মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

কারফিউ_এ_কাশ্মীরে

কারফিউ_এ_কাশ্মীরে

কারফিউ_এ_কাশ্মীরে

কাশ্মীরের কমন স্পট নিয়ে অনেক পোস্ট আছে।তাই এখানে একটা নতুন জায়গা আর কাশ্মীরের মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে লিখতে যাচ্ছি।
দিল্লি থেকে শ্রীনগরের ফ্লাইটের কয়েক ঘন্টা আগে জানতে পারলাম কাশ্মীরে জরুরী অবস্থা।অমরনাথ যাত্রা স্থগিত,ট্যুরিস্ট দের চলে যেতে বলা হচ্ছে।তবুও সব কিছু বিবেচনা করে কাশ্মীর যাবার ডিসিশন টাই বেছে নিলাম।ট্যুরমেট -আমার সাথে আমার ভার্সিটির ছোটো ভাই Ahad.

৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখ খুব ভোরে রওনা হলাম।লাখ লাখ সশস্ত্র আর্মি রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে।শহরে শ্মশান এর মতো নিরবতা।এর সাথে প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে ট্যাংক আর রাইফেল তাক করা আর্মি।চেকপোস্ট গুলোয় ট্যুরিস্ট বলায় ছেড়ে দিলেও গন্ডগোল টা বাধায় গুলমার্গ এর গেটে ট্যুরিস্ট পুলিশ।কোনো মতেই ভিতরে এলাউ করলো না।

Bhat Asif(কাশ্মীরী,শ্রীনগর) এর কল্যানে চললাম গুল্মার্গ এর বা দিকের রাস্তায় Drung এর পথে।চারপাশে বিশাল উঁচু পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বরফ গলা নদী।এই নিয়েই ড্রাং।এখানে Highway মুভির শুটিং ও হইছে।জায়গাটা আসিফ ভাই এর জন্য ও নতুন।যেহেতু আন এক্সপ্লোরড জায়গা।এক্সপ্লোর এর জন্য চায়ের দোকান গুলো পেরিয়ে চললাম ভিতরের দিকে।যতই সামনে যাওয়া যায় ততই ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়।ট্রেকিং প্রিয় মানুষ হওয়ায় জায়গাটা আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে।কিছু দূর যাবার পর হাতের ডান দিকের একটি পাহাড়ের চূড়ায় যাবার জন্য মনস্থির করলাম।

পুরো পাহাড়টি ল্যান্ড স্লাইডের।দেখতে সোজা মনে হলেও উপরে উঠাটা খুবই ডেঞ্জারাস ছিলো।ভাগ্য খারাপ থাকলে মাঝপথ থেকে হাজারো পাথর নিয়ে নিচে পড়াটা খুব বেশি কঠিন ছিলোনা।তবে পাহাড়ের প্রথম ধাপে উঠার পর যা আবিষ্কার করলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।প্রথম ধাপের ওই দিক থেকে একটা পাহাড়ি রাস্তা চলে গেছে গুল্মার্গ যাবার।ঘন্টা খানেকের ওই রাস্তা পাড়ি দিলেই গুল্মার্গ।এভাবেই গুল্মার্গ, ড্রাং প্যাকেজ পেয়ে গেলাম।

কাশ্মীরী মানুষের আতিথেয়তা সম্পর্কে কিছু না বললে পাপ হবে।১ মাস আগে পরিচয়,প্যাহেলগামের Lone asif এর সাথে।কাশ্মীরের ওই অবস্থার জন্য ছেলেটা অনেক ডিরেকশন দিছে ফোন দিয়ে দিয়ে।প্যাহেলগামে পৌছাতেই আমাকে ওর বাসায় নিয়ে সকালের নাস্তা করাইলো।খাওয়া দাওয়া শেষে ওর সাথে ঘুরতে বের হলাম।অরু ভ্যালি,বেতাব ভ্যালি,বাইসারান ঘুরে দুপুরে আবার ওর বাসায় লাঞ্চ।এতো বেশি আমি কল্পনাও করিনি।আমার ইচ্ছা ছিলো পেহেলগামে ২ দিন থেকে তুলিয়ান লেকে যাওয়ার।ছেলেটা চাইলে ভালো রকমের সুযোগ নিতে পারতো।কিন্তু ওই সিচুয়েশনের জন্য আমাকে শ্রীনগর চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলো।যাওয়ার সময় রাতের খাবার টা পর্যন্ত দিয়ে দিলো।আর খরচ!এতো কমে যা আগে কেউ পায় নি আমি সিওর।

এইবার আসি শ্রীনগর এর Asif Bhat এর প্রসঙ্গে।জরুরি অবস্থার জন্য ২০ কিমি দূর থেকে ১ দিনের পরিচয়ে দেখা করতে আসছে। অথচ তার সাথে কোনো ডিলিংস ই হয়নাই আমার।আসার সাথে সাথে কোল্ড ড্রিংস,চিপস দিয়ে আপ্যায়ন।ব্যাবহার এর জন্য নিজের একটি সিম ই দিয়ে দিলো।সাথে মাত্র ৬০০ টাকায় খুবই সুন্দর হোটেল ম্যানেজ করে দিলো।আর ড্রাং থেকে ফেরার পথে ওদের বাসায় নিয়ে বিকেলের নাস্তা।
যাই হোক ২ টা মানুষের সাথে আগের থেকে পরিচিত না হইলে কারফিউ এর ভিতর ট্যুর অসম্ভব হয়ে যেতো।চিরকৃতজ্ঞ এদের কাছে।

বাজে সিচুয়েশন এর জন্য প্ল্যান মতো ঘুরতে পারিনি।কিন্তু এদের আতিথিয়েতায় মনে হইছে আমার ট্যুর সফল।ভালো থাকুক মানুষগুলো।

সর্বশেষ পরিচ্ছন্নতার কথা বলতে গেলে বলবো আমাদের মধ্যে একটা টেন্ডেন্সি আছে-বাইরে ঘুরতে গেলে পরিবেশের বেলায় আমরা মোটামুটি সচেতন হলেও নিজ দেশে ট্র‍্যাভেলের সময় এতো টা না।পরিবর্তন আসুক উভয় ক্ষেত্রে।সচেতনতা হোক আমাদের অভ্যাস।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *