সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বাবা-মাকে ছাড়তে চাপ দিলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়া যাবে

বাবা-মাকে ছাড়তে চাপ দিলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়া যাবে

বাবা-মাকে ছাড়তে চাপ দিলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়া যাবে

বাবা-মাকে ছেড়ে আলাদা সংসার পাতার চাপ দিলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেরালা রাজ্যের হাইকোর্ট।

রোববার একটি বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি এ এম সফিক ও মেরি জোসেফ।

তারা মনে করেন, বাবা-মাকে ছাড়ার জন্য স্বামীর ওপরে চাপ দেয়া নিঃসন্দেহ মানসিক অত্যাচার। কারণ তখন স্বামীকে হয় বেছে নিতে হচ্ছে বাবা-মাকে, নয়তো স্ত্রীকে। এরকম এক পরিস্থিতিতে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারণ না থাকলে ডিভোর্স নেয়া যেতে পারে।

সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমি জিনিউজ জানায়, সম্প্রতি কেরালা হাইকোর্টে এক ব্যক্তি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী তার মাকে একদমই সহ্য করতে পারেন না। স্ত্রী চাইছেন মা ছাড়া আমাকে নিয়ে সংসার করতে। শুধু তাই নয়, স্ত্রী হুমকিও দিয়েছেন তিনি আত্মঘাতী হবেন এবং লিখে রেখে যাবেন তার মৃত্যুর জন্য তার স্বামী ও শাশুড়ি দায়ী।

এদিকে স্ত্রীর অভিযোগ, মায়ের ইন্ধনে তার স্বামী তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এখন মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরেন। সন্তানদের ওপরেও অত্যাচার করেন। পরিস্থিতি এমনই যে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে মায়ের কাছে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে শাশুড়ি না থাকলে সংসারে থাকা যাবে। কারণ শাশুড়ি তাকে দিয়ে সংসারের সব কাজ করান। এমনকি একটি অস্ত্রোপচারের পরও তাকে সব কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের বেঞ্চের তরফে বলা হয়, স্ত্রী নির্দিষ্টভাবে বলছেন শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে তার আপত্তি। এটাই এই মামলার প্রধান কারণ। এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনকারী এই গোলমালের শিকার হচ্ছেন।

আদালতের মন্তব্য, স্বামী যে মদ খান তার কারণ স্ত্রীর চাপ হতে পারে। এমন কোনো পরিবার নেই যেখানে যেখানে ঝামলো হয় না। এমনকি পরিবারের বড়রা ছোটদের বকাবকিও করতে পারেন। বাড়ির বউদের বাড়ির কাজ করাটাও নতুন কিছু নয়। সবকিছু থেকে বোঝা যায় ঘরের কাজসহ অন্যান্য বিষয়ের জন্যই শাশুড়ির ওপরে রাগ গৃহবধূর। সবমিলিয়ে আবেদেনকারীর ওপর মানসিক নির্যাতন করেছে স্ত্রী। সব দিক খতিয়ে দেখে এই বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দেয়া হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *