঢুকার ১কি.মি আগে বধ্যভূমির সামনে নেমে পড়ুন। বধ্যভূমির পাশেই পুরো মাঠজুড়ে চা বাগানের সারি সারি বাগান দেখতে পাবেন৷ বধ্যভূমি থেকে সামনে ৭ মিনিট হাঁটলেই শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন৷ নিশ্চিন্ত মনে ঢাকা বা সিলেটের ট্রেন ধরতে পাবেন। এই প্ল্যানে ঘুরে আমাদের শ্রীমঙ্গল টু শ্রীমঙ্গল জনপ্রতি ১৫০ টাকা খরচ হয় ( দুপুরের খাবার সহ)।

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে নিজের পচ্ছন্দ বা সুবিধামতো বাহনে সকাল সকাল শ্রীমঙ্গল চলে আসুন। বাকিপথটুকু কি করতে হবে এখন নিশ্চয় জানা। আর যারা একটু রিল্যাক্সে ঘুরতে চান আপনারা সারাদিনের জন্য এই সবগুলো স্পট একটা সিএনজি রিজার্ভ করে নিয়ে ঘুরতে পারেন৷ ভাড়া নিবে ৭০০-৮০০ টাকা। সময় কম থাকায় কিছু স্পট দেখতে পারি নি। আপনারা শীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা টাও লিস্টে এড করে নিতে পারেন।

বিদ্রঃ পুরো শ্রীমঙ্গল শহরটি অনেক সুন্দর, সাজানো, গোছানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সুন্দর এই পরিবেশে গিয়ে কেউ দয়া করে শহরটি নোংরা করে আসবেন না৷ শুধুমাত্র স্মৃতিটা রেখে যান৷ আবর্জনাটা ডাস্টবিনে ফেলে যান। ধন্যবাদ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com