মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

মায়ানমার (বার্মা) ভ্রমন..

মায়ানমার (বার্মা) ভ্রমন..

মায়ানমার (বার্মা) ভ্রমন..

যে দুটি দেশের সাথে আমাদের দেশের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে , মায়ানমার তার মধ্যে একটি ।আশ্চয্যের বিষয় এই যে, আমাদের দেশের ভ্রমন পিপাসুরা মায়ানমার কেন ভ্রমন করে না সেই কারণ খুজতেই মায়ানমার বেড়ানোর প্রবল ইচ্ছা ।

ভিসা প্রাপ্তি-
—————-

খুব সহজেই বারিধারা মায়ানমার এম্বাসি থেকে ২/১ দিনের মধ্যে ৪২৫০ টাকা ফি ( ৫০ ডলার) তে ভিসা মিলবে ।

কিভাবে যাবেন ?
——————

ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট গত নভেম্বরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে । এয়ার ইন্ডয়া বা ইন্ডিগো এয়ার এ কলকাতা ট্রানজিট নিয়ে বা ব্যাংকক এয়ার এ ব্যাংকক ট্রানজিট হয়ে মায়ানমারের ইয়ানগুন ( রেংগুন) ভ্রমন তুলনামুলক সহজ ।
টিকেটের মুল্য আসা-যাওয়া আনুমানিক কলকাতা হয়ে ৩০-৩২ হাজার টাকা বা ব্যাংকক এয়ার এ ৩৬-৩৮ হাজার টাকা ।

কোথায় ঘুরবেন ?
——————

মায়ানমারে বেড়ানোর বহু জায়গা রয়েছে । তারমধ্যে বানিজ্যক রাজধানী -ইয়ানগুন , বর্তমান রাজধানী -নে পি ডো, প্রাচীন রাজধানী -বাগান ও মান্দালয় অন্চলের নয়নাভিরাম – পোপা মাউন্টেইন প্রসিদ্ধ ।

ইয়ানগুন
—————

ইয়ানগুন ই হলো মিয়ানমারের সব চেয়ে পুরাতন ,সুন্দর , প্রসিদ্ধ শহর যা বর্তমানে বানিজ্যক রাজধানী নামে খ্যাত । মূলত দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট টি এ শহরেই অবস্থিত ।দেশের মুল প্রাণকেন্দ্র এ শহরকে ঘিরেই । সরকারের সকল অফিস ও অন্যান্য বড় প্রতিস্ঠান সমুহ ইয়ানগুনেই যদিও বর্তমানে সকল সরকারী অফিস ও প্রতিস্ঠান সমুহ নতুন রাজধানী নে পি দো তে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার । বিদেশী সকল কুটনৈতিক অফিস সমুহ এখনও ইয়ানগুনেই অবস্থিত ।

এয়ারপোর্ট থেকে বের হলেই প্রথম দেখায় মনে হবে , ইউরোপের পুরাতন কোনো শহরে ঘুরতে এসেছি ।রাস্তাঘাট খুবই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গোছানো-ছিমছাম যদিও প্রচুর গাছ পালায় ঘেরা শহর । শহরের রাস্তায় গাড়ী চলে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সয়ংক্রিয় ভাবে শুধু ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে ।শপিংমল ও হোটেল সমূহ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কাছাকাছি ।জনসাধারণ খুবই সরল ও ট্যুরিস্ট বান্ধব ।পোশাক শার্টের উপর লুংগি গিটমারা , ঠিক যেন সার্ট লুংগিতে ইন করে পরেছে।

ইয়ানগুনে দর্শনীয় স্থান সমুহের মধ্যে শ্বেডেগন প্যাগোডা , সুলে প্যাগোডা, কানডওগ্যি লেক ও নেচার পার্ক, ইনিয়া লেক , মহা বান্দুলা পার্ক ও মোঘল শেষ স্বাধীন নবাব বাহাদুর শাহ্ এর মাজার উল্লেখযোগ্য ।

নতুন রাজধানী – নে পি ডো
——————————

নে পি ডো বিশ্বের ৩য় পরিকল্পত শহর । মানে প্ল্যান ওয়াইজ তৈরী করা নতুন রাজধানী শহর । ইয়ানগুন শহর থেকে ৩২০ কিমি দুরে ।যাতায়তের জন্য এয়ারপ্লেন , দ্রুতগতির ট্রেন ও সুবিশাল এক্সপ্রস হাইওয়ে মাধ্যমে দ্রুতগতির বাস ও যা চীনা কারিগরী ও অর্থনৈতিক সহায়তায় নির্মিত । বাসে ইয়ানগুন হতে নে পি ডো যেতে ৩ ঘন্টা সময় লাগে । নতুন তৈরী এই শহর আমাদের ঢাকা শহর থেকে ২২ গুন বড় কিন্ত লোকসংখা মাত্র ৯ লক্ষ । দেশের পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে সকল সরকারী অফিস সমুহ এখন এই শহরেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ।উল্লেখ্য যে পুরা মায়ানমারের আয়তন বাংলাদেশের চেয়ে ৬ গুন বড় এবং লোকসংখা আমাদের ৪ ভাগের ১ ভাগ ।

নে পি ডো শহর দেখতে খুবই সুন্দর ছবির মতো । রাস্তাঘাটে কোন যানবাহন বা লোকজন নেই বললেই চলে । মেইন সড়ক গুলি ২২ লেনের যা দেখলে মনে হবে জনমানবশূন্য ভূতুরে নগরী । পৃথিবীর সকল বড় বড় কর্পোরেট চেইন এর রাজকীয় হোটেল গুলি তাদের কার্যক্রম চালু করেছে । খোজ নিয়ে জানলাম , প্রত্যেক হোটেলকে ৭৫ একর করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মনের মতো করে সাজানোর জন্য ও সকল আন্তর্জাতিক সুবিধা সমূহ উন্নয়নের জন্য ।এই শহরেই একটি বৌদ্ধ প্যাগোটা বানানো হয়েছে যা পৃথিবীর মধ্যে সুউচ্চ।

পোপা মাউন্টেন……
————————-
ইয়ানগুন শহর থেকে পোপা মাউন্টেন ৬৩০ কিমি দুরে একটি বিলুপ্তপ্রায় আগ্নেয়গিরি। বিখ্যাত পোপা টাউং কলাত মঠটি পাহাড়ের দক্ষিন-পশ্চিমে আগ্নেয়গিরির প্লাগে অবস্থিত যার সুউচ্চে অবস্থিত প্যাগোডায় পৌছতে ৭৭৭ টি সিড়ি বেয়ে উঠতে হয় যার উচচতা সি লেবেল থেকে ৪৯৮০ ফুট । প্যাগোডার চারপাশের অপূর্বদৃশ্য , সুর্যদোয় ও সুর্যাস্তের অপূর্বদৃশ্য ভোলার মতো নয় ।

থাকার জন্য এখানে পোপা মাউন্টেন রিসোর্টটি খুবই উন্নতমানের , মাউন্টের কোলজুড়ে কাঠের কটেজ গুলি থেকে মাউন্টন দিগন্তেরাজি উপভোগ করা যায় । প্রতিটি কটেজে ডাবল শেয়ারের ২ টি রুম , প্রত্যেকটি মাউন্ট ভিউ রুমের ভাড়া ১৩০ ডলার ।

বাগান
————-
মান্দালয়া অন্চলে আরেকটি বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পট যা মায়ানমারের সিগনেচার ট্যুরিস্ট স্পট হিসাবে খ্যাত ।এই স্পটটি ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত । এখানে আনুমানিক প্রাচীন ৪২ হাজার বৌদ্ধ প্যাগোডা ও টেম্পল রয়েছে ।৯ম -১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত বাগান প্রথম বার্মিজ সম্রাটদের রাজধানী ছিলো । তখনকার দিনে বিভিন্ন শাসক বা তাদের ধনী রাজন্যবর্গ তাদের আভিজাত্য প্রদর্শন ও ধর্মীয় উপাসনার জন্য এই অন্চলে প্যাগোডা নির্মাণ করতেন । ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে চারিদিকের বিস্তীর্ণজুড়ে সকল প্রাচীন প্যাগোডা দেখা যায় ।এছাড়া প্রতিজন ১০০ ডলারে প্রতিদিন সকালে হট এয়ার বেলুন এর মাধ্যমে পুরা বাগান দেখার ব্যবস্হা পর্যটকদের আকর্ষিত করে ।
এখানেও সকল চেইন হোটেল সহ অল্প খরচের হোটেল ও পাওয়া যায় ।

খরচ
———-/
ইয়ানগুন থেকে নে পি ডো শহর ঘুরে বিশ্রাম নিয়ে পোপা মাউন্টেনে রাত্রিযাপন , পরদিন পোপা থেকে বাগান ঘুরে নে পি ডো হয়ে মধ্যরাতে ইয়ানগুন ফেরা —- ২ দিনের ১০ জনের মাইক্রো ভাড়া ৪০০ ডলার ।

খাওয়া
—————
মিয়ানমারের মুসলিম হোটেলগুলির খাবার যেন আমাদের দেশের রেস্টুরেন্টের খাবার এর মতো । গরুর গোশত রান্না আমাদের দেশের মতো মশলা দিয়ে রান্না ।এই সকল মুসলিম রেস্টুরেন্ট এর মালিকেরা অনেকেই বাংলা বুঝে কারণ তাদের অনেকের পুর্বপুরুষ আমাদের চাটগা অন্চলের ।

সন্মানিত গ্রুপ মেম্বার , বেড়ানো সময় আমরা যেন পরিবেশ পরিছন্নতার কথা ভুলে না যাই । ভ্রমনকালে রাস্তাঘাটে আমরা যেন চিপ্সের প্যাকেট , ফলের খোসা সহ অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী উন্মুক্ত স্থানে না ফেলি । পরিচ্ছন্ন ভ্রমনকারী হিসাবে নিজের ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 BangaliTimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com