বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

ছবি বিকৃত করার ‘প্রতিশোধ’ নিতে সামরিক হামলা!

ছবি বিকৃত করার ‘প্রতিশোধ’ নিতে সামরিক হামলা!

ছবি বিকৃত করার ‘প্রতিশোধ’ নিতে সামরিক হামলা!

ভালোবাসার মানুষের জন্য অনেকে অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়েছেন অতীতে। কারো কারো ভালোবাসা অমর হয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। রাজায় রাজায় যুদ্ধ আর রাজ্য হারানোর পেছনেও স্ত্রী বা প্রেমিকাকে পাওয়া না পাওয়ার ঘটনা জড়িত আছে। তবে এবার আধুনিক বিশ্বে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা।

স্ত্রীর ব্যাঙ্গাত্মক ছবি বেলুনে সেঁটে সেটি ছড়িয়ে দেয়ায় সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়ে বসলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাক্টিভিস্টরা উত্তর কোরিয়ায় পিয়ংইয়ংবিরোধী বেলুন বার্তা পাঠান। গত মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাক্টিভিস্ট ও পক্ষত্যাগীরা মোট ২০টি বেলুনে প্রায় পাঁচ লাখ লিফলেট, ইউএসবি স্টিক ও এসবি কার্ড পাঠিয়েছে। উত্তরের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের স্ত্রীর ছবি ফটোশফে বিকৃত করে ওই বেলুনে সেঁটে দেয়া হয়। তা দেখে ক্ষিপ্ত হন কিম।

স্ত্রীকে অপমানের বদলা হিসেবে গুঁড়িয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে লিয়াজোঁ অফিস। দেয়া হয় সিউলে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি। উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ দাবি করে। বছরের পর বছর ধরে পক্ষত্যাগ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যাওয়া উত্তর কোরীয় নাগরিক ও দক্ষিণের অ্যাক্টিভিস্টরা উত্তরের শাসনব্যবস্থা ও এর নেতাদের সমালোচনা করে বেলুনের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি এ নিয়ে উত্তেজনার জেরে দক্ষিণের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম। তার বোন কিম ইয়ো জং সর্বসম্মুখেই দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘শত্রু’ বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ায় নিয়োজিত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মাতসেগোরা জানান, ওইদিন লিফলেটের সঙ্গে কিছু ছবিও আসে। ছবিগুলো কিমের স্ত্রী রি সোল জুর। ফটোশপে বিকৃত করা সেই ছবি দেখেই ক্ষিপ্ত হন কিম। আলেকজান্ডার বলেন, স্ত্রীকে অপমান করে এমন বিকৃত ছবি পাঠানোয় ক্ষেপে গিয়ে কিম গত ১৬ জুন লিয়াজোঁ অফিস বোমায় উড়িয়ে দেন।

এদিকে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিজের দেশের ‘উজ্জ্বল সাফল্য’ দাবি করে তার প্রশংসা করেছেন কিম। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ খবর জানিয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির এক রাজনৈতিক বৈঠক শেষে কিম বলেন, ‘আমরা মারাত্মক ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিহত করেছি এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতি ধরে রেখেছি।’

বিশ্বে করোনাভাইরাস যখন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং হাজার হাজার লোককে আইসোলেশনে থাকতে বাধ্য করে। কিম ওই বৈঠকে করোনা মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যকর নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির আদেশ মেনে নেয়ায় জনগণেরও প্রশংসা করেন।

এছাড়া তিনি করোনা রুখতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান। কেসিএনএ জানায়, কিম মনে করেন করোনা মহামারী প্রতিরোধে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ দ্রুত তুলে নেয়া হলে উত্তর কোরিয়ার ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারত।

উত্তর কোরিয়ায় এখনো কোনো করোনা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া যায়নি। জানুয়ারির শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া দ্রুত ভাইরাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি বিদেশিদের পিয়ংইয়ংয়ে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। স্কুলও বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে স্কুল খুললেও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ। তবে করোনা ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করায় খাদ্যের অভাবে ভুগছেন উত্তর কোরিয়ায় ৪০ শতাংশ মানুষ।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *