রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

ভূস্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমন এবং এবং এর বিশেষ কিছু সতর্কতা

ভূস্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমন এবং এবং এর বিশেষ কিছু সতর্কতা

ভূস্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমন এবং এবং এর বিশেষ কিছু সতর্কতা

অনেক অনেক অবিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এলাম ভূস্বর্গ কাশ্মীর থেকে।(১২.১২.২০১৯ – ২৫.১২.২০১৯)
১২.১২.২০১৯( প্রথম দিন)
আমাদের ট্যুর ছিল ১২ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় সোহাগ পরিবহণ ঢাকা টু বেনাপোল পোর্ট ৫৫০ টাকা করে। ট্যুর মেম্বার ছিল ২ জন। ট্যুর প্লান করছিলাম ৪ জন। একটা এক্সিডেন্ট এর কারনে ২ জন যাইতে পারে নাই আমাদের সাথে পরে আমি আর তানভির ২ জন চলে যাই ভূস্বর্গ কাশ্মীর।ট্রাফিক জ্যাম এর কারনে বাস লেট করেছিল। আরিচা ফেরি ঘাট ৩ ঘণ্টা জ্যাম ছিল।
প্রথম দিনের খরচঃ
বাস ভাড়া- ১১০০(২ জন)
পানি+ ঔসধ-৪৫ টাকা
মোট-১১৪৫ টাকা

১৩.১২.২০১৯ (দ্বিতীয় দিন)
বেনাপোল পোর্টে পৌছাতে পৌছাতে সকাল ১০.৩০ বেজেগেল। হাল্কা ব্রেকফাস্ট করে নিলাম ২ জন। তারপর পোর্টের লাইনে দারালাম । ৩ ঘণ্টা পর ইমিগ্রেসন এর কাজ শেষ করলাম। পোর্ট থেকে অটোতে করে বনগাঁও রেলস্টেশন গেলাম ৩০ রুপি করে। তারপর বনগাঁও রেলস্টেশন থেকে শিয়ালদাহ রেলস্টেশন ২০ রুপি করে দিলাম। শিয়ালদাহ রেলস্টেশন থেকে নাখুদা মসজিদ এর কাছে গেলাম একটা মুসলিম হোটেলে । সেখান থেকে ২ জনে লাঞ্চ করলাম ২৩৬ টাকা দিয়ে( মাটন+ কিমা+ গরু মাংসের ডাল) । তার পর চা খেলাম ২ জনে। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম। তারপর পাতাল ট্রেন জার্নি করলাম নিউ মার্কেট পর্যন্ত। তারপর নিউ মার্কেট থেকে হাওরা রেলস্টেশন গেলাম বাসে করে। রাত ১২.৫৫ তে কলকাতা টু জম্মু ট্রেন । কিছু অ্যাপেল, পিয়ারা অ্যান্ড হাল্কা খাবার নিয়ে নিলাম ট্রেনে খাবার এর জন্য । ট্রেন সময় মত স্টার্ট করল।

দ্বিতীয় দিনের খরচ ঃ
সকালের খাবারঃ৯৫টাকা
পেয়ারা-৫৫ টাকা
ট্রাভেলটেক্স-১০০০
পোর্ট ফী-১০০ টাকা।
পোর্ট থেকে রেল স্টেশন অটো ভারা-৬০রুপি
বনগাঁও থেকে শিয়ালদাহ ট্রেন ভাড়া -৪০ রুপি
লাঞ্ছ-২৩৬ রুপি
পানি-৭০ রুপি
মেট্রো ভারা-১০ রুপি
বাস ভারা-১৫ রুপি
ফল-১৯৫ রুপি
চা-২৫
হাওরা – জম্মু ট্রেন ভারা-২০০০ টাকা(বাংলাদেশ থেকে ১ মাস আগে টিকেট কেটে রাখছিলাম)
মোট খরচ -৪০৩০ বাংলাদেশি টাকা

১৪.১২.২০১৯ (তৃতীয় দিন)
আমাদের ট্রেন এর ক্লাস ছিল স্লিপ্পার । লোকাল কিছু মানুষ মাঝে মধ্যে বিরক্ত করত। মাঝে মধ্যে রেলস্টেশনে নেমে কিছু খাবার কিনে নিতাম
তৃতীয় দিনের খরচঃ
বিস্কুটঃ৯৫ রুপি
পানি-২০ রুপি
ফল-৫০ রুপি
মোট খরচ- ১৬৫ রুপি*১.২=১৯৮ বাংলাদেশি টাকা

১৫.১২.২০১৯ (চতুর্থ দিন)
সব প্রতীক্ষা শেষে ৩ ঘণ্টা লেট করে প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আমরা জম্মু পৌছাই। সেখানথেকে ১৫ রুপি দিয়ে বাসে করে বাসস্টেশন যাই। সেখানে গিয়ে দেখি জম্মু-স্রীনগর রোড অফ। অনেক হতাশা নিয়ে আমরা ২ জন হোটেল খুজতে থাকলাম। ৫-৬ টাকার মধ্যে অনেক হোটেল পাওয়া যায় বাট ঐ হোটেল গুলাতে বিদেশি থাকা যায় না। যেই হোটেলে C-Form আছে সেই হোটেলে বিদেশিরা থাকতে পারে। অনেক দালাল আমাদেরকে ৪০০/৫০০ টাকাতেই হোটেল রোম দিতে রাজি হয় কিন্তু যখনই শুনে আমরা বিদেশি তখনই বলে বিদেশি থাকা যাবে না। আমাদের কাসে C-Form নাই। অনেক কষ্ট করে মাকিক ভাই এর হেল্প নিয়া একটা হোটেল পাই ১২০০ টাকা পার নাইট। হোটেলে গিয়া ফ্রেশ হই আমরা ২ জন। ১ ঘণ্টা রেস্ট নিয়ে হাঁটতে বের হই। কিছু সময় আমরা হাঁটাহাঁটি করি। তারপর আমরা একটা মুসলিম হোটেলে ডিনার করি । তারপর আমরা হোটেলে চলে যাই।
চতুর্থ দিনের খরচঃ
পানি-৫ রুপি
রেল স্টেশন থেকে বাস স্ট্যান্ড ভারা-৩০ রুপি
এক্সত্রা-৩০ রুপি
লুঞ্ছ-২৩০ রুপি
ডিনার-২৪০ রুপি
মোট খরচ ঃ ৬৪৩ টাকা

১৬.১২.২০১৯ (পঞ্চম দিন)
পরের দিন ১০ টার দিকে আমরা হোটেল ছেড়ে দেই। বাসস্ট্যান্ড গিয়া দেখি জম্মু-স্রীনগর রোড ওপেন হয়নাই। তখন একটা হোটেলে গিয়া ব্রেকফাস্ট করি। তারপর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে শুনি রোড ওপেন হতে পারে কিন্তু এখনো কোন নিউজ পাই নাই। তখন একটা শেয়ারজীপ এর যাই। ভাড়া ১০০০ রুপি পার পারসন। কি আর করব জীপে বশেথাকি কিসুখন। ১২ টার দিকে নিউজ পাই যে রোড ওপেন হইছে। তখন আমাদের জম্মু-স্রীনগর এর যাত্রা স্টার্ট হয়। মাঝে একটা হোটেলে বিরতি দেয় খাবার এর জন্যে। আমরা ২ জন ভাত অ্যান্ড মাটন নেই দুপুরের খাবার এর জন্যে। খাবার শেষে আবার যাত্রা শুরু। জম্মু-স্রীনগর রোডে একটা প্লেস ভয়ঙ্কর জায়গা আসে যেখানে মাজে মদ্দ্যে পাহাড় থেকে পাথর পরে। তাই অনেক সাবদানে রাস্তা পার হতে হয়। ভয়ঙ্কর রাস্তা পার হবার কিসুখন পর দেখি স্নোফলের কারনে রোড অফ। কিছু সময় পর পর রোড ওপেন হয়। একটা একটা গাড়ী পার হয় । স্নোফলের কারনে রোড ওয়ান ওয়ে হইয়া গেসে। অনেক কষ্ট করে রাত ১২ টার দিকে আমরা শ্রীনগর পৌছাই। পথে আইআইটি, কাশ্মীর এর এক স্টুডেন্ট এর সাথে পরিচয় হইছিল।আমাদের অনেক হেল্প করছিল কাশ্মিরের আবাহাওয়া, থাকার হোটেল এর বেপারে। রাত ১২ টার দিকে জীপ থেকে নামার পর অনেক দালাল আমাদের গিরে দরল। টার পর একজন আমাদেরকে নিয়ে গেল হউসবোটে থাকার জন্যে। হউসবোটে যাওয়ার পর ২ টাইপের রোম দেখাল। একটা ৮০০ পার পারসন অ্যান্ড ৬০০ পার পারসন। তখন আমরা বললাম আপনাকেত আমরা বলেসিলাম আমাদের ৫০০ – ৬০০ টাকার মদ্দে রুম দরকার। তখন সে বলল ৬০০ টাকাতে দিতে পারি কিন্ত ইলেক্ট্রিক ব্লাঙ্কেট দিতে পারব না তখন আমরা ৭৫০ টাকাতেই রাজি হলাম ইলেক্ট্রিক ব্লাঙ্কেট সহ এক রাত থাকার জন্য। হউসেবোট টা ভালই ছিল ইনডোর অ্যান্ড আউটডোর সব দিক দিয়ে। শ্রীনগরে তাপমাত্রা ২/৩ ডিগ্রী এর মধ্যে ছিল।
পঞ্চম দিনের খরচঃ
ব্রেকফাস্টঃ৮০ রুপি
বাংলাদেশে ফোন কলঃ১০০ রুপি
টিস্যুঃ১০ রুপি
হোটেল বিলঃ১২০০ রুপি
লুঞ্ছঃ১৮০ রুপি
জম্মু- শ্রীনগর জীপ ভারাঃ২০০০ রুপি
মোট খরচঃ ৪২৮৪ টাকা

১৭.১২.২০১৯ (ষষ্ঠ দিন)
সকাল ১০ টার দিকে আমরা ব্রেয়াকফাস্ট অ্যান্ড হোটেল খুজার জন্য বের হই। একটা হোটেল পেলাম ডাল গেট এর কাছে ৩ রাত এর জন্য ১৪০০ টাকাতে। টার পর আমরা হউসবোট ছেড়ে হোটেলে আসলাম। একটু ফ্রেশ হলাম অ্যান্ড রেস্ট নিলাম। তারপর ঘুরাঘুরি করার জন্য বের হলাম । শিকারা ভাড়া করলাম ৪০০ টাকাতে টাইম ফিক্সড না করে। শিকারাতে ঘুরাঘুরি করার জন্য পেকেজ পাওয়া যায়। তারপর শিকারাতে ঘুরাঘুরি স্টার্ট হল। মাজেমধ্য অনেক দোকানদার বিরক্ত করে কিছু কেনার জন্য কিন্তু কেউ কিসু কিনবেন না ভুলকরে। অনেক অনেক রিকুয়েস্ট করবে কিছু কিনার জন্য কিন্তু কিছু কিনবেন না। ডাল লেকে অনেক কিছু আসে দেখার । মিনা বাজার (ভাসমান বাজার )পাবেন ডাল লেকের পাশে। মিনি বাজার থেকে আমরা চাদর, কার্পেট অ্যান্ড কিছু ড্রাই ফ্রূট কিনলাম। অনেক টাইম লেগেছিল। সন্ধার আগেই হোটেলে চলেগেলাম। সন্ধারপর ডাল লেকের পাশদিয়ে অনেক দূর হাঁটলাম। রাত ৮.৩০ টার দিকে হোটেলে চলেগেলাম।
ষষ্ঠ দিনের খরচঃ
লোকাল বাস ভারাঃ৬০ রুপি
এক্সট্রা ঃ ২০ রুপি
ব্রেকফাস্ট ঃ১২০ রুপি
হউস বোট ভাড়া ঃ ৭৫০ রুপি ( পার নাইট )
ডাল লেকের শিকারা ভাড়া ঃ৪০০ রুপি
ফল : ৩০ রুপি
দুপুরের খাবার ঃ ৩৮০ রুপি (খাসির মাংস + ভাত + খাসির টিক্কা )
রাতের খাবার ঃ ১৫০ রুপি ( রক ভিউ রেস্টুরেন্ট )
মোট খরচ ঃ ২২৯০ টাকা
সাবধনতা ঃ ডাললেক থেকে কিছু কিনবেন নাহ।

১৮.১২.২০১৯ (সপ্তম দিন)(সনমার্গ )
পরের দিন ১০ টার দিকে সোনমার্গ যাবার জন্য লোকাল বাস দরলাম। ডাল গেট থেকে ডিরেক্ট সোনমার্গ বাস পাওয়া যায় না। ডাল গেট থেকে শূরা – কাঙ্গান- সোনমার্গ যেতে হয়। শ্রীনগর থেকে সোনমার্গ ৮৫ কি.মি। সোনমার্গ যাওয়ার ৯ কি.মি আগেই পুলিশ চেকপোস্ট আছে সেখানথেকে রোড বন্ধ। পুলিশ কাউকে যেতে দেয় না ঐ চেকপোস্ট এর পর। আমরা কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম সেখানে। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৮-১২ ডিগ্রি। দোকানের সব পানির বোতল অ্যান্ড পেপসির বোতল সব বরফ হইয়ে ছিল। আমরা কিছু খেতে পারি নাই। তারপর আবার একই ভাবে শ্রীনগর চলে আসলাম। আশার পথে কাশ্মীর জামে মসজিদ যাওয়ার ট্রাই করছিলাম কিন্তু অফ ছিল। পরে হোটেলে চলে আসলাম।
সপ্তম দিনের খরচ ঃ
ডালগেট – সমু বাস স্ট্যান্ড ঃ ৮৫ টাকা
সকালের খাবার ঃ ১৪০ রুপি ( চিকেন বিরিয়ানি + চা )
সমু বাস স্ট্যান্ড – সনমার্গ ঃ২২০ রুপি
স্প্রাইট ঃ ১৩৫ রুপি
ড্রাইফ্রুট ঃ ৩০ রুপি
লোকাল বাস ঃ ৩২০ রুপি
লাঞ্চ ঃ ১৫০ রুপি
স্ট্রিট ফ্রুট ঃ১০ রুপি
জুস ঃ ৯০ রুপি
এক্সট্রা ঃ ৩০ রুপি
মোট খরচ ঃ ১৪৫২ টাকা

১৯.১২.২০১৯ (অষ্টম দিন) (গুলমার্গ)
পরের দিন সকাল ১০ টার দিকে আমরা হোটেল ছেড়ে দিলাম । যেহেতু আমাদের ৩ দিনে (১৪০০ টাঁকা) হোটেলে থাকার কথা ছিল তাই ২ দিনে ১২০০ টাকা দিয়ে হোটেল ছারলাম। সকালে ব্রেকফাস্ট করলাম রুটি, ডাল আর ডাল দিয়ে খরচ ১৬০ টাকা। লোকাল বাসে করে ডাল গেট থেকে বাটমালু। ভাড়া ১০ টাকা পার পারসন। বাটমালু থেকে টাংমার্গ ভাড়া ৯০ টাকা করে। হাল্কা বিস্কুট খেলাম খরচ-৬০ টাকা। টাংমার্গ থেকে গুলমার্গ গেলাম ভাড়া ৫০ টাকা করে। টাংমার্গ থেকে কখনও বুট জুতা ভাড়া করবেন না কখনও । অনেক দালালরা আপনাকে বলবে অনেক কথা। যেমন বরফে হাঁটতে পারবেন না আপনার জুতা পরে, গুলমার্গে জুতা ভাড়া পাবেন না আরও অনেক কিছু। গুলমার্গ নামার পর একটা হোটেল ঠিক করলাম ৬০০ টাকা এর মধ্যে। বুট জুতা ভাড়া করলাম ৫০ টাকা দিয়ে পার ডে। কিছুখন ঘুরাঘুরি করার পর ডিনার করার জন্যে একটা মুসলিম হোটেলে গেলাম। ডিনার করলাম ভাত, চিকেন দিয়ে খরচ ২৬০ টাকা। ডিনার শেষ করে হোটেলে চলে গেলাম।
অষ্টম দিনের খরচঃ
সকালের খাবার ঃ ১৬০
হোটেল বিল ঃ ১২০০
ডাল গেট – গুলমার্গ ঃ৩০০ (২ জন)
স্নেক্স ঃ ৬০
ডিনার ঃ ২৭০ (হোটেল দানা পানি )
মোট খরচ ঃ ২৩৮৮ টাকা
সাবধনতা ঃ গুলমার্গ হোটেলের আশেপাশে অনেক বুতজুতা পাবেন। আগে থেকে বুটজুতা ভাড়া করবেন না ।

২০.১২.২০১৯ (নবম দিন)
পরের দিন সকালে দেশে ফিরার প্লান করলাম।সকালে এক কাপ চা আর একটা বিস্কুত দিয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম। হোটেল ছেড়ে দিয়ে গুলমার্গ থেকে জীপে করে টাংমার্গ চলে এলাম। ফ্রেন্ডস ফ্রাই খেলাম তারপর জীপে করে মাগান চলে এলাম খরচ ৪০ টাকা। মাগান থেকে মাজুমা রেলস্টেসন চলে এলাম খরচ ১০ টাকা । রেলস্টেশনে আমাদের ব্যাগ চেক করল পুলিশ। রেলস্টেশন থেকে বানিহাল ট্রেনে করে আসলাম ভাড়া ২৫ টাকা করে। ট্রেন স্টার্ট হওয়া মাত্রই স্নোফল শুর হল। মাঝে মাঝে ট্রেন স্টেশন থামলে আমরা ট্রেন থেকে নেমে স্নোফল এঞ্জয় করলাম। বানিহাল যাওয়ার পথে ৯ কি.মি দীর্ঘ টানেল পরে। টানেল শেষ হওয়া মাত্রই দেখলাম বৃষ্টি । অনেক বৃষ্টি ছিল। তখন তাপমাত্রা অনেক কম ছিল। তখন আমাদের মাথায় একটাই টেনশন ছিল কীভাবে বানিহাল থেকে জম্মু যাব। কিছুক্ষণ পর পর একটা করে বাস আসে আর মানুষ গুলা রহিঙ্গাদের মত যাপিয়ে পরে গাড়ীর জন্য। ট্রেন যাত্রার সময় একদল স্পোর্টস টিমের সাথে আমাদের পরিচয় হইছিল। তাদের সাথে একটা মিনি বাস ভাড়া করলাম জম্মু যাবার জন্য। উঠে পরলাম বাসে । এইটা ত আমাদের কাসে বাস ছিল না ছিল সোনার হরিণ। কিসুখন পর দেখি বৃষ্টি অফ হইয়া স্নোফল স্টার্ট হল। রাস্তা অফ স্নোফলের কারনে। অনেক অনেক ট্রাফিক জ্যাম ছিল । সারা রাত ট্রাফিক জ্যাম এর কারনে রোড অফ ছিল।
নবম দিনের খরচঃ
চা-বিস্কুট+ অন্যান্য ঃ ১০৫
বুট জুতা ভাড়া ঃ১০০
হোটেল ভাড়া ঃ ৬০০
গুলমার্গ- মাজুমা রেল স্টেশন ভাড়া ঃ ২০০
মাজুমা- বানিহাল ট্রেন ঃ ৫০
বানিহাল – জম্মু জীপ ভাড়া ঃ ২২০০
মোট খরচ ঃ ৩৯০৬ টাকা

২১.১২.২০১৯ (দশম দিন)
সকালে আবার গাড়ী স্টার্ট করল। কিছু দূর যাওয়ার পর আবার দেখি রোড অফ। কারন বৃষ্টিয়ের কারনে পাহাড় দস। পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর পরে রাস্তার উপরে।বেলা ৪ টার দিকে আদি মুসলিম হোটেল নামের একটা হোটেলে দুপরের খাবার খাই খরচ পার পারসনঃ১৪০ টাকা । অনেক প্রতীক্ষার পর তানা ৩১ ঘণ্টা পর জম্মুতে পৌছাই। জম্মু রেল স্টেশনে গিয়ে দেখি কিছু বাংলাদেশী। তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে দেখি ঐ দিন ট্রেন ক্যানসেল করসে। কি আর করার পরের দিন হিমগিরি এক্সপ্রেসসের জেনেরাল ক্লাসএর টিকেট কাটলাম কারন স্লিপ্পার ক্লাসের সিট পাই নাই। তাই জেনেরাল ক্লাস এর টিকেট কাটলাম। তখন রাত ১০ টার মত বাজে। ডরমেটরি তে গিয়ে দেখি কোন সিট খালি নাই। তখন বাইরে গিয়ে হোটেল খুজা সম্ভব ছিল না(C-Form নাই অনেক হোটেলে) তাই স্টেশনের এর ওয়েটিং রোমে রাত কাটাই।
দশম দিনের খরচঃ
লাঞ্চ ঃ ২৮০ (আদলি মুসলিম হোটেল , বানিহাল-জম্মু হাইওয়ে)
বাস স্ট্যান্ড – রেল স্টেশন ঃ মোট ৭০ রুপি
এক্সট্রা খাবার ঃ ৯০ রুপি
মোট খরচ ঃ ৫১৬ টাকা

