বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
রা’য় কা’র্য’কর হলে মিন্নিই হবে দেশের প্রথম ফাঁ-সি হওয়া নারী ‘এদের দৃ’ষ্টা’ন্ত’মূলক শা’স্তি না দিলে যুব’ক’রা ধ্বং’সে’র পথে যাবে’ মি-ন্নির মৃ-ত্যুদ-ণ্ড দেয়ার সময় যা ঘ-টেছে আ-দালতে রিফাত হ’ত্যা’র পর শেষ বার্তায় মিন্নিকে যা বলেছিল নয়ন বন্ড ফাঁ’সি’র রা’য়ের পর হাসতে হাসতে যা বললেন রিফাত ফরাজি আগামী সপ্তাহে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন, পরীক্ষার প্রস্তুতি জন্য সময় চার সপ্তাহ বাপসু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপিঃ পুলিশি বাধা ও হট্টগোল প্রবাসীর স্ত্রীদের জন্য স’ত’র্ক’তা, অবশ্যই পড়বেন! মহিলারা কোন ধরনের ছেলেদের সাথে প’র’কী’য়া করে! সবার জানা দরকার……. উ’ত্তে’জনাকর মূ’হুর্তে নাতির পু’রু’ষা’ঙ্গ কে’টে দিলেন দাদি!
মাটির গর্তেই সময় কাটে প্রতিবন্ধী শিশুটির

মাটির গর্তেই সময় কাটে প্রতিবন্ধী শিশুটির

মাটির গর্তেই সময় কাটে প্রতিবন্ধী শিশুটির

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দিনমজুর মো. রুবেল মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী শিশু আসাদুল (৭)। সে শারীরিক, বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। আসাদুলের বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা রাশেদা বেগম ঢাকার এক বাসায় ছেলেকে রেখে যান। তারপর তিনি আর ছেলের খোঁজ করেননি।

পরে আসাদুলের চাচি নুরেছা বেগমের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঢাকা থেকে নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। রুবেল তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে মা শহর বানুর (৫৭) কাছে রেখে যান। সেই থেকে আসাদুল দাদী শহর বানুর কাছে থাকে। নাতি ও নিজের জীবনযাপনের জন্য তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর।

রান্না ও গোসলসহ অন্যান্য কাজের সময় প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ছোট একটি গর্তে রেখে যান দাদি শহর বানু। কারণ শিশুটি একা বসে থাকতে পারেনা। বিছানায় শোয়াবার সময়ও তাকে ধরে রাখতে হয়। তা না হলে বিছানা থেকে সে পড়ে যায়। ঘরের ভেতর গর্তে প্রতিবন্ধী নাতিকে রেখে দাদি শহর বানু রান্না-বান্নাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করেন। ভিক্ষা করে জীবন-যাপন করেন দাদী শহরবানু। বাঁশের ছোট ভাঙা ঘরে প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে থাকেন শহর বানু।
মা বাবার কাছে আশ্রয় মেলেনি প্রতিবন্ধী এই শিশুটির। দরিদ্র বিধবা দাদীই এখন তার একমাত্র সহায়। তবে যে উপায়ে দাদী তাকে বাঁচিয়ে রাখছেন, সে উপায়টি মোটেও সম্মানজনক নয়। দাদী ভিক্ষা করে দুজনের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তিন বছর ধরে এভাবেই দিন চলছে দাদী-নাতির।

আসাদুলের বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী রাশেদার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। শহর বানু রামপুর এলাকায় তার বাবার সামান্য জমিতে তৈরি একটি ছোট বাঁশের ঘরে নাতি আসাদুলকে নিয়ে থাকেন। শহর বানু নিজেও অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। তারপরও প্রতিবন্ধী নাতিকে কোলে নিয়ে সারা দিন ভিক্ষা করেন। দুপুরে যদি কারও বাড়িতে খাবার পান তাহলে খেয়ে নেন, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে রান্না করে নিজে খান এবং নাতিকে খাওয়ান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁদের নাম তালিকাভূক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবেদন পেলে ওই বিধবা নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুটির জন্য বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা’র কার্ড দেওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পরে স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে এই খবর ছাপা হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

পরে ১ সেপ্টেম্বর আসাদুলকে সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালিত অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং শিশুটির দাদী শহরবানুকে স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচীর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মাঝে ভাতার বহি বিতরণ করা হয়েছে। এই ভাতা বহির কার্ড বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আরেফিন পারভেজ, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজু সাঈদ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, শহরবানুকে বিধবা ভাতা ও নাতিকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আসাদুলকে তার চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইল চেয়ার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প থেকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। শহরবানুকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আপাতত কারো কাছে যেনো হাত পাততে না হয় সেজন্য গতকাল দুই সপ্তাহের বাজার সদাই তার বাড়িতে দিয়ে আসা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *