রবিবার, ১২ Jul ২০২০, ১১:১৬ অপরাহ্ন

বালি ভ্রমন গাইড –

বালি ভ্রমন গাইড –

বালি ভ্রমন গাইড -

যেহেতু ভ্রমনের সিজন চলছে তাই ভাবলাম আজ বালির উবুদ নিয়ে লেখি।
উবুদ এক কথায় বালির গ্রাম ছিল । কিন্তু গত কয়েক বছরে উবুদ এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে গ্রামের আমেজ একটু কমে গেছে। কিন্তু ফার্স্ট টাইমার দের জন্য উবুদ ঘোরা একদম মাস্ট ।
উবুদের হিসেব টা একটু ভিন্ন , প্রচুর ইউরোপিয়ানরা এখানে আসে। মাসের পর মাস থেকে যায় ।এখানে কিছু একটা আধ্যাত্মিক আছে। উবুদে প্রচুর মন্দির , রাইস ট্যারেস , ঝর্ণা আছে। কিছু কিছু মন্দির আছে এখানে , বালিনিজ রা বিশ্বাস করে যে এই মন্দির গুলোতে গোসল করলে তাদের পাপ মোচন হয় ।

এছাড়া বালি ভ্রমনের খরচের একটা রাফ আইডিয়া দেই এরপর উবুদ নিয়ে আলচনা করি ।

এক জনের বালি ভ্রমনের জন্য হোটেল ভাড়া প্রতিদিন ১৫০০ টাকা এনাফ ( বালির যেকোনো এলাকা )
খাবার জন্য দিন প্রতি ১০০০ এনাফ
চলাচল এর জন্য বাইক হলে অনেক টাকা সেভ হবে । বাইক ভাড়া ৩০০ টাকা প্রতিদিন
বিভিন্ন লোকেশনে ঢুকতে কিছু টাকা লাগে যা খুব সামান্য যেমন ৪০ টাকা , ৬০ টাকা এরকম। শুধু মাঙ্কি ফরেস্টে একটু বেশি।
সুতরাং প্লেন ফেয়ার ছাড়া ৫ দিনের জন্য বালির খরচ ২০ হাজার টাকায় কমপ্লিট করা যায়। যদি আপনি একা ট্রাভেল করেন এবং গুছিয়ে খরচগুলো করতে পারেন।
এবার উবুদে ঘোরার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো আলোচনা করব।

হোটেল – উবুদে বিভিন্ন ধরনের হোটেল আছে । ফাইভ স্টার থেকে শুরু করে নরমাল হোটেল । এখানে হোটেল ভাড়া মিনিমাম শুরু হয় ১৫০০ টাকা থেকে আমি যে হোটেলটায় ছিলাম সেটার ভাড়া প্রায় ৩ হাজারের মত। যে ভিডিওটা আপলোড করেছি পোস্ট এর সাথে , এটার প্রথমে আমার হোটেল এর ভিডিওর ফুটেজ ।

যাতায়াত – উবুদে চলাচল এর জন্য সবচেয়ে ভাল হচ্ছে স্কুটার ভাড়া নেয়া , এটা দিন প্রতি ৩০০ টাকার মত লাগবে। এছাড়া ট্যাক্সি বা গারি ও ভাড়া নেয়া যায় কিন্তু খরচ একটু বেশি।

খাবার- উবুদে খাবার খরচ কুটা বা অন্য এলাকা থেকে একটু বেশি। প্রতিবেলা ৩০০ তেকে ৪০০ টাকার মত খরচ হতে পারে।
এবার আমার ভ্রমন এর বিস্তারিত ভাবে লিখছি।

মাংকি ফরেস্ট- মাংকি ফরেস্ট বেশ বড় একটা পার্ক এর মতো। এটাকে বানরের অভয়ারণ্য ও বলা চলে। প্রচুর বানর এখানে। ঢুকার টিকেট ৮০ হাজার রুপিয়া। প্রায় ৫০০ টাকার মতো। ভেতরে মন্দির আছে। বসার স্থান আছে। আছে হরেক রকমের বানর।

উবুদ মার্কেট-উবুদ মার্কেট উবুদের সব কালচারাল জিনিসপত্রের মার্কেট। এখানে আপনি বালিনিজ কালচারের অনেক কিছু পাবেন। সারং, ছোট ছোট বাদ্যযন্ত্র, কিছু মূর্তি , বালিনিজ দের পোশাক এসব এখানে পাওয়া যায়।

তেগুঙ্গুয়ান ওয়াটারফল- এখানে ঢুকার টিকেট ২০ হাজার রুপিয়া।মানে ১২০ টাকার মতো। পাহাড় বেয়ে নেমে ওয়াটারফলে যেতে হয়। বালির ঝর্ণা গুলোর মধ্যে এটা বেশ বড়। প্রতিদিন এটা দেখতে অনেক টুরিস্ট আসে। আমরা নেমে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকেছিলাম । ওখানে লাঞ্চ করার জন্য রেস্টুরেন্ট ও আছে।

তেগালালাং রাইস ট্যারেস-ওয়াটারফল থেকে রাইস ট্যারেস প্রায় ১ ঘণ্টার পথ। বৃষ্টিতে পুরো ট্যারেস কাদা কাদা হয়ে থাকে। ট্যারেস যেহেতু পাহাড় কেটে করা, তাই পিচ্ছিল পথ বেয়ে নামা বা ওঠা খুবই কষ্টকর। উঠা নামা করার সময় সাবধানে করতে হবে।

এছাড়া উবুদের শহুরে এলাকাটাও বেশ সুন্দর। হেটে হেটে ঘুরে দেখতে বেশ ভাল লাগবে ।

আমরা উবুদ ২ দিন ছিলাম। এর পর উলুয়াতু গেলাম। উলুয়াতু সাগরে ঘেরা শহর । খুবই সুন্দর নির্জন এলাকা এটা। সারফার দের জন্য আদর্শ স্থান। সারফার রা দিনের পর দিন এখানে এসে থাকে।

সুলুবান বীচ- রাস্তাটা বাইক নিয়ে যাওয়ার জন্য একদমই পারফেক্ট না। কাচা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। এরপর বাইক রেখে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলে সুলুবান বীচ।আমার কাছে এই এলাকাকে মনে হয়েছে কালাফুল সান্টরনির মতো। ওইরকম ই পাহাড়ের উপর ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। হয়েছে রেস্টুরেন্ট। বীচটা খুব সুন্দর।একদম ক্রিস্টাল ক্লিয়ার পানি।প্রচুর প্রবাল আর পাথর এখানে। খুব সুন্দর পরিবেশ।এখানে ৫/৬ ঘণ্টা নিমিষেই থাকা যায়।

উলুয়াতু টেম্পল-উলুয়াতু টেম্পল খুবই সুন্দর একটা জায়গা। এটা সুধু একটা মন্দিরই না। পুরা বড় একটা এলাকা। এখান থেকে উলুয়াতু বীচ এর খুব সুন্দর ভিউ দেখা যায়। যার একটা ছোট ভিডিও কয়েকদিন আগে পোস্ট করেছিলাম।এখানে ঢুকতে ৩০ হাজার রুপিয়া মানে ১৮০ টাকার মতো লাগবে।এখানে সানসেট না দেখলে জীবনই বৃথা ।
পরিবেশ এর উপর অবশ্যই নজর দিতে হবে। প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে স্বল্পতা আনতে হবে। যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বা পলিথিন ফেলা একদমই যাবে না ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *