বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

উচ্চমূল্যে আগাম বিক্রি হয় নারীরা, অতঃপর…

উচ্চমূল্যে আগাম বিক্রি হয় নারীরা, অতঃপর…

উচ্চমূল্যে আগাম বিক্রি হয় নারীরা, অতঃপর...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার একটি ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন নারীরা। গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে ঐ এলাকার অন্তত একশো নারী ছিনতাইকারী ধরা পড়েছেন।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, অপরাধ ঠেকাতে সক্রিয় তারা। আর পুলিশ বলছে, সেখানে একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের চিন্তা ভাবনা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে নাসিরনগরের ধরমন্ডল ইউনিয়ন। সড়কপথে নাসিরনগর সদর হয়ে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার অন্তত ১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যেতে হয় ওই গ্রামে। গ্রামটিতে অনুসন্ধানকালে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর লোমহর্ষক অনেক ঘটনা।

এলাকাবাসী জানায়, এলাকার নারীরা উচ্চমূল্যে আগাম বিক্রি হয় অপরাধী চক্রের হাতে। এরপর ওই নারীরা জড়িয়ে পড়ে অপরাধ কর্মকাণ্ডে। তাদের বেশির ভাগেরই টার্গেট থাকে ট্রেনের নারী যাত্রীরা। বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় তারা।

গত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চেইন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ধরমন্ডল এলাকার সুলতানা খাতুন, চম্পা খাতুনসহ তিন নারী। ২০১৮ সালে রাজশাহীতে সোনার চেইন ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়ে ধরমন্ডলের সোলেমা খাতুন, লাভলী আক্তার, রিনা খাতুন, রিফুজা খাতুন ও শামসুন্নাহার বেগম সহ পাঁচ নারী।

২০১৯ সালে ফেনীতে ছিনতাইয়ের সময় ধরা পড়ে ওই এলাকার মুর্তুজ আলীর ছেলে রহিম মিয়ার স্ত্রী আকলিমা। জেল থেকে বের হয়ে হদিস নেই আকলিমার। নিজের ছেলে এবং ছেলে বউয়ের অপকর্মের কারণে তাদের সাথে সর্ম্পক ছিন্ন করেন মুর্তুজ আলী।

তিনি জানান, স্বর্ণালংকার চোরদের ভাগ বাটোয়ারার কথা।

আকলিমার শ্বশুর মুর্তুজ আলী বলেন, ‘যখন বাড়িতে আসছে, আমি বলছি তোমাগোর সাথে আমাগোর সম্পর্ক নেই।’

শুধু মুর্তুজ আলীর পরিবারই নয়, চুরি ছিনতাই, ডাকাতি নানা অপরাধে জড়িত এলাকার অনেক মানুষ। গ্রামটিতে হতদরিদ্রের সংখ্যা বেশি। চোরের এলাকা হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ধরমন্ডলে সহজ সরল মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তারা জানান, তাদের অপরাধের কারণে এলাকার বদনাম হচ্ছে।

বদনামের কথা স্বীকার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এই অপবাদ থেকে এলাকাকে মুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাহার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এই বদনামটা দূর করার জন্য প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, তারা সারা দেশে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িত। অপরাধ দমনে সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে পড়া জেলার সবশেষ উত্তরের ইউনিয়ন ধরমন্ডল, পাঁচটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। লোকসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *