শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

রাতের অর্ধেক ইতালীর মিলানে

রাতের অর্ধেক ইতালীর মিলানে

রাতের অর্ধেক ইতালীর মিলানে

সন্ধ্যা প্রায় ছয়টা। দ্রুতগামী “ইটালো” ট্রেনটি মিলানের “মিলানো সেন্ট্রাল” Milano Centrale Railway Station এসে পৌঁছে। ভেনিসের সান্তালুসিয়া ট্রেন স্টেশন থেকে বিকাল তিনটায় রওনা দিয়েছিলাম। প্রায় ৩০০ কি. মি. পাড়ি দিয়ে তিন ঘন্টার জার্নি শেষে এলাম এক অন্য জগতে। মিলানের বিশাল ট্রেন স্টেশনটি দেখে আমি অভিভূত। চারিদিকে ভাল করে দেখে নেয়া যাক । বাইরে বেড়িয়ে দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। অপেক্ষা না করে ভিজতে ভিজতে সামনে কিছুদুর গিয়ে একটি বড় মার্কেটের নীচে দাঁড়াই। ভাবছি, কিভাবে দুউমো (Duomo di Milano) যাবো। ওখানে রয়েছে মিলানের বিখ্যাত স্থাপনা গুলো যা দুউমো ক্যাথেড্রালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। গুগোল ম্যাপ দেখে খুঁজছি মেট্রো স্টেশন। ঠিক তখনি ওমান থেকে ছোট ভাই মনসুর ফোন করে। তার সাথে আলাপ করতে করতে কাছেই মেট্রো স্টেশন পেয়ে যাই। ভেনিস থেকে আসার পথে পাশে বসা ইতালীয় এক সুন্দরী রমনীর সাথে আলাপ হয়েছিল। মহিলাটি ইংরেজি জানেনা বললেই চলে তবুও ইশারায় কিংবা একটি শব্দ বার বার বলে বোঝানোর মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদান হয়েছে। তার কাছ থেকেই বিখ্যাত দু’উমোতে যাওয়ার পথ জেনে নিয়েছিলাম। মেট্রো কার্ড ক্রয়ের জন্য খুচরা নেই। মাত্র দুই ইউরো প্রয়োজন। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম ক্রেডিট কার্ড দিয়েও টিকেট কেনা যায়। দ্রুত কার্ড ব্যবহার করে মেশিন থেকে মেট্রোর টিকেট কাটি।

মেট্রো চলছে। উপভোগ করছি রাতের মিলান। মেট্রোর জানালায় যা কিছু দেখা যায় সব। মিলান ইতালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর । জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে রোমের পরেই মিলানের স্থান। এটি অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিকের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেট্রোতে ভীড় তেমন নেই। কিছুক্ষনের মধ্যেই দুউমো স্টেশনে পৌঁছাই। স্টেশন থেকে বের হতে গিয়ে মনে পড়ল। হায় ! হায় ! টিকেটটি তো ওই স্টেশনে প্রবেশ পথের মেশিনে ফেলে এসেছি। এখন কি হবে ? টিকেট ছাড়া বেরুবো কিভাবে ? ভয় পেয়ে গেলাম। এক্সিড মেশিনগুলোর সাথে লাগোয়া একটি কক্ষ চোখে পড়ল। যেখানে স্টেশনের একজন তরুন কর্মকর্তাকে দেখলাম। অগত্য ব্যাপারটা তাকে জানালাম। এই কর্মকর্তা আমাকে কিছু প্রশ্ন করে নিশ্চিত হতে চাইলেন যে, আমি সত্যি টিকেট করেছি কিনা। পরে তিনি তার কার্ড ব্যবহার করে আমাকে স্টেশন থেকে বেড়িয়ে আসার ব্যবস্থা করলেন। জানিয়ে দিলেন যেন এমনটি আর না করি।

ভূ-গর্ভস্থ স্টেশন থেকে যখন উইপোকার মতো বেড়িয়ে পড়ি তখন উপরের আলোকোজ্জল শহরের অপরূপ দৃশ্য। চোখ ধাধাঁনো রূপ। স্বপ্নের মতো লাগছে। রাতের আলোকসজ্জায় ইতালির বিখ্যাত পুরোনো ক্যাথিড্রাল “মিলান ক্যাথিড্রাল (Duomo di Milano)” এতো বিশাল হবে ভাবতে পারিনি। কি জমকালো কারুকাজ। সামনের প্রাঙ্গনটা বিশাল । প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে সম্পন্ন এই ক্যাথিড্রালটি বিস্বয় ভরে দেখছি। ক্যাথিড্রালের পাশে এক বৃদ্ধ বেশ মনদিয়ে কিছু প্রতিকৃতির ছবি আকঁছে। দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখলাম তার আঁকা। রাতেই ফ্লিক্সবাসে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে যাব। এই মনোরম পরিবেশ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হচ্চে না। তবুও ঘন্টা দু’এক সময় কাটিয়ে আবার মেট্রোতে চলে যাই ল্যাম্পুগানো বাস স্টেশনে।
বাস স্টেশনে প্রচণ্ড ঠান্ডা । বাতাসে আমার শরীর বরফে পরিনত হচ্ছে। নভেম্বরের শেষের দিকে শীতের প্রকোপটা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দুউমোতে ক্যাথেড্রালের কিছু ছবি তুলতে গিয়ে মাথার ক্যাপটি ভূলে ফেলে এসেছি। ক্যাথিড্রালের সামনে একটি লাইট পোস্টের নীচে কিছুক্ষন ছিলাম। মনে হচ্ছে সেখানেই ফেলে এসেছি। এই শীতে এটির প্রয়োজনীয়তাটা ভালভাবে টের পাচ্ছি। বাস স্টেশনের পাশেই মেট্রো স্টেশন। আশ্রয় নিলাম সেখানে। দেখি আমার মতো অনেক যাত্রীই স্টেশনের ভিতরে অপেক্ষা করছে। অনেকে পরিবার-পরিজন ও বাচ্ছা-কাচ্ছা সহ আছে। মেট্রো স্টেশনে যদিও বসার ব্যবস্থা নেই তবে প্রচুর জায়গা। কেউ কেউ ফ্লোরে বসে পড়েছে। আমিও বসে পড়লাম। স্টেশনের ভিতরেও ঠান্ডা। স্টেশনের আশেপাশে কতক্ষন হাটাঁহাঁটি করছি। আবার বসে অপেক্ষা করছি। কপি খাচ্ছি। তৃষ্ণা মেটাতে কোকও খেলাম একটি। এরই মধ্যে হাতের গ্লাভ্স হারিয়ে ফেল্লাম। অনেক খোজাখুজির পর আবার পেলামও। সময় জানতে গিয়ে এক আফগান তরুন ছেলের সাথে পরিচয় হলো। সে গ্রীসে থাকে। অন্য বাসে করে জার্মানীর মিউনিখে যাবে। অনেক আলাপ হলো। দীর্ঘ পায়চারী ও প্রতিক্ষার পর নির্ধারিত সময় রাত ১২টায় জুরিখের উদ্দেশ্যে ফ্লিক্স বাস মিলান ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত বারটার মধ্যে অনেক অভিজ্ঞতা হলো ইতালরি এই বিখ্যাত শহর মিলানে।

> আসুন আমরা পরিবেশ সচেতন হই। পরিবেশ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যত্র তত্র ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলবেন, পরিবেশ সুন্দর থাকবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন। প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com