রবিবার, ১২ Jul ২০২০, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

মুসলিম ঐতিহ্যের শহর ইস্তানবুলে

মুসলিম ঐতিহ্যের শহর ইস্তানবুলে

মুসলিম ঐতিহ্যের শহর ইস্তানবুলে

যখন আমি ইংল্যান্ড যাই তখন ইস্তানবুল দেখার সুযোগটা হাতছাড়া করিনি। ইসলামিক শিল্পকলা, ইতিহাস, সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্যের সন্ধানে, হাজার বছরের প্রাচীন নগরী দেখার তীব্র বাসনায় ৪ নভেম্বরে ২০১৭ আমি ইস্তানবুলে পর্দাপন করি। ক্রেডিটকার্ডের মাধ্যমে ৬০ ডলার খরচ করে নিজেই অনলাইনে ইতিপূর্বে তুরস্কের ই-ভিসা নিয়ে ছিলাম বাংলাদেশ থেকে।
ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি ভোর ৫ টায়। দীর্ঘ ৭/৮ ঘন্টা জার্নির পর টার্কিস এয়ারলাইন্সের বিমান ইস্তানবুলের আকাশে এসে পৌঁছে। ঘোষনা দিল অল্পক্ষণ পরে বিমান অবতরন করবে। তখনো আকাশে সাদা মেঘের দিগন্তে সূর্যের আলোয় অপরূপ দৃশ্য। জানালার পাশে বসা আমি। কিছুক্ষণ পরই প্রকাণ্ড মেঘ গুলো ভেদ করে নিচে নামলো বিমান। ভয়ানক দৃশ্যে আতঁকে উঠি। আকাশে দৈত্যের মতো বিশাল আকৃতির কালো কালো মেঘের সারি। মেঘের উপরে কি সুন্দর আলো ঝিকমিক করছে অথচ নিচে গুটগুটে অন্ধকার। পাক খেতে খেতে একসময় অবতরন করল বিমান। জানালা দিয়ে দেখি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচেছ। Istanbul Atatürk Airport এয়ারপোর্টে যাত্রীদের ভীষন ভীড়। হুড়মুড় করে যাত্রীরা যে যার দিকে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িঁয়ে ই-ভিসার প্রিন্টটি দেখিয়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করলাম। খুঁজছি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। ট্যাক্সির বিলাসিতায় আমার আপত্তি। সোজা চলে এলাম মেট্রো স্টেশনে । একি! কোথাও ইংরেজী লেখা নেই ! ইংরেজি অক্ষরে টার্কিশ লেখা গুলো কিছুই বুঝতে পাছিনা তাই মেশিনে “ইস্তানবুল কার্ড” ক্রয় করতে অনেক বেগ পেতে হলো। শহরের ম্যাপটা দেখে মেট্রোতে যাত্রা শুরু করলাম।
আমার বুকিং দেয়া হোটেলটি ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর কাছেই। বসফরাসের ইউরোপিয়ান তীরে। মেট্রোতে চলতে চলতে জানালা দিয়ে দেখছি ইস্তানবুল শহর। প্রথম ইউরোপ দেখা। মেঘের ফাঁকে কখনো রোদ উঁকি দিচ্ছে। মনে হয় দুপুর গড়িয়েছে। বিকেলের সূর্য ও মেঘের লুকোচুরি চলছে। সোনালী আলোয় প্রথম বৃষ্টি ভেজা হলুদ বর্নের সেঞ্চুরি পাতা চোখে পড়ল। সেঞ্চুরি পাতার তীব্র কমলা রং ইউরোপে বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। মেট্রোতে, যাত্রীদের কাপড়ে, শীতের জ্যাকেটে, যত্রতত্র এমনকি তুর্কি পতাকায় ব্যবহৃত লাল রং চোখে প্রখরভাবে ধরা দিচ্ছে। আন্দাজের উপর ভিত্তি করে মেট্রো পরিবর্তন করতে করতে এক সময় এসে পড়লাম সির্কাচি স্টেশনে। নেমে পড়লাম। চারিদিকের পরিবেশ আমাকে অভিভূত করে রেখেছে । ট্রাম ও মেট্রো শব্দ, আধুনিক অথচ পুরোনো দালান-কোটা, রাস্তায় রাস্তায় স্ট্রিট ফুড বিক্রি, নানান ধরনের মানুষের কোলাহল। সব কিছু মিলিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট একটা শহর।

আমার কাছে কোন মোবাইল সিম নেই তাই এই মুহুর্তে ইন্টারনেটের সহযোগিতা নিতে পারছিনা। সঙ্গে থাকা গুগোল ম্যাপসের প্রিন্ট করা কাগজে হোটেলের স্থানটি দেখে হাঁটা শুরু করলাম। একটি মসজিদে আসরের আজান দিচ্ছে। ভাবলাম আগে নামাজটা পড়ে নেয়াই ভাল। এখানে মুসল্লিরা নামাজ শেষে কুরআন তিলাওয়াত শুনে। আমিও নামাজ শেষে শুনলাম সুমধুর কন্ঠে কুরআনের বাণী। মনটা শান্ত হলো। মসজিদ থেকে বেড়িয়ে অলিতে গলিতে হাঁটছি আর দেখছি সব কিছুৃ । সমুদ্রের ধারে হলেও ইস্তানবুল সমতল নয় । শহরটা কিছু অংশে পাহাড়ি ঢালু, কিছুটা সমতল । এতক্ষন বৃৃ্ষ্টি ছিলনা । আবার বৃষ্টির দেখা । হালকা গুড়ি গুড়ি। একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়লাম। হালকা কিছু খেয়ে নিয়ে আবার হাঁটা শুরু। একটা বাজারের কাছে এসে গেছি। গ্র্যান্ড বাজারের কাছেই । এখানে ইউরোপীয় গড়নের মানুষের সংখ্যাই বেশী । সবার কাপড়-চোপড়ে ও দৈহিক গড়নে সাংঘাতিক স্মার্ট। মনে হচ্ছে ইতালী কিংবা ফ্রান্সে এসেছি । কিন্তু সবার কাছে বিভিন্ন ধরনের ছাতা দেখে বেমানান লাগছে । এমনকি তরুন-তরুনীদের হাতেও ছাতা । এরই মধ্যে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে ছাতা বিক্রি শুরু করেছে। পাহাড়ের ঢালুতে ছোট ছোট পাথুরে রাস্তায় বৃষ্টির পানিগুলো পাথরের ফাঁকে ফাঁকে নীচের দিকে গড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশটা আমার কাছে খুবই রোমান্টিক লাগছে ।
এদিকে আমার হোটেলটি খুঁজে পাচ্ছিনা। এক তরুন পর্যটককে জিগ্যেস করতেই সে তার মোবাইলে দেখিয়ে দিল হোটেলটার লোকেশন। আমি তার কাছ থেকে আমার মোবাইলে স্কিনসর্ট নিলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। এখনো হোটেল খুঁজে পাচ্ছি না। চাপা উত্তেজনা ও ভয় কাজ করছে, কারন আমি একা। বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলাম। আয়েশ করে এককাপ চা খেয়ে অপেক্ষা করছি। বৃষ্টি থামার জন্য। কিছুটা শঙ্কায় আছি। রাতের আলো জ্বলে উঠেছে। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ভিজতে ভিজতে হেঁটে চলছি । কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটাও বেশ ভারী লাগছে । যাক ! অনেক খোঁজাখুজির পর হোটেলটি শেষ পযর্ন্ত পেলাম। গ্রান্ড এসেন হোটেল। বসপরাস নদীর কাছেই সির্কাচি ট্রেন স্টেশনের সাথে একেবারে লাগোয়া। বিকাল থেকে শুধু শুধু অনেক জায়গা ঘুরলাম। নিজেকে বোকা বোকা লাগছে। সুন্দর জায়গা। পছন্দ হলো। স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিলাম।
হোটেলের নীচে অভ্যার্থনা কক্ষ ও রেস্টুরেন্ট । পাতলা গড়নের এ তরুন যুবক হোটেলটি চালায়। তিন রাতের জন্য অনলাইনে বুকিং করেছি বাংলাদেশ থেকে। ছেলেটার সাথে হাত মিলিয়ে আমার বুকিংয়ের প্রিন্টটা এগিয়ে দিলাম। সে দ্রুত তা স্ক্রীনে দেখে নিয়ে চায়ের অর্ডার দিল। বলল, চা খেতে খেতে অপেক্ষা করতে। আমার ব্যাগটা নিয়ে কাউন্টারের পেছনে রাখল। অনেক্ষন হয়ে গেল চা খেয়ে বসে আছি। কোন খবর পাচ্ছিনা। আমাকে বার বার অনুরোধ করছেন অপেক্ষা করতে সাথে চায়ের অফার করছে। এদিকে আমার বিরক্ত লাগছে। আমি বার বার জিগ্যেস করছি বুকিং ঠিক আছে কিনা ? সে আমাকে আশ্বস্ত করল সব ঠিক আছে। অবশেষে আমাকে বলল, আপনাকে আজকের রাতটা অন্য হোটেলে কাটাতে হবে। কাল থেকে এখানে থাকবেন। চিন্তার কারন নেই আমরাই সব ব্যবস্থা করছি। অন্য এক লোককে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার সাথে যেতে বলল। হোটেল ছোট্ট হলেও রিসেপশনের ছেলেটির ব্যবহার আন্তরিক।
অগত্য লোকটির পিছু পিছু চললাম। কাছেই অন্য একটি হােটেলে লিফটে চার তলায় ছিমছাম একটি সিঙ্গেল রুম বরাদ্দ পেলাম। রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে পড়লাম। আশেপাশে অনেক গুলো ট্রাভেল অপারেটরের অফিস। তারা বিভিন্ন রকম সিটি ট্যুর, মিউজিয়াম পাস, বসফরাস প্রনালীতে নৌ বিহার সহ বিভিন্ন ধরনের অফার দিচ্ছে। শীতের শুরুতে পর্যটকদের ভীড় অনেকটা কমেছে। একটি ট্রাভেল অপারেটরে বসফরাসে স্টীমারে ভ্রমনের জন্য আগাম বুকিং দিলাম। কাছাকাছি জায়গা গুলো একটু ঘুরে দেখছি। ঠান্ডা বাতাস বইছে। তাই বাইরে থাকা উচিৎ হবে না। ক্লান্ত দেহ। রাতের খাবার হিসেবে পোড়া ভুট্টা ও আনারের জুস খেয়ে তাড়াতাড়ি হোটেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

৫ নভেম্বর । ইস্তানবুলে আমার দ্বিতীয় দিন। সকালে হোটেলের পক্ষ থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে বুফে নাস্তার ব্যবস্থা আছে। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য ইস্তানবুলের তুলনা নেই। রকমারি খাবার থেকে বেছে বেছে কিছু নাস্তা খেয়ে রুমে গিয়ে গোসল সেরে তৈরী হয়ে আছি। গতকালের লোকটি সকালেই বারবার তাগাদা দিচ্ছে হোটেল ছাড়তে। তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়ে চলে এলাম আগের হােটেলে। এখানেও আমার রুম হোটেলের চার তলায়। তবে এখানে লিফট নেই। কালকেরটা ভাল ছিল। যাক ! ছোট গোলানো সিড়ি বেয়ে রুমে গিয়ে ব্যাগ রেখে অপেক্ষা করছি হোটেলের নীচে। ট্রাভেল অপারেটরের একলোক এসে আমাকে নিয়ে গেল কাছেই সির্কাচি ট্রেন স্টেশনে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে বললেন। অপেক্ষা করতে করতে দেখি আরো লোকজন এসে জড়ো হচ্ছে। মনের মধ্যে বসফরাস নদীতে নৌ ভ্রমনের উত্তেজনা কাজ করছে।
১১টা বাজতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে জড়ো হওয়া পর্যটকরা সবাই এক সুদর্শন তরুন যুবকের নেতৃত্বে হেঁটে চললাম নদীর ঘাটে। ঘাটে ছোটবড় অসংখ্য নৌকা, স্টীমার, লঞ্চসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান। সুন্দর আলোকিত সকাল। শতশত লোক নদীর ধারে, নৌকায় ও সেতু উপর থেকে সচ্ছ বসফরাস জলরাশিতে মাছ ধরায় ব্যস্ত। উম্মুক্ত নীল আকাশের নীচে আমাদের প্রমোদ তরী নীল পানি ভেদ করে এগিয়ে চলছে। নদী থেকে দুই তীরে শহরের অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে আমি রোমাঞ্চিত। বিশ্বিত। চলতে চলতে ভাবছি এই শহরের ইতিহাস। অল্পবয়সী তরুন ছেলেটি আমাদের গাইড। সবকিছু সাবলীল ভাষায় ইংরেজতে বর্ণনা করছেন সে। বিভিন্ন স্থাপনা দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে এবং ক্রমান্নয়ে বলে যাচ্ছে ইতিহাস।

ইস্তানবুলের অতীত নাম কনস্ট্যান্টিনোপল (Constantinople)। এটি পর্যায়ক্রমে ৩৩০-৩৯৫ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের, ৩৯৫-১২০৪ এবং ১২৬১-১৪৫৩ খিৃ. পূর্ব রোমান (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্যের এবং ১৪৫৩-১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। ১৯২৩ সালে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় স্থানান্তরিত হলে কনস্ট্যান্টিনোপল নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তাম্বুলে পরিবর্তিত হয়। শহরটির মাঝখানে বয়ে চলা বসপরাস প্রনালী ভাগ করেছে এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশকে। একদিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের স্মৃতি বিজরিত ঐতিহাসিক স্থাপনা অন্যদিকে মুসলিম শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ এ নগরী। রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ও জাদুঘর যাতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের নিদর্শন এবং ইসলামিক শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের নিদর্শন একই সাথে সংরক্ষিত আছে। সম্প্রতি শহরটি আধুনিক শিল্পকলার কেন্দ্র হিসাবেও খ্যাতি লাভ করেছে। ১৪৫৩ সালে সুলতান মেহমুদ (২য়) তুর্কী সেনাদের নিয়ে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে কনস্টিনোপলে প্রতিষ্টা করেন মুসলিম শাসন এবং এই ঐতিহাসিক নগরীকে ওসমানী সাম্রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন।

বসফরাস (Bosphorus) প্রনালী হচ্ছে একটি সরু নদী যেটি এশিয়া ও ইউরোপ দুই মহাদেশকে বিভক্ত করেছে। এই নদী কৃষ্ণ সাগরের সাথে মরমর সাগর সংযুক্ত করেছে। আনন্দময় নৌবিহার, নদী দু-কুলে শহরের অপরূপ দৃশ্য, মাছ ধরার দৃশ্য, সমূদ্রিক পাখিদের কলতান, স্বচ্ছ নীল পানি পর্যটকদের ভীষনভাবে মোহাবিষ্ট করে রাখে। বসফরাস প্রনালীতে নৌ বিহার মধ্যদিয়ে জানতে পারি নদীর দু-পাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো, পরিদর্শন করি রোমেলি দূর্গ ও জাদুঘর এবং ডলমাবেগ প্রাসাদ ও জাদুঘর।
প্রায় দুই ঘন্টা নদী ভ্রমন শেষে দুপুর নাগাদ আমাদের স্টীমারটি রুমেলি দূর্গের (Rumeli Fortress) কাছে বসফরাস নদীর তীরে এসে ভীড়ে। আমরা সবাই লঞ্চ থেকে নেমে নদীর পাড় ধরে হাঁটছি। সামনেই দূর্গের প্রবেশ পথ। ২০ টার্কিস লিরা দিয়ে টিকেট কেটে প্রবেশ করলাম অরণ্যে ঘেরা এই প্রাচীন দুর্গের অভ্যন্তরে। হাঁটতে হাঁটতে উপরে উঠছি। এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কামান ও আগ্নেয়াস্ত্র। চারিদিকে দেখতে দেখতে এগুচ্ছি। মনে হচ্ছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে হাঁটছি। পথে পথে দেখা মিলছে পর্যটকদের। পাহাড়ের চুড়ায় উঠে দেখি সুন্দর মনোরম দৃশ্য। দুর্গের টাওয়ার গুলোও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে নদীতে চলমান সবকিছু ভালভাবে দেখা যাচ্ছে। এমনকি ওপারের পুরো শহরটিও। অনুভব করা যাচ্ছে শহরের ব্যস্ততা। একদিকে ঘন অরন্য অন্যদিকে শহরের কোলাহল। সে এক অদ্ভুদ দৃশ্য।

রুমেলিহিসার ক্যাসেল বা রুমেলি দূর্গ এবং জাদুঘর (Rumelihisarı Castle ev Rumeli Fortress)
মধ্যযুগে তৈরী একটি ওসমানীয় দূর্গ। ১৪৫৩ সালে ওসমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়ে এই দূর্গের ভুমিকা ছিল অপরিসীম। দুর্গটি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান মেহমুদ (২য়) নির্মান করেছিলেন। ১৪৫১ সালে এটির পরিকল্পনা এবং ১৪৫২ সালে এই দূর্গের নির্মান কাজ সমাপ্ত হয়। বসফরাস প্রনালী ও মরমর সাগরের মোহনায় ছিল তৎকালীন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের মূল কেন্দ্র। বসফরাস উত্তরের কৃষ্ণ সাগরকে দক্ষিনের মারমারা সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। বসফরাস প্রনালীর প্রায় ৬৬০ মিটার সংকীর্ণ অবস্থানে দুর্গটির অবস্থান। উত্তরে কৃষ্ণসাগরের মধ্যদিয়ে আগত বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সামুদ্রিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা রোধ করার জন্যই মূলত এই দূর্গ নির্মিত হয়েছিল। রুমেলি দুর্গে তিনটি বড় টাওয়ার, একটি ছোট টাওয়ার এবং তেরোটি অপেক্ষাকৃত ছোট টাওয়ার রয়েছে। দুর্গের প্রায় সবগুলি টাওয়ারই এখনো খুব ভাল অবস্থায় আছে। দুর্গের স্থপতি ছিলেন আর্কিটেক্ট মসলিহিদ্দিন। রুমেলি দুর্গের ঠিক বিপরীতে ১৩৯৪ সালে বসফরাসের এশীয় তীরে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রথম সুলতান বায়েজিদ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল আনাদোলু দুর্গ Anadolu Castle (Anadolu Hisarı)। অনাদোলু এবং রুমেলী উভয় দুর্গই অটোম্যানদের লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ সহায়তা করেছে। বসফরাসের ইউরোপীয় তীরে সারিবদ্ধ পাহারের উপর নির্মিত রুমেলি দূর্গ থেকে নদী ও শহরের মনোরম দৃশ্য খুবই চমৎকার উপভোগ করা যায়।
কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর ওসমানীয়রা তাদের নতুন সাম্রাজ্যের রাজধানী করে এই ঐতিহাসিক শহরে। স্বাভাবিক ভাবে দুর্গটি যেহেতু সামরিক গুরুত্ব হারিয়েছে তাই এটি পরবর্তীকালে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত শুল্ক চৌকি হিসাবে ব্যবহৃত হত। এরপর উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে কারাগার হিসাবে। ইতিমধ্যে উনবিংশ শতাব্দিতে দুর্গের অভ্যন্তরে ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকানপাট ইত্যাদিসহ একটি পাড়া তৈরি হয়েছিল। পরে এই পাড়াটি ১৯৫০-এর দশকে ধ্বংস করা হয় এবং ১৯৬০ সালে রুমেলি দুর্গকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে উন্মুক্ত খোলা পরিবেশ সমৃদ্ধ জাদুঘরটি (open-air museum) পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান। বিভিন্ন সময়ে মৌসুমী শিল্প উৎসব, সংগীতানুষ্ঠান এবং বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের উন্মুক্ত স্থান হিসাবেও এটি ব্যবহৃত হয়। অটোম্যান সাম্রাজ্যের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক দুর্গ পরিদর্শন শেষে আমরা নিজেদের মতো করে দুপুরের লাঞ্চ সেরে লঞ্চে উঠে পড়লাম। পরবর্তী গন্তব্য বিখ্যাত ডলমাবেগ প্রাসাদ ও জাদুঘর।

ডলমাবেগ প্রাসাদ ও জাদুঘর (Dolmabahçe Palace)। বসপরাসের ইউরোপীয় তীরে অবস্থিত। বিশাল প্রাসাদে রয়েছে সুন্দর কারুকার্য খচিত তোরণ ও সুশৃংখল ভাবে সাজানো উদ্যান। নদীর একেবারে তীর ঘেঁষে এর অবস্থান। এই প্রাসাদ ভিতরেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল তৈজষপত্র ও দামী উপাদানে জমকালো কারুকার্যে সজ্জিত। মুল প্রাসাদের প্রবেশ পথের দু’পাশে দু’টি সিংহের মূর্তি। ওসমানীয় সাম্রাজের প্রশাসনিক ও রাজকীয় দপ্তর টোপকপি প্রাসাদ থেকে পরবর্তীতে এই প্রাসাদে স্থানান্তর করে। বর্তমানে এটি জাদুঘর। তুরস্কের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কামাল আতাতুর্ক ১০ নভেম্বর ১৯৩৮ এই প্রাসাদেই মৃত্যু বরন করেন।

বিকালে যখন আমাদের নৌ ভ্রমন শেষ হলো তখন নৌ ভ্রমনেরই সঙ্গী এক পরিবারের সাথে সখ্যতা হলো। তাদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ের চুড়ায় সুলাইমানীয়া মসজিদ দেখতে গেলাম। সারাদিনের ক্লান্তিতে পাহাড়ে উঠতে কষ্ট হলেও মসজিদটি দেখে প্রান জুড়িয়ে গেলো। এমন সুন্দর মসজিদ আগে কখনো দেখিনি। মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম মসজিদে। ভিতরের কারুকাজ দেখে অভিভুত। জ্যমিতিক নকশা, ফুলের নকশা ও কুরআনের আয়াতের আরবি ক্যলিওগ্রাফির সমন্বয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে এক অনন্য শিল্পকর্ম। পাহাড়ের উপর মসজিদের প্রাঙ্গনটিও বিশাল। এখান থেকে উপভোগ করা যায় দুরে নদীর অপরূপ দৃশ্য।
সোলাইমানিয়া মসজিদ (The Süleymaniye Mosque) উসমানীয় যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তৃতীয় পাহাড়ের উপর অবস্থিত। মসজিদটি নির্মান করেন সুলতান সোলাইমান। এটি রাজকীয় স্থপতি মিমার সিনান ডিজাইন করেছিলেন। একটি শিলালিপিতে ভিত্তিটির তারিখ ১৫৫০ এবং উদ্বোধনের তারিখ ১৫৫৭ হিসাবে উৎকীর্ণ আছে। এটি শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। বসফরাস নদী থেকে এই মসজিদের সুন্দর মনুমেন্টাল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায়।

৬ নভেম্বর, সবকিছু দেখার জন্য মনটা অস্থির। সকালে হোটেলের নীচে ভাল করে নাস্তা সেরে মিষ্টি রোদ পোহাতে পােহাতে এককাপ কফি খেলাম। সকাল সকাল বেড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম প্রথমে গুলহেন পার্কে। পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করলাম টোপকপি প্রাসাদ জাদুঘর, সুলতান আহমদ মসজিদ বা ব্লু মস্ক, তুর্কী ও ইসলামিক শিল্পকলা জাদুঘর, হিপ্পোড্রোম বা সুলতান আহমদ চত্বর, হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘর প্রভৃতি। টোপকপি প্রাসাদ দেখতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। দুপুরে নামাজ পড়ি সুলতান আহমদ মসজিদে। মসজিদে পর্যটকদের প্রচুর ভীড়। বেড়িয়ে এসে দেখি সামনে বিশাল উদ্যান ফোয়ারা । হরেক রকমের মানুষ, দেশি-বিদেশি, মুসলিম অমুসলিম মিলিয়ে সবাই এই বিখ্যাত ব্লু মস্ক, অর্থাৎ সুলতান আহমেদ কামিই-র সামনের প্রকাণ্ড বাগানে ইতিউতি বসে আছে বা ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপরপ্রান্তে দেখা যাচ্ছে হাজিয়া সোফিয়া। পর্যটকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখছে অটােমান সাম্রাজ্যের নিদর্শনাবলী। ক্ষিধে পেয়েছে। উদ্দ্যানের এক কোনায় অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অনেক যাচাই বাছাই করে শেষ পর্যন্ত ভেতরের দিকে খোলা বাগানের মতো একটা জায়গার একটি রেস্টুরেন্ট বেছে নিলাম। মেন্যু দেখে মোটামুটি সাশ্রয়ী মূল্যে লাঞ্চটা সেরে নিলাম। এখানে খাওয়া দাওয়া কোন ব্যাপার না। যত্র তত্র স্টিট ফুড রয়েছে। রয়েছে তুরস্কের বিখ্যাত ছিদ্রওয়ালা বড় গোলাকার বনের মতো রুটি।

হিপ্পোড্রোমের সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম তুর্কী ও ইসলামিক শিল্পকলা জাদুঘরে। টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখে নিলাম জাদুঘরটি। খুটিঁয়ে খুটিঁয়ে দেখলাম তুর্কি ও ইসলামী ঐতিহ্যের নানান নিদর্শন। অনেক বেলা হয়ে গেলো তাই সেদিন আর হাজিয়া সোফিয়ার ভেতরে যাওয়া হয়নি। বাইরে থেকে দেখে টেকে চলে এলাম ।

টেপকপি প্রাসাদ (Topkapı Palace) উসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি সুন্দর গোছানো প্রাসাদ। যাতে রয়েছে অসংখ্য কক্ষ, সুন্দর উদ্যান ও সমূদ্র উপভোগ করার স্থান। এই প্রাসাদ থেকে সমুদ্র, নদীর মোহনা ও শহরের আশ্চর্যজনক দৃশ্য অবলোকন করা যায়। টোপকপি প্রাসাদটি অনেক ইতিহাস বহন করে। প্রাসাদটি স্থাপত্য শৈলী অনন্য। বিশাল বিশাল খোলা মাঠ এবং উদ্যান। অপূর্ব সবকিছু সাজানো গোছানো। অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে সুলতান, পরিবারের সদস্য এবং দরবারীরা সকলেই ১৫ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে সুন্দর টোপকপি প্রাসাদে বাস করতেন। ১৪৫৩ সালে সুলতান মেহমেদ দ্বিতীয় এটি নির্মান করেন। এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের স্মারক। মরমর সাগরের উপদ্বীপে অবস্থিত এই প্রাসাদটি যে গোল্ডেন হর্ন এবং বসপরাস প্রনালী উভয়ই উপেক্ষা করে দর্শকদের অটোমান যুগে রাজকীয় জীবনের এক ঝলক প্রতিচ্ছবি দেখায়। বেশ কয়েকটি হল দুর্দান্ত টাইলস দিয়ে সজ্জিত। চারটি প্রাঙ্গন ঘুরে দেখার আগে সুলতানের উপপত্নীরা যেখানে থাকতেন, প্রাচীন প্রাসাদ হলগুলির মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও খুটিয়ে খুটিয়ে দেখার জন্য এই জাদুঘরে একদিন বরাদ্দ প্রয়োজন। এখানে আলাদা একটি জাদুঘরে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের সংগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে হযরত মোহাম্মদ (দ.) ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ও ইসলামিক প্রত্নসম্পদ প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া উমাইয়া ও অটোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন নিদর্শন সামগ্রী, অস্ত্রশস্ত্র ও প্রত্নসামগ্রী প্রদর্শনে রাখা হয়েছে।

ইসলামিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস জাদুঘর (Islamic Sciences & Technology History Museum)। টোপকপি প্রাসাদের নিচে গুলহান পার্কে মুসলিম বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন উদ্ভাবন, পরিকল্পনা, অনুলিপি, প্রতিলিপি ও অনুকৃতির মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এই জাদুঘরে। বিশেষতঃ অষ্টম শতাব্দী থেকে ষষ্টদশ শতাব্দীর মধ্যে ইসলামী যুগের গবেষণাগুলি এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সুলতান আহমেদ মসজিদ বা ব্লু মস্ক (Sultan Ahmed Mosque) ইস্তানবুলের একটি প্রধান মসজিদ। এখানে এখনো পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পরিচালিত হয়। এতে সবসময় প্রচুর দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে। এটি প্রথম সুলতান আহমেদের শাসনামলে ১৬০৯ এবং ১৬১৬ এর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের কাছেই আহমেদের সমাধি। আছে একটি মাদ্রাসা ও একটি ধর্মশালা। এই মসজিদের স্থাপত্যের নকশা ও কৌশল অত্যন্ত নিখুঁত। এটির স্থাপত্য শৈলী হাজিয়া সোফিয়া হতে অনুপ্রাণিত। ভেতরের কারুকাজ জমকালো জ্যামিতিক, ফুলের নকশা ও ইসলামীক হস্তলিপির সমন্নয়ে তৈরী নিপূঁণ শিল্পকর্মের জন্য এটি উচ্চমাত্রা অর্জন করেছে। এই অনন্য স্থাপত্য ইসলামিক শিল্পকলা ও স্থাপত্যের একক নিদর্শন। হাতে আঁকা নীল টাইলস মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালগুলি শোভিত করে এবং রাতের বেলা মসজিদটির পাঁচটি প্রধান গম্বুজ, ছয়টি মিনার এবং আটটি গৌণ গম্বুজ নীল রঙে স্নান করে। হাজিয়া সোফিয়ার ঠিক বিপরীতে এর অবস্থান।

হাজিয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা ছিল। পরে প্রায় চারশ বছর এটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ১৯৩৫ সালে থেকে এটি জাদুঘর। বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান দ্য গ্রেট (Justinian the Great) ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে হাজিয়া সোফিয়া (৫৩২-৫৩৭) নির্মান করেন। প্রায় এক হাজার বছর ধরে স্পেনের সেভিলের ক্যাথেড্রাল (১৫০৭) নির্মান সমাপ্তির আগ পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাথেড্রাল ছিল এটি। প্রতিবছর সারা বিশ্বের প্রচুর দর্শক এই ঐতিহাসিক প্রচীন স্থাপত্যটি পরিদর্শন করেন। সমগ্র বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শনার্থীরা আসে এই জাদুঘর দেখতে।

তুর্কি ও ইসলামী শিল্প জাদুঘর (Turkish & Islamic Art Museum)
পুরানো হিপ্পোড্রোম (Hippodrome) এলাকায় তৎকালীন ইব্রাহিম পাসার প্রাসাদে তুরস্কের মনমুগ্ধকর ইসলামী শিল্পকর্ম ও নৃতাত্তি¡ক নিদর্শনের দুর্দান্ত সংগ্রহ রয়েছে এই জাদুঘরে। এটি ষষ্টদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল।

যে ক’দিন বিকাল ও সন্ধায় সুযোগ পেয়েছি প্রায়ই গালাতা সেতু ও সিরকাচি রেল স্টেশনের আশেপাশের স্থাপনা সমূহ দেখতে যেতাম। বসফরাস নদীর পাড়ে অসংখ্য লোক মাছ শিকারের দৃশ্য দেখ রীতিমত আমি হতবাক ! মাত্র চার দিনে নগরীর প্রায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জাদুঘর সমূহ পরিদর্শন করেছি। ঘুরে ঘুরে দেখেছি বিখ্যাত গ্রান্ড বাজার। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্রব্য ও নানান ধরনের জিনিস। ইস্তানবুলের জীবন যাত্রা ও ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে আমি বিস্মিত। গ্র্যান্ড বাজার বিশ্বের বৃহত্তম কাভার্ড মার্কেটগুলির মধ্যে একটি। এটি বিশাল ছাদবিশিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রীর বাজার বিশেষ করে বিভিন্ন খাদ্য ও মশলা সামগ্রীর জন্য বিখ্যাত। বিশাল বিশাল পনিরের ছাই ও জাফরন সহ আরো কত কি ! কোন এক দুপুরে গুলহেন পার্কে অবস্থিত ইসলামিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ইতিহাস জাদুঘরটাও দেখে নিয়েছি সময় করে।

৭ নভেম্বর ইস্তানবুল ছেড়ে চলে যাব। এ ক’দিনে এই শহরের প্রতি একটা মায়া জমে গেছে । সুযােগ থাকলে আরো ক’দিন কাটিয়ে যেতাম। সকাল সকাল একেবারে তৈরী হয়ে সুলতান আহমদ চত্বরে চলে যাই। সেখানে উপভোগ করি রৌদ্রস্নাত পুরো সকাল। পার্কের বেঞ্চে বসে আছি দীর্ঘ সময়। সকালের মিষ্টি আলোয় ইস্তানবুলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিশাল উদ্যানকে ঘিরে সপ্নীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ছবি তুললাম বেশ কিছু। একজন ফরাসী পর্যটক আমার কিছু ছবি তুলে দিলেন। দুপুরের আগেই মেট্রোতে রওনা দেই বিমান বন্দরের দিকে। চলতে চলতে ইস্তানবুলকে শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছি ভালো করে। দুপুর ১টায় টার্কিস এয়ারওয়েজে পরবর্তী গন্তব্য লন্ডনে যাবার সময় ঘনিয়ে আসছে ।

ইস্তানবুলকে নিয়ে আমার ভিডিওটি দেখতে পারেন এই।

> আসুন আমরা পরিবেশ সচেতন হই। পরিবেশ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যত্র তত্র ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলবেন, পরিবেশ সুন্দর থাকবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন। প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *