রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

“সেন্টমার্টিন ভ্রমন” ১রাত ২দিন

“সেন্টমার্টিন ভ্রমন” ১রাত ২দিন

"সেন্টমার্টিন ভ্রমন" ১রাত ২দিন

সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হবে। কোথাও ঘুরে আসা দরকার। মন ভালো করার জন্য সমুদ্রের চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে!! পরীক্ষার আগেই ৫ বন্ধু মিলে প্ল্যান করে ফেললাম ফাইনালটা শেষ হলেই সেন্টমার্টিন যাবো। ঢাকা থেকেই আমাদের বাস টিকেট, হোটেল বুকিং, শিপ টিকেট সব কনফার্ম করা হল।

৪ তারিখ রাতে যাত্রা শুরু। সন্ধা ৭.৩০ এ সায়দাবাদ থেকে বাস। সময়মত সবাই বাসে উঠে পরলাম। বাস ২বার হোটেল ব্রেক দেওয়ার পর সকাল ৭.৩০ এর মদ্ধেই আমাদের টেকনাফ নামিয়ে দেয়। বাস স্টান্ডের পাশই শিপ ঘাট। ঘাটের পাশে একটা হোটেলে সকালের নাস্তা সেড়ে নেই। আসেপাশে একটু হাটাহাটি করে জাহাজে উঠে পরি।
জাহাজ ছাড়ার কথা ৯ টায়। ঠিক ৯টায় ই আমাদের জাহাজ ছেড়ে দেয়।

নাফ নদীর ও সাগরের আসেপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে সেন্টমার্টিন পৌছাই ১১.৩০ এর দিকে। হোটেল এ ব্যাগ রেখে সবাই দৌড় দেই সাগর পারে।
বিকালের দিকে সবাই সাইকেল ভাড়া করে সন্ধা পর্যন্ত সাগর পাড়ে সাইকেল চালাই। সেন্টমার্টিনে সূর্যাস্ত ছিলো দেখার মত। একটু পর পর সূর্যের আলো আর সাগর মিলে ধারন করে ভিন্ন ভিন্ন রুপ।
সূর্যাস্ত দেখা শেষ করে সন্ধা বেলা সবাই মিলে বাজারে যাই। কেউ কেউ হাল্কা কেনাকাটা করে বাসার জন্য। রাতে সবাই মিলে হোটেলে বারবিকিউ করি। খাওয়াদাওয়া শেষে সবাই চলে যাই সাগর পাড়ে।রাতেরবেলা তারায় ভরা আকাশ,চাঁদ, সাগরের ঢেউ এর শব্দ, ঠান্ডা বাতাস,, যে কারো মন ভালো করবে।
আড্ডা শেষ করে রাত ১১টায় আমরা রুমে চলে আসি। পরদিন ভোর ৪.৩০ এ উঠে বেরিয়ে পরি সূর্যোদয় দেখার জন্য। ঘাট থেকেই সবচেয়ে ভালো সূর্যোদয় দেখা যায়।
সূর্যোদয় দেখার পর নাস্তা সেরে সাথে সাথে রওনা দেই ছেঁড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে। স্পিডবোট ভাড়া করে চলে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। স্পিদবোটে যেতে ১৫-২০ মিনিটের মত সময় লাগে। ওরা ১ ঘন্টা সময় দেয় পুরো দ্বীপটা ঘুরে দেখার জন্য। চাইলে সাইকেলে অথবা লাইফবোটেও যাওয়া যায়।
ছেঁড়া দ্বীপ দেখা শেষে হোটেলে ফিরে আসি। সকাল ১১টায় চেকআউট করে আবার চলে যাই সাগরপাড়ে। সাইকেলে করে সমুদ্র পাড়ের চক্কর লাগাই।
৩টায় জাহাজ ছাড়বে টেকনাফের উদ্দেশ্যে । ৩টার আগেই জাহাজে উঠে পরি। জাহাজে উঠে টেকনাফ, সেখান থেকে বাসে আবার ঢাকা।

জনপ্রতি খরচ:

ঢাকা- টেকনাফ বাস যাওয়া-আসা : ৯০০+৯০০=১৮০০
টেকনাফ- সেন্টমার্টিন, জাহাজ, যাওয়া-আসা : ৮০০(Keari Sindbad Open Deck)
হোটেল : ২৫০০ ডাবল বেড।
খাওয়ার খরচ : সকালের নাস্তা- পরটা,ডালভাজি =৪০
দুপুরের খাবার: ভাত,ডাল,আলু ভরতা,সবজি,মুরগি/মাছ = ১৫০
রাতে বারবিকিউ =২০০
সাইকেল প্রতি ঘন্টা ; ৪০ টাকা।
ছেরা দীপ স্পিডবোট ; ৩০০( শুক্রবার ছিলো দেখে বেশি নিছে)
সবার প্রায় ৪৫০০ এর মত খরচ হয়েছে।

👉 সেন্টমার্টিন থেকে প্রবাল পাথর আনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কেউ প্রবাল পাথর আনবেন না,কেউ বিক্রি করতে চাইলে কিনবেন না।
👉অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ নিয়ে যাবেন। ফেরত আসার সময় ৪-৫ বার বিজিবি চেকপোস্টে চেক করা হবে।
👉জাহাজে কোনায় কোনায় ময়লা ফেলার ডাস্টবিন ছিল তাও দেখি কয়েকজন মানুষ খাবার খেয়ে সাগরে ময়লা ফেলছে।
👉সাগর পারে যাই খান না কেনো,, প্যাকেট/বোতল ডাস্টবিনে ফেলুন। ডাস্টবিন না পেলে হোটেলে এসে সেখানের ডাস্টবিনে ফেলুন।
👉ছেঁড়া দ্বীপে যেয়ে দেখি ময়লার ঝুরি থাকা সত্তেও যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা। কয়েকটা পাথরে দেখি বড় বড় করে ‘আ+ত, N+T, নিজের নাম’ এসব লেখা। কি দরকার ভাই? যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন আর এসব লেখালেখি বন্ধ করুন।
নিজের দেশটা সুন্দর রাখা নিজেদেরই দায়িত্ব।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com