সোমবার, ০৬ Jul ২০২০, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

এ পর্যন্ত যতবার, যে কারণে হজ বাতিল হয়েছে

এ পর্যন্ত যতবার, যে কারণে হজ বাতিল হয়েছে

এ পর্যন্ত যতবার, যে কারণে হজ বাতিল হয়েছে

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছুর পাশাপাশি হজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব।

যদিও এ নিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যেতে পারে, এর আগে কতবার হজ বাতিল হয়েছিল এবং কী কারণে।

৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ: প্রথমবার হজ বাতিল হয়েছিল ৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। হাজিরা অনেকেই জমায়েত হয়েছেন আরাফাতের ময়দানে, বাকিরা আসছেন। এমন সময় হজের কিছুদিন আগে হঠাৎ করে হাজিদের ওপর আক্রমণ চালান আরব নেতা ইসমাইল বিন ইউসুফ। তিনি আল সাফাক নামে সর্বাধিক পরিচিত। বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার সঙ্গে শত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হয়। ফলে ওই বছর বন্ধ হয়ে যায় পবিত্র হজ।

৯৩০-৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ: ‘কারামাতি’ নামে কট্টর একটি শিয়া গ্রুপ হামলা চালায় মক্কা শরীফে। ইতিহাস বলছে, সেসময় প্রায় ৩০ হাজার হাজিকে হত্যা করা হয়। লুটতরাজ করা হয় মসজিদে হারাম ও তার আশপাশের এলাকায়। ঐতিহাসিক কালো পাথরটি নিয়ে যাওয়া হয় বাহরাইনে। প্রায় ১০ বছর পর মক্কায় ফিরিয়ে আনা হয় সেই পাথর। ওই দশ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ: বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ তে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯৬৮ সালে মক্কায় একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় অনেক লোকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজিরাও মারা যান ওই মহামারিতে। শুধু তাই নয়, হাজিরা যে উটগুলো নিয়ে মক্কায় এসেছিলেন, পানির অভাবে সেগুলোও মারা যায়। এসব কারণে ওই বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

৯৮৩-৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ: এই ৮ বছর হজ না হওয়ার পেছনে দায়ী ছিল তখনকার রাজনীতি। সেসময় ইরাক ও সিরিয়ায় ছিল আব্বাসীয় খিলাফত এবং মিশরে ছিল ফাতেমীয় খিলাফত। এই দুই খিলাফতের শাসকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠায় হজ বাতিল হয়ে যায় এবং কাবা শরীফের কপাট বন্ধ থাকে ৮ বছর ধরে।

১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ: এ বছর বাগদাদ আক্রমণ করেন হালাকু খান। সেই আক্রমণ ছিল ভয়ংকর, বাগদাদ শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। খলিফাসহ হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষকে। এই আক্রমণের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম বিশ্বে। কোনো মুসলমানই ওই বছর হজে যাননি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হজ ও ওমরার কার্যক্রম।

১৮১৪ ও ১৮৩১ সাল: এই দুই বছরই হজ বাতিল করা হয় মহামারি প্লেগের কারণে। ১৮১৪ সালে প্লেগের সংক্রমণে সৌদি আরবের হেজাজ প্রদেশে মারা যায় ৮ হাজার মানুষ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই শঙ্কায় হজ বাতিল করা হয়। ১৮৩১ সালে আবারও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ। সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, হাজীদের চারভাগের তিনভাগই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে সে বছরও হজ বাতিল করা হয়।

এছাড়া ১৮৩৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে প্লেগ ও কলেরার কারণে মোট সাতবার হজ বাতিল করার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসময় বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ হজ পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *