মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

ভূস্বর্গ_কাশ্মীর 🏔 রাজাদের_রাজস্থান 👑 শাহ্জাহানের_আগ্রা ❤

ভূস্বর্গ_কাশ্মীর 🏔 রাজাদের_রাজস্থান 👑 শাহ্জাহানের_আগ্রা ❤

ভূস্বর্গ_কাশ্মীর 🏔 রাজাদের_রাজস্থান 👑 শাহ্জাহানের_আগ্রা ❤

কাশ্মীর-রাজস্থান-আগ্রা ভ্রমণ (যারা বাজেট ট্যূর দিতে চান তাদের কাজে লাগবে)। মোট ১৬ দিনের ট্যূর (২০ জানুয়ারি -৫ ফেব্রুয়ারি)

পর্ব ১(#কাশ্মীর) : ভূ স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণের স্বপ্ন সবারই থাকে।আর যারা স্নো দেখতে চান তাদের জন্য এটাই বেস্ট সময়। এজন্য আগে থেকেই প্ল্যান করে আমরা ৮ বন্ধু ২০ জানুয়ারি বেনাপোল এক্সপ্রেস রওনা দেই কাশ্মীর এর উদ্দেশ্যে। আমাদের পুরো ট্যূর এ ইন্ডিয়ার সব ট্রেনের টিকেট ১.৫ মাস আগে থেকেই কাটা ছিল।আমরা ২১ তারিখ বিকালে কলকাতায় পৌছে যাই। ওইদিন রাত ১১ঃ৫৫ তে হাওড়া টু জম্মু ট্রেন। মাঝের সময়টা একটু কোলকাতা ঘুরে নিলাম। হাওড়া ব্রীজ,কোলকাতার মিষ্টি,বিরিয়ানি খেয়ে সময় পার করলাম। হিমগিড়ি এক্সপ্রেস ২৩ তারিখ দুপুর ১ টায় জম্মু নামায় আমাদের। জম্মু নেমেই দুঃসংবাদ পেলাম। বরফ পরার কারণে রোড ওয়ান ওয়ে হয়েছিল। যেদিন জম্মু গেলাম আমরা ওইদিন কাশ্মীর থেকে জম্মু গাড়ি আসার পারমিশন আছে। তবু কি আর করা,স্টেশন এর পাশে ট্যূরিজম অফিস থেকে প্যাকেজ নিয়ে নেই। প্যাকেজ এর মধ্যে যাতায়াত,হোটেল ইনক্লুড ছিল।অতঃপর যা আছে কপালে এই ভেবে রওনা দিলাম কাশ্মীর এর উদ্দেশ্যে। রাত ১১ টার দিকে জওহর টানেল এর সামনে আটকা পড়ে যাই।এরপর ভোর ৩ঃ৩০ টা পর্যন্ত মাইনাস ১০° ডিগ্রীতে গাড়িতে অপেক্ষা করতে থাকি 🥶। পরদিন সকালে শ্রীনগর পৌছে যাই।হোটেলে হালকা ফ্রেশ হয়ে রওনা দেই গুলমার্গ এর উদ্দেশ্যে। এ সময় পুরো কাশ্মীর বরফে আচ্ছাদিত থাকে। রাস্তার পাশে ৩-৪ ফিট উচু বরফে ঢাকা৷ গুলমার্গ যেয়েই বুঝতে পারি কেন কাশ্মীরকে ভূ স্বর্গ বলা হয়।চারদিকে সাদা শূভ্র বরফের খেলা। গুলমার্গ এ স্লেজ,স্কি,রোপওয়ে সহ অনেক একটিভিটি আছে। আমাদের পার পার্সন গুলমার্গ এর খরচ হয় ১৫০০ টাকা৷ গুলমার্গ থেকে ফেরার পথে কাশ্মিরি শাল কিনলাম।আর রাতে শ্রীনগরে কাশ্মীরের ফেমাস খাবার ওয়াজয়ান খেলাম।

২৫ জানুয়ারি সকালে উঠে প্রথমে চলে গেলাম ডাল লেক এ।সেখানে শিকারা রাইড নিয়ে লেক ঘুরলাম।সেখান থেকে চলে গেলাম পরীমহলে।এখান থেকে ভাল ভিউ পাওয়া যায় পুরো ডাল লেকের। এরপর রওনা দিলাম পাহেলগাম এর দিকে।শ্রীনগর থেকে পাহেলগাম এর জার্নি লাইফের অন্যতম সেরা একটা জার্নি ছিল। যেদিকে তাকাই সব বরফে ঢাকা। পাহেলগাম এ দিনের বেলাও তাপমাত্রা মাইনাস ৬°-১০° থাকে। আমাদের ভাগ্য ভালো থাকায় পাহেলগামে স্নোফল ও পেয়ে যাই। পাহেলগাম এ নেমে প্রথমে হোটেল(গোল্ডেন সিটি) ঠিক করি। এরপর ঘোড়ায় চরে বাইসারান ভ্যালি ঘুরে আসলাম। রাতে হোটেল থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই, তাপমাত্রা মাইনাস ২০° ডিগ্রীতে নেমে গেছিল। পরের দিন ভোরে রওনা দিলাম জম্মুর উদ্দেশ্যে কিন্তু বিধি বাম।আবারো সেই ওয়ান ওয়ের ঝামেলা। অগত্যা Quazigund এ স্টে করলাম। একদিক দিয়ে ভালোই ছিল এই এক্সপেরিয়েন্স। কাশ্মীরের গ্রামীণ অঞ্চলে বরফ ঢাকা পথে ঘন্টার পর ঘন্টা হাটা জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। পরেরদিন (২৭ জানুয়ারি) ভোরে গাড়ি ছেড়ে দিলে আমরা চলে আসি জম্মু।

#খরচ (পার পার্সন হিসেবে) 💸
1) ঢাকা টু বেনাপোল -৪৮০
২) বেনাপোল থেকে বনগা ও বনগা লোকাল -৩০
৩)হিমগিরি এক্সপ্রেস(হাওড়া টু জম্মু) নন এসি স্লিপার-৭৫০
৪) জম্মুতে ট্যূর প্যাকেজ-৪০০০
৫)গুলমার্গ এ খরচ-১৫০০
৬)শিকারা রাইড-250
৭)পাহেলগামে হোটেল (গোল্ডেন সিটি)-২২৫
৮)হর্স রাইড -৪০০
(এখানে খাওয়া দাওয়া আর ছোটখাট স্পটে এন্ট্রি ফি দেয়া হয় নি। সাধারণত ১০০-১৫০ তে প্রতি বেলা খাওয়া যায়, আর স্পটে এন্ট্রি ফি ছিল ২০-৪০ রুপির মধ্যেই)
মোটামুটি সব মিলিয়ে ১০০০০ রুপি খরচ হয়েছিল শুধু কাশ্মীরে ঘুরতে।(বিদ্রঃ এটা শুধু জম্মুতে নামার পর কাশ্মীরে ঘুরার খরচ)

#সতর্কতা🚷
* জানুয়ারি এর এ সময় কাশ্মীরের তাপমাত্রা মাইনাসে থাকে। তাই যথেষ্ট শীতবস্ত্র নিয়ে যাবেন।
*যেকোন কিছু দামাদামি করবেন। না করলেই ঠকবেন।
*কম্বল রাখবেন সাথে। নাহলে ট্রেনে ঘুমাতে পারবেন না।এছাড়া স্টেশন থেকে ১৫০ রুপিতে কম্বল কিন্তে পাওয়া যায়।
*যেকোন হোটেলে খাওয়ার আগে প্রাইস দেখে নিবেন।
*রাস্তায় প্রচুর আর্মি দেখে ঘাবড়াবেননা৷ চেকিং হবে, ছেড়ে দিবে।

“পরিশেষে বলব কাশ্মীর স্বর্গের মতই সুন্দর। তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।কাশ্মীরিদের সংস্কৃতি শ্রদ্ধা করবেন।”

পরবর্তী পর্বে #রাজস্থান,#আগ্রা ট্যূর ডিটেইলস থাকবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com