মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:৪১ অপরাহ্ন

সিক্কিম ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা

সিক্কিম ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা

সিক্কিম ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা।

সিক্কিমের সৌন্দর্য একেক মৌসুমে একেক রকম। আমি গিয়েছিলাম জানুয়ারি মাসের কনকনে ঠান্ডায় যখন কিছু কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ছিলো মাইনাসে। জীবনের প্রথম স্নোফল দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল যেই অনুভুতি বলে বুঝানো অসম্ভব।
গ্রুপে সিক্কিম ভ্রমণ নিয়ে যথেষ্ট সুন্দর সুন্দর লেখা পড়েছি যেখানে কম খরচে সিক্কিম ঘুরার বিস্তারিত দেয়া আছে। তবে একটু ভালো থাকতে আর খেতে হলে খরচটাও কিন্তু বেশি হয়। তবুও সিক্কিম ভালোভাবে ঘুরতে ১৫০০০-১৮০০০ টাকার বেশি লাগে না আসলে।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

আমার পোর্ট ছিল বাংলাবান্ধা ফুলবাড়ি পোর্ট। ঢাকা থেকে প্রথমে গিয়েছি পঞ্চগড় ট্রেনে করে। ট্রেনটির নাম হচ্ছে দ্রুতযান এক্সপ্রেস আর এসি চেয়ার কোচের ভাড়া হচ্ছে ১০৫৩টাকা ভ্যাট সহ। ট্রেন যথারীতি লেট 😐 ৮.৩০টার জায়গায় ছেড়েছিলো ৯.১৫মিনিটে। ভালোই ছিলো ট্রেনের সার্ভিস কিন্তু লোকাল বাসের মত প্রতিটা স্টেশনে থামছিল বলে পঞ্চগড় যেয়ে পৌছাই সকাল ১০ টায়। সেখান থেকে লোকাল বাসে করে বাংলাবান্ধা যেতে যেতে ১১.৩০ টা। সময় বাঁচাতে চাইলে বাসে যাওয়া বেটার। এবার ইমিগ্রেশন অফিসের পাশের একটা হোটেলে নাস্তা করে চলে গেলাম ইমিগ্রেশন অফিসে। যারা জব করেন তাদের এনওসি দেখতে চাইতে পারে কাজেই এক্সট্রা কপি সাথে নেয়া বেটার। আমারটা দেখতে চেয়েছিলো আর ক্যামেরা থাকলে অবশ্যই পাসপোর্টে লিখিয়ে নিবেন।
বাংলাদেশ সাইডে স্পিড মানি দিয়েছিলাম ২০০ টাকা আর ইন্ডিয়ান সাইডে দিয়েছিলাম ১০০ টাকা। বাংলাদেশী ইমিগ্রেশনে স্পিড মানি অফিসাররা নিজেরা চেয়ে নেয় না, দালাল টাইপের লোকজন আছে ওরাই বলে নেয়। কিন্তু ইন্ডিয়ান কাস্টমসের অফিসাররা সরাসরি নিজেরা চেয়ে নেয় টাকা অথবা রুপি। কি অদ্ভুত!

এবার ইমিগ্রেশন অফিস থেকে বের হয়ে মানি এক্সচেঞ্জ করে নিয়েছিলাম। কয়েকটা মনি এক্সচেঞ্জ ঘুরে দেখলে ভালো। যে ভালো রেট দিবে তার থেকেই মানি এক্সচেঞ্জ করা বেটার। গ্যাংটকের এমজি মার্কেটে মানি এক্সচেঞ্জ করা যাবে তবে রেট অনেক কম পাবেন। এরপর ভোডাফোন এর সিম নিলাম ৫০০ রুপি দিয়ে। সত্যি বলতে সার্ভিস জঘন্য ছিলো, বেশিরভাগ সময় নেটওয়ার্কই ছিলোনা। আর সিক্কিমের হোটেল গুলোর ওয়াইফাই সার্ভিসও এভারেজ।
এরপর একটা অটোরিকশা নিয়ে গেলাম সিক্কিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্টে অর্থাৎ এসএনটিতে। এখান থেকে সিক্কিমের পারমিশন নিয়ে গেলে সুবিধা হয়। শিলিগুড়ি থেকে এসএনটি যাওয়ার অটোর ভাড়া ছিলো ৩০০ রুপি (৪ জন) এসএনটিতে যেয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে আর সাথে দিতে হবে এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি,পাসপোর্টের ইনফরমেশন পেইজের ফটোকপি আর ইন্ডিয়ান ভিসার ফটোকপি। এরপর তারা ইনার লাইন পারমিট এর কাগজ দিবে যেটার কয়েক কপি করে নিবেন কারন এই পারমিশন পেপারটা সিক্কিমের সব জায়গায় যাওয়ার জন্য দরকার হবে।

আমরা এসএনটির বাসে সিক্কিম যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু বাস ছাড়ার শেষ সময় হচ্ছে ৩টা। শেয়ারড জীপে যাওয়া মহা পেইন। কিন্তু এখানে এসে পৌছেছিলাম বিকাল ৪.৩০ টায় আর ট্যাক্সি পেয়ে রওনা দিতে দিতে ৬ টা। রংপো চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায় রাত ৮টায়। ড্রাইভার মনে হয় রেসিং কার খেলায় পটু,তিনি ৩-৪ ঘন্টার রাস্তা ২ ঘন্টায় পাড়ি দিয়েছিলেন। বলা বাহুল্য যে কিভাবে চালিয়েছেন। জীপের অনেকে মোশন সিকনেসের কারনে বমি করে একাকার অবস্থা। ৮ টা বাজার ঠিক ৫ মিনিট আগে রংপো যেয়ে পাসপোর্টে সিক্কিমের এনট্রি সিল নিয়ে এবার গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে শুরু হলো যাত্রা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যত উপরে যাচ্ছিলাম ততই ঠান্ডা লাগছিলো আর কী সুন্দর রাস্তা। নেপালের থেকেও সুন্দর।
ঠিক রাত ১০ টায় যেয়ে পৌছালাম সিক্কিম।তখন অলরেডি ২ ° ছিলো টেম্পারেচার, ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে আামাদের হোটেলে পৌঁছালাম। আমাদের হোটেলটি ছিলো একদম সেন্টার পয়েন্টে,এখান থেকে লালবাজার, এমজি মার্কেট,ট্যাক্সিস্ট্যান্ড সব ৩-৪ মিনিট হাঁটার পথ। হোটেল এমবা রিজেন্সির রুম রেন্ট ২৩০০ রুপি যেখানে একটা ডাবল বেড আর একটা সিংগল বেড আছে যা তিনজন থাকার জন্য বেশ ভালো। তবে রুম হিটার আলাদা নিতে হয়েছে যার জন্য প্রতিরাত চার্জ নিয়েছিলো ২০০ রুপি। ঠিক রাত ১১টার পর টেম্পারেচার যখন শূন্যের কোঠায় তখন মনে হয়েছিল এই শীতে জুবুথুবু অবস্থা, না জানি লাচুং এর মাইনাস ডিগ্রিতে কী অবস্থা হবে আমাদের।
সকালে হোটেল রুফটপ থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেলাম। বারবার মেঘে ঢেকে যাচ্ছিল যদিও কিন্তু এত সুন্দর দৃশ্য দেখা যে বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার 😇

এভাবে শুরু হলো গ্যাংটকের প্রথম দিন।
গ্যাংটক এত সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আর ওখানে সবাই এত সচেতন পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে, কাজেই শুধু সিক্কিম কেনো পৃথিবীর সব জায়গা সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

To be continued….

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com