মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:১৪ অপরাহ্ন

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ

তুলনামূলক কোলাহল মুক্ত জায়গা হিসেবে ভ্রমণের জন্য নিঝুম দ্বীপকে আমার একটি আদর্শ স্থান বলেই মনে হয়।নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি দ্বীপ যা সরকার ঘোষিত একটি জাতীয় উদ্যান।নিঝুম দ্বীপ হরিণের অভয়ারণ্য হওয়ায় তা প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিয়াসীদের নিকট অতিপছন্দের একটি জায়গা।

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন দুইটি লঞ্চ নিয়মিত হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।বিকাল ৫.৩০ মিনিটে ফারহান-৪ এবং সন্ধ্যা ৬ টায় তাসরিফ-১।লঞ্চে নন এসি ডাবল কেবিন ভাড়া ১৮০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা।তবে আপনারা যদি গ্রুপ করে যান এবং একটা ডাবল কেবিন নেন তবে সেই ক্ষেত্র বাকি সদস্যদের ডেকের ভাড়া ৩৫০ এর পরিবর্তে ২০০ করে রাখবে।তবে অবশ্যই লঞ্চে ওঠার সময় এ ব্যাপারে কথা বলে নেবেন।লঞ্চ বালুচরে আটকে না গেলে মোটামুটি সকাল ৮ টার মাঝেই পৌঁছে যাবেন হাতিয়ার তমরদ্দিন ঘাট।তমরদ্দিন ঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায় দুইটি।একটি বাইকে অপরটি ট্রলারে।
বাইকে গেলে তমরদ্দিন ঘাট থেকে ১৫০ টাকা প্রতি জনে প্রথমে যেতে হবে মোক্তারিয়া ঘাট।সেখানে ৬০ টাকা ভাড়ায় স্পিড বোটে নিঝুম দ্বীপের ঘাট এবং সেখান থেকে আবার ৫০ টাকায় বাইকে নিঝুম দ্বীপ।
ট্রলারে আবার দুইভাবে যাওয়া যায়।সকাল বেলা বেশ কিছু মাছ ধরা ট্রলার অনিয়মিত ভাবে তমরদ্দিন ঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ নামার বাজারে যায়।তাদের সাথে গেলে জনপ্রতি ২০০ টাকায় নামার বাজার যাওয়া যায়।আর যদি মাছ ধরা ট্রলার না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৪৫০০ টাকায় নৌকা রিজার্ভ করে তমরদ্দিন ঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে পারবেন।

যেখানে থাকবেন এবং যেখানে ঘুরবেনঃ
তমরদ্দিন থেকে নামার বাজার যেতে যেতে আপনাদের মোটামুটি দুপুর ১২ টা বেজে যাবে।আপনারা চাইলে এই দিন রিসোর্টে থেকে যেতে পারেন।চাইলে তাঁবুতে ক্যাম্পিং ও করতে পারেন।তবে আমার মতে প্রথম দিন রিসোর্ট বা বোডিং এ থাকাই ভাল।নিঝুম দ্বীপে অনেক রিসোর্ট ও বোডিং আছে।এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামী হচ্ছে মসজিদ বোডিং।এখানে পরিবেশ কিছুটা নরমাল হলেও দাম অনেক কম।ডাবল বেডের রুম ৫০০ টাকা(শুক্রবারে ৮০০)।অন্যান্য রিসোর্টে ১০০০-১৫০০ টাকায় রুম পেয়ে যাবেন।
এদিন নিঝুম দ্বীপ নেমে রুম নিয়ে নিন।পরে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন নিজের মত করে নিঝুম দ্বীপ দেখতে।চাইলে ৫০ টাকা ঘন্টায় সাইকেল বা ৩০০ টাকা ঘন্টায় বাইক নিতে পারেন নিঝুম দ্বীপ চষে বেড়ানোর জন্য।এদিন মূলত সি বিচ গুলো ঘুরে দেখবেন।সন্ধ্যায় পরের দিন ক্যাম্পিং করার জন্য তাঁবু এবং বার বি কিউ এর ব্যবস্থা করতে পারেন।নিঝুম দ্বীপে অনেকেই ক্যাম্পিংয়ের জন্য তাঁবু ভাড়া দেয়।তবে আপনারা বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পিং করতে পারেন।বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।সেক্ষেত্রে আপনাদের প্রতিটি ডাবল বেড তাঁবুর জন্য ৫০০ টাকা দিতে হবে।আপনারা চাইলে বার বি কিউ এর সব ব্যবস্থাও তারাই করে দেবে।
পরের দিন সূর্য ওটার পরপরই একজন গাইড নিয়ে চলে যাবেন ছোয়াখালির উদ্দেশ্যে।নিঝুম দ্বীপের ছোয়াখালি অংশে সবচেয়ে বেশি হরিণ আছে।তবে এদের দেখতে খুব সতর্ক থাকতে হয় এবং একজন অভিজ্ঞ গাইড লাগে।নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে এই অংশটি সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ।ছোয়াখালিতে হরিণ দেখা শেষে দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়তে হবে কবিরাজের চর,কমলার চর আর চৌধুরি খালের উদ্যেশ্যে।এর জন্য ট্রলার রিজার্ভ করা প্রয়োজন।তবে ভাল হবে যদি বন বিভাগের ট্রলারে যান।বন বিভাগের ট্রলারে জন প্রতি ২০০ টাকায় জায়গা গুলো ঘুরতে পারবেন।বন বিভাগের ট্রলার এমন ভাবে টাইম মেইনটেইন করে যেন ফিরতি পথে চৌধুরি খালে হরিণ দেখা যায়।সব শেষে রাতে তাঁবুতে ফিরে বার বি কিউ ইনজয় করে ঘুম।
পরদিন সকালে ফেরার পালা।ফেরার পথেও হয় আপনাকে মাছ ধরা ট্রলারে অথবা ট্রলার রিজার্ভ করে তমরদ্দিন ঘাটে আসতে হবে।তমরদ্দিন ঘাট থেকে দুপুর ১২ টায় এবং ১.৩০ এ লঞ্চ গুলো ঢাকায় ফিরে আসে।তবে আপনারা চাইলে তমরদ্দিন থেকে মনপুরা ভোলা অথবা নোয়াখালি হয়েও ঢাকায় ফিরতে পারেন।

সবশেষ কথা নিঝুম দ্বীপের পরিবেশ এখনও অনেকটাই ভাল আছে।আপনারা চেষ্টা করবেন আপনাদের দ্বারা যেন দ্বীপের পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয়।নিঝুম দ্বীপে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার আলাদা কোন স্থান আমার চোখে পড়ে নি।তাই চেষ্টা করবেন প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বীপে না ফেলে সাথে করে নিয়ে আসতে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com