২২.১২.২০১৯ (একাদশ দিন)
সকালে ঘুম্থেকে উঠে ডরমেটরিতে একটা সিট নিলাম ৭০ টাকা দিয়ে। লকারে আমাদের ব্যাগ রেখে বাইরে গেলাম । ব্রেকফাস্ট করলাম ৬০ টাকা দিয়ে পার পারসন। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম অ্যান্ড শপিং করলাম। তারপর স্টেশনে ফিরে গেলাম। স্টেশন থেকে নুডলস খেলাম ৫০ টাকা করে। রাতে বিসমিল্লা হোটেল থেকে ১২০ টাকা করে চিকেন বিরিয়ানি খেলাম। রাত ১০.৪৫ টায় ট্রেন যাত্রা শুরু । যেহেতু ট্রেন জেনেরাল ক্লাসের ছিল তাই তারাতারি করে ট্রেনে উঠে পরলাম। কিছু হাল্কা খাবার নিয়ে নিলাম ট্রেনে খাবার জন্য। জেনারেল ক্লাস ট্রেনে একবার সিট নিতে পারলে আর কোন প্রবলেম হয় না।
একাদশ দিনের খরচ ঃ
ডরমেটরি ভাড়া ঃ৭০ রুপি
বাস ভাড়া ঃ ৩০ রুপি
লাঞ্চ ঃ ১২০ রুপি
নুডুলস ঃ ১০০ রুপি
ডিনার ঃ ১৮০ (বিরয়ানী ) রুপি
ট্রেনের খাবার ঃ১৬০ রুপি
জম্মু – হাওরা জেনেরল ক্লাস এর ভাড়াঃ ৮৬০ রুপি
মোট খরচ ঃ ১৮২৪ টাকা

২৩.১২.২০১৯ (দ্বাদশ দিন)
ট্রেন জার্নি করার সময় মাঝে মাঝে কিছু খাবার কিনে নিতাম স্টেশন থেকে। সারাদিন জার্নি করলাম ট্রেনে করে।
দ্বাদশ দিনের খরচ ঃ
পেয়ারা ঃ ২০ রুপি
অন্যান্যঃ ৫০ রুপি
পানি ঃ ২০ রুপি
কমলা ঃ ২০ রুপি
মোট খরচ ঃ ১৩২ টাকা ( ট্রেনের খাবার আগের দিন কিনে রাখছিলাম তাই আজকের খরচ কম)
২৪.১২.২০১৯ (ত্রয়োদশ দিন)
পরের দিন ১.৩০ মিনিটে হাওরা স্টেশনে পৌছালাম। তখন শপিং করার জন্য সময় পেলাম না কারন ৫.৩০ মিনিটে বেনাপোল পোর্ট অফ হইয়া যাবে। কি আর করার হাওড়া স্টেশন থেকে সরাসরি শিয়ালদাহ স্টেশন চলে গেলাম বাসেকরে। ২.২০ মিনিটে শিয়ালদাহ পৌছে দেখি ২.২৭ মিনিটে বনগাঁও এর ট্রেন। লেট না করে টিকেট কেটে নিলাম। ৪.৩০ মিনিটে পৌছে গেলাম বনগাঁও ট্রেন স্টেশন। স্টেশন থেকে অটোতে করে পোর্ট চলেগেলাম। কিছু সময় পেলাম শপিং করার। হাল্কা কিছু শপিং করার পর পোর্ট পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলাম ১২ দিন পর। পোর্ট থেকে একটা এসি বাসের টিকেট কাটলাম । ৭.২০ মিনিটে বাস স্টার্ট করল। ৩ ঘণ্টা পর জানতে পারি ঘন কুয়াশার কারনে ফেরি বন্ধ। কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আরকি।
ত্রয়োদশ দিনের খরচ ঃ
হাওরা – শিয়ালদাহ বাস ভারাঃ ৩০ রুপি
পিয়ারা ঃ১০ রুপি
শিয়ালদাহ- বনগাঁও ট্রেন ভাড়া ঃ ৪০ রুপি
বনগাঁও- পোর্ট অটো ভাড়া ঃ ৬০ রুপি
পোর্টে এক্সট্রা খরচ ঃ ৩০০ রুপি
রাতের খাবার ঃ১৮০ টাকা
বেনাপোল – ঢাকা বাস ঃ ১৪০০ টাকা
মোট খরচ ঃ ২১১৬ টাকা

২৫.১২.২০১৯ (চতুর্দশ দিন)
পরের দিন ১২ টার দিকে ফেরি চলাচল শুরু হল। ৪ টার দিকে ঢাকা এসে পৌছাই।
চতুর্দশ দিনের খরচঃ
পেয়ারাঃ৬০
অন্যান্য ঃ ৪০
লোকাল বাস ভাড়া ঃ১০০
মোট খরচ ঃ ২০০ টাকা
(সব হিসাব রুপি থেকে টাকাতে কনভার্ট করে হিসাব করা হইছে)

ঢাকা – কাশ্মীর ট্যুরের মোট খরচঃ
প্রথম দিন ঃ ১১৪৫ বাংলাদেশি টাকা
দ্বিতীয় দিন ঃ ৪০৩০ বাংলাদেশি টাকা
তৃতীয় দিন ঃ ১৯৮ বাংলাদেশি টাকা
চতুর্থ দিন ঃ ৬৪৩ বাংলাদেশি টাকা
পঞ্চম দিন ঃ ৪২৮৪ বাংলাদেশি টাকা
ষষ্ঠ দিন ঃ ২২৯০ বাংলাদেশি টাকা
সপ্তম দিন ঃ ১৪৫২ বাংলাদেশি টাকা
অষ্টম দিন ঃ ২৩৮৮ বাংলাদেশি টাকা
নবম দিন ঃ ৩৯০৬ বাংলাদেশি টাকা
দশম দিন ঃ ৫১৬ বাংলাদেশি টাকা
একাদশ দিন ঃ ১৮২৪ বাংলাদেশি টাকা
দ্বাদশ দিন ঃ ১৩২ বাংলাদেশি টাকা
ত্রয়োদশ দিন ঃ ২১১৬ বাংলাদেশি টাকা
চতুর্দশ দিন ঃ ২০০ বাংলাদেশি টাকা
মোট খরচ ঃ ২৫১২৪/২ = ১২৫৬২ বাংলাদেশি টাকা।

মোট খরচ ঃ ১২৫৬২ টাকা পার পারসন(ট্রাভেলার ২ জন)

(বাজেট ট্যুর আপনি চাইলে বেশি খরচ করতে পারেন। টাকা খরচ করার অনেক জায়গা আছে কাশ্মিরে)

সতর্কতাঃ দয়াকরে সব জায়গায় ভদ্রতা বজায় রাখুন আর প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল জিনিস এখানে সেখানে ফেলবেন না। প্রকৃতি পরিস্কার রাখার দায়িত্বও আপনার। মনে রাখবেন ধনী-গরীব যেই হোক না কেন প্রকৃতির কাছে সবাই সমান।

বিশেষ সতর্কতাঃ ঃ শীতের সময় বাই রোড কাশ্মীর কখনও যাবেন না। বাই রোডে আমাদের অনেক বাজে অবিজ্ঞতা হইছে। শীত কালে আপনি বাই রোডে গেলে কবে শ্রীনগর পৌছাতে পারবেন নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। ১ মাস আগে থেকে বিমানের টিকেট কাটলে অনেক কমে পাওয়া যায়। অবশ্যই অবশ্যই মনে রাখবেন শীতকালে বাই রোডে কাশ্মীর যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। বাড়িতে অবশ্যই অবশ্যই বলে যাবেন যত দিন কাশ্মিরে থাকবেন তত দিন ফোন কল দিতে পারবেন না ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com