শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
৪০ কেজি রূপার ইটে রাম মন্দির নির্মাণ শুরু মোদির

৪০ কেজি রূপার ইটে রাম মন্দির নির্মাণ শুরু মোদির

৪০ কেজি রূপার ইটে রাম মন্দির নির্মাণ শুরু মোদির

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (০৫ জুলাই) ৪০ কেজি ওজনের রূপার ইট দিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

বক্তব্যে মোদি বলেন, বহু দিনের প্রতীক্ষা শেষ। আমাদের জীবনে আজকের দিনটি আসতে পারে অনেকে বিশ্বাস করতেই পারেনি। এতদিন তাঁবুতে মাথা গুঁজে ছিলেন রামলালা। এবার তার জন্য সুবিশাল মন্দির নির্মিত হবে। বহু শতক ধরে যে ভাঙা-গড়ার খেলা চলে আসছে। আজ রামজন্মভূমি তা থেকে মুক্ত হল।’

মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির মূল প্রতিশ্রুতির একটি। এ মন্দির নির্মাণ ভারতের কট্টর হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদকে আরো তীব্র করবে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

‘আজ আমি অনেক খুশি। কারণ ভগবান রাম অবশেষে সঠিক একটি ঠিকানা পেয়েছেন। ’ বলেন অযোধ্যার এক বাসিন্দা।

মন্দির নির্মাণ কাজের উদ্বোধনীতে ৩শ’ ১০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যাদের মধ্যে ১শ’ ৩৫ জন ধর্মীয় নেতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথসহ বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনায় মৃতদের প্রতি সম্মান জানিয়েছে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয়। দেশটিতে ১৯ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে প্রায় ৪০ হাজার।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, মন্দির নির্মাণ কর্তৃপক্ষ রাম ভক্তদের কাছ থেকে ২ লাখ শ্রী রাম খচিত ইট সংগ্রহ করেছে। যেগুলো ভিত্তি নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।

মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান স্থপতি চন্ত্রকান্ত সোমপুরা বলেন, ভারতের উত্তরাঞ্চলে নির্মিত মন্দিরের নকশা ‘নাগারা’কে অনুকরণ করে রাম মন্দির তৈরি হবে। তিন তলা বিশিষ্ট বিশাল মন্দিরে ৩শ’ ৬৬টি পিলার থাকবে। গম্বুজ থাকবে ৫টি। অযোধ্য ইস্যুতে যারা জড়িত হয়েছে তাদের সম্মানে একটি মেমোরিয়াল ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

১৫২৭ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়। মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির থাকতে পারে-এমন ধারণায় ১৮শ’ শতক থেকে এ নিয়ে মুসলমানের সঙ্গে বিতর্কে জড়ায় হিন্দুরা।

১৯ শতকের শুরু থেকে এ বিতর্কের জের ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক কলহের ঘটনা ঘটে। পাল্টাপাল্টি আদালতে মামলা দায়ের চলতে থাকে। ১৯৪৯ সালে হিন্দুত্ববাদীরা হিন্দু মহাসভার সাথে জোট বেঁধে গোপনে রামের একটি মূর্তি মসজিদের অভ্যন্তরে রেখে দেয়। এরপরই দাঙ্গা ঠেকানোর নামে পুরো মসজিদ সিলগালা করে দেয় সরকার। প্রবেশাধিকার পেতে আদালতে মামলা করে হিন্দু-মুসলমান দু’পক্ষ।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং তাদের উগ্রপন্থী সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়। যার ফলে পুরো ভারত জুড়েই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এই দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার মানুষ মারা যায়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম।

২০১০ সালে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়ার নির্দেশ দেন এলাহাবাদ উচ্চ আদালত। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দুই ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ। এর বিরুদ্ধে সব পক্ষই উচ্চ আদালতে আপিল করে।

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়কে বাতিল ঘোষণা করেন। রায় দেন ২ দশমিক ৭৭ একরের পুরো জমিই এমন একটি ট্রাস্টকে দিতে হবে; যারা মন্দির নির্মাণ করবে। একইসঙ্গে আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয় সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দিতে। যেখানে মসজিদ নির্মাণ হবে। আর সে জমি অযোধ্যায়ই হতে হবে।

মন্দির নির্মাণ এবং পর্যবেক্ষণে একটি ট্রাস্ট গঠনে সরকারকে নির্দেশ দেন আদালত। আদালত রায়ে আরো বলেন, ‘রাম মন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মসজিদ ভাঙাকে অপরাধ বলেও অভিহিত করা হয়।’

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, বাবরি মসজিদের ধংসাবশেষের তলদেশে কোনো ইসলামি নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই আদালত সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন। মসজিদের তলদেশে ইসলামি নির্দশন পাওয়া পায়নি। পাওয়া যায়নি রামের বা মন্দিরের কোনো অস্তিত্বও।

মন্দির ভেঙে যেহেতু মসজিদ নির্মাণ হয়নি, সেখানে কেনো বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরি হবে? সে সময় এ প্রশ্নও উঠে। এছাড়া, বাবরি মসজিদ ভাঙাকে অপরাধ আখ্যা দিলেও সেই অপরাধের শাস্তিও ঘোষাণা করা হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *