রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

বগালেক কেউক্রাডাং ট্যুর

বগালেক কেউক্রাডাং ট্যুর

বগালেক কেউক্রাডাং ট্যুর

৩ বছরের প্ল্যান সাকসেসফুল করে,সবার সাথে কোপ আপ করে সময় মিলিয়ে যখন অনেকদিন পর বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাওয়া হয় এবং প্লেস টা যদি হয় বগালেক/কেউক্রাডাং এর মতো কোনো কিছু,তবে ট্রিপে যাওয়া ১০০% সার্থক ^_^
বেশি প্যাঁচাবো না।সিম্পল ভাষায় ট্যুরের বর্ণনা দিয়ে দিচ্ছি।

২১.১২.১৯ —
আমরা ৮ জন রওনা দিয়েছিলাম চট্টগ্রাম থেকে বিআরটিসি বাসে সকাল ৮:০০টায়।আরামদায়ক গাড়ি,পুরা রাস্তা কোনো কষ্টকর মনে হয় নি।ঘন্টা দেড়েক-দুয়েক এর মধ্যে পৌছলাম বান্দরবান বাস কাউন্টার।ওইখান থেকে টমটম করে রুমা বাস স্ট্যান্ড।আমরা ১১:৩০ পৌছলাম সেখানে।৫ মিনিট দেরী হওয়ার কারণে রুমাবাজার গামী ১১:৩০ টার বাস মিস করেছিলাম।এরপর উঠেছিলাম ১২:৩০ টার বাসে।আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল তাই বাসের শেষে সিট পেয়েছিলাম।এই জার্নি টাই একটু কষ্টকর ছিল।গরমে আর বাসে মানুষের ভিড়ে বেশ হাপিয়ে উঠেছিলাম।মাঝপথে দুইবার আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করতে হয়েছে।এরপর রুমাবাজার বাস পৌছুলে সেখানে গাইড জিং দাদার সাথে দেখা করলাম।এরপর আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করে পারমিশন নিলাম।রুমাবাজার ৩ টার মধ্যে থাকলে বেটার কারণ এর পরে পারমিশন পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।এরপর ওইখানে থেকেই বারবিকিউ এর সরঞ্জাম যেমন মুরগি,মসলাপাতি নিয়ে চাদের গাড়িতে উঠে বসলাম।এর পরের জার্নি টা ছিল জাস্ট ওয়াও!পাহাড়ি উঁচুনিচু রোড,দুই পাশে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়,মাথার উপরে খোলা আকাশ আর ডুবন্ত সূর্য এবং বাতাস খেতে খেতে খোলা গাড়িতে আমরা ^_^ সিনেমায় দেখা জিনিস বাস্তবে!বগালেক পৌছতে পৌছতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল।আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করেই আমরা কটেজে গিয়ে উঠলাম।ফ্রেশ হয়ে ভাত খেয়ে নিলাম।অন্যদিকে জিংদা আমাদের বারবিকিউ ম্যারিনেট করে রাখছিলেন।এরপর আমরা কটেজে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে তারপর শুরু করলাম আড্ডা আর গানবাজনা!
আমাদের গিটারের টুনটুনা আর গলার স্বরে পুরা বগালেক খবর হয়েছিল :p এরপর রাতে ক্যাম্প ফায়ারের পাশে বসে চলল আরেক জম্পেশ আড্ডা আর গান।তারপর খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
২২.১২.১৯ —
ভোরে উঠে পড়লাম সূর্যোদয় দেখতে যদিওবা বগালেক হতে তা দেখা সম্ভব হয় নি।এরপর ফ্রেশ হয়ে নিয়ে বগালেক এর পাড়ে বসে কিছুক্ষণ ছবি তুললাম এবং একইসাথে সকালের কুয়াশার সাথে ধোঁয়াশা উঠা চা,পারফেক্ট কম্বিনেশন♥
যে কটেজে ছিলাম তাদের বাড়িতেই খিচুড়ি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি নিয়ে ভারী ব্যাগ তার বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলাম।ঠিক ৯:৫২ তে গাইড সমেত কেউক্রাডাং পাহাড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।আমরা যাত্রা অনেক দেরীতে শুরু করেছিলাম এর কারণে ১২ টার প্রখর রোদ আমাদের গতি কমিয়ে দিয়েছিল।সকাল ৮ টায় হলো যাত্রা শুরু করার আদর্শ সময়।আমাদের কেউক্রাডাং পৌছুতে ৪.৪০ ঘণ্টা লেগেছিল যদিও রোড হচ্ছে ৩.৫ ঘন্টার :p আমরা মাঝে অনেক প্লেসে ছবি তুলে সময় নষ্ট করেছিলাম।এছাড়া চিংড়ি ঝরণায়,দার্জিলিং পাড়ায় এবং আরো ২ টি স্থানে কিছু সময় অতিরিক্ত খরচ করেছি।যা হোক,দুপুর ২ টার দিকে কেউক্রাডাং পৌছলাম।আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করে এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম।তারপর কটেজে চলে গেলাম।বিকাল এ হেলিপ্যাডে গিয়ে আবারও ফটোসেশন চলল কিছুক্ষণ।সেখানে সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম।তারপর ব্যাক করলাম।৫ টার পর থেকে হেলিপ্যাডে অবস্থান নিষিদ্ধ।সন্ধ্যায় চা খেয়ে শুরু হলো আড্ডার ট্রেন।গোলচত্বর এ বসে গান,আড্ডা,এরপর তারাভরা খোলা আকাশ দেখা আর মিল্কিওয়ে গ্যালক্সির অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করা – এই রাত অনেকদিন মনে থাকবে।নেটওয়ার্ক ছিল না বিধায় কোনো ভার্চুয়াল দুনিয়ার অস্তিত্ব ছিল না।এত শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ,কোলাহলবিহীন; উঠে চলে আসতে মন সায় দিচ্ছিল না।কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর! রাত ৯ টায় খাবার পর্ব চুকিয়ে নিলাম।এরপর ১০ টায় চলে গেলাম কটেজে।১০ টার পর কটেজের বাইরে থাকার ব্যাপারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।কটেজের বারান্দায় আরো কিছুক্ষণ ছিলাম আর প্রকৃতি দেখছিলাম।তারপর সকলে ঘুমিয়ে গেলাম।
২৩.১২.১৯ —
ভোরে উঠে চূড়া হতে সূর্যোদয় উপভোগ করলাম।এরপর নাস্তা করেই রওনা দিলাম বগালেক এর উদ্দেশ্যে।দুপুর ১ টার পরে কেউক্রাডাং হতে বগালেক ব্যাক করা নিষেধ।বগালেক এসে লেকের পানিতে গোসল করলাম।তারপর ভাত খেয়ে উঠে পড়লাম চাঁদের গাড়িতে।আমাদের নামিয়ে দিল রুমাবাজার এ।এরপর সেখান হতে একটি জিপ খালি যাচ্ছিল বিধায় কম টাকায় উঠে পড়লাম।নামিয়ে দিল বান্দরবান সদরে।এরপর সেখান থেকে পূরবী বাস করে চট্টগ্রাম…
খরচের তালিকা নিচে দিয়ে দিলাম।
বিআরটিসি বাস = ৯৬০
সদর-রুমা বাসস্ট্যান্ড = ৮০
রুমা বাসস্ট্যান্ড-রুমাবাজার = ৮৮০
রুমাবাজার-বগালেক চাঁদের গাড়ি = ১৬০০(শেয়ারে)
বারবিকিউ এর জন্য মুরগি,মসলা = ৯৩৫
আর্মি রেজিস্ট্রেশন = ১৪০
বগালেক দুপুরের খাবার(ভাত,ডিম,আলুভর্তা) = ১০৮০
লুচি+কোক = ৪৭০
বগালেক কটেজ = ১৩৫০
দার্জিলিং পাড়ায় খরচ = ২৭০
কেউক্রাডাং দুপুরের খাবার = ১৩৫০
কেউক্রাডাং রাতের খাবার = ১১৭০
কেউক্রাডাং কটেজ = ২৭০০
কেউক্রাডাং এ এক্সট্রা খরচ = ৩২০
বগালেক-রুমাবাজার গাড়ি = ২২০০
রুমাবাজার-বান্দরবান সদর গাড়ি = ১০০০
বান্দরবান-চট্টগ্রাম = ৮৮০
গাইড খরচ = ৩০০০
এখানে কিছু পয়েন্ট,
১.আমাদের দল ছোট ছিল বিধায় খরচ বেশি গিয়েছে।লোকবল বাড়ালে খরচ আরো কমানো সম্ভব।
২.আমাদের কিছু এক্সট্রা খরচ ও গিয়েছিল।যেমন কেউক্রাডাং এ কটেজ ভাড়া নিয়েছিল ৩০০ যেখানে আমরা ২০০ হিসাব করে গিয়েছিলাম।

আর গাইড জিং দাদার সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়।উনার মত ফ্রেন্ডলি,অভিজ্ঞ আর হেল্পফুল গাইড পাওয়ার কারণেই আমরা অনেক এডভান্টেজ পেয়েছি।খুবই মিশুক আর ক্লাসি মনের পরিচয় দিয়েছেন।উনি ভালো বারবিকিউ ও করতে পারেন।বারবিকিউ এর ট্রে,শিক সব উনার কাছেই পাবেন।উনার মোবাইল নং – 01634167865
আরেকটা কথা,ওই অঞ্চল টা খুবই পরিষ্কার।দার্জিলিং পাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম।তাই দয়া করে কেউ নোংরা করবেন না।প্লাস্টিক,পলিথিন,বিস্কুট কেকের প্যাকেট,সিগারেট,অপচনশীল দ্রব্য ফেলবেন না।আর পাহাড়িরাও খুব পরিচ্ছন্ন।আপনি ঘুরতে গিয়ে তাদের বসবাস স্থল নোংরা করবেন এটা নিশ্চয় গ্রহণযোগ্য হবে না 🙂 আর পাহাড়িদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন।
সবশেষে,হ্যাপ্পি ট্রাভেলিং ♥

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com