বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
রা’য় কা’র্য’কর হলে মিন্নিই হবে দেশের প্রথম ফাঁ-সি হওয়া নারী ‘এদের দৃ’ষ্টা’ন্ত’মূলক শা’স্তি না দিলে যুব’ক’রা ধ্বং’সে’র পথে যাবে’ মি-ন্নির মৃ-ত্যুদ-ণ্ড দেয়ার সময় যা ঘ-টেছে আ-দালতে রিফাত হ’ত্যা’র পর শেষ বার্তায় মিন্নিকে যা বলেছিল নয়ন বন্ড ফাঁ’সি’র রা’য়ের পর হাসতে হাসতে যা বললেন রিফাত ফরাজি আগামী সপ্তাহে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন, পরীক্ষার প্রস্তুতি জন্য সময় চার সপ্তাহ বাপসু কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপিঃ পুলিশি বাধা ও হট্টগোল প্রবাসীর স্ত্রীদের জন্য স’ত’র্ক’তা, অবশ্যই পড়বেন! মহিলারা কোন ধরনের ছেলেদের সাথে প’র’কী’য়া করে! সবার জানা দরকার……. উ’ত্তে’জনাকর মূ’হুর্তে নাতির পু’রু’ষা’ঙ্গ কে’টে দিলেন দাদি!
সেই ভ’য়ঙ্কর রাতের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন ইউএনও ওয়াহিদার বাবা!

সেই ভ’য়ঙ্কর রাতের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন ইউএনও ওয়াহিদার বাবা!

সেই ভ’য়ঙ্কর রাতের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন ইউএনও ওয়াহিদার বাবা!

দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের আলমিরা থেকে কিছু একটা নিয়ে গেছে হা’ম’লাকারী দুর্বৃ’ত্তরা। ঘ’টনার সময় চাবি না দিলে তার চার বছরের শি’শু ছে’লেকে হ’ত্যা করার হু’মকিও দিয়েছিল ওই দু’র্বৃত্ত।

ঘরে একজনই ছিল দু’র্বৃত্ত। যার পরনে ছিল শার্ট ও প্যান্ট, পিপিই নয়। বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। ঘরের ভেতরে ঘটে যাওয়া ওই সময়ের তথ্য জানিয়েছেন হা’ম’লায় গু’রুত’র আ’হ’ত ইউএনওর বাবা মুক্তিযো’দ্ধা ওম’র শেখ।

গতকাল রোববার বেলা ১টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতা’লের ১৯ নম্বর সা’র্জারি ওয়ার্ডের ভিআইপি ১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন বীরমুক্তিযোদ্ধা ওম’র শেখ বলেন সে রাতের ঘ’টনার কথা। এ সময় ওয়াহিদা খানমের মা রমিছা বেগম, বড় ভাই ও মা’মলার বাদি বগুড়ার কাহালু থা’নার পরিদর্শক শেখ ফরিদ উদ্দিনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের পরিচালক ডা: ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা এখন অনেকটা সুস্থ। তিনি কথা বলতে পারছেন। নিজ হাতে খেতে পারছেন। তবে তার কোম’রের নিচ থেকে এখনো অবশ আছে। তার চিকিৎসাপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সেখান থেকে তাকে রেফার্ড করার কথা বলা হলে তাকে এই হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থা’নান্তর করা হবে। পুরো বিষয়টি তার পরিবার দেখভাল করছে। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওম’র শেখ ৭ নম্বর সেক্টরে কর্নেল নুরুজ্জামানের অধীনে সম্মুখযু’দ্ধে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি প্রতিদিনই রাত সাড়ে ৪টার দিকে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠি। এরপর নাতিকে ফিডার খাওয়াই। কারণ নাতি বুকের দুধ পায় না। সে দিনও হয়তো আমা’র মে’য়ে ফিডার বানিয়েছিল। ভাবলাম একটু শুই। তাহাজ্জুদ পড়ার পর খাওয়াবো। চোখেও ঘুম ধরে এসেছে।

সাড়ে ৩টা মতো বাজে তখন। আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। ভাবলাম একটু ঘুম হওয়ার পর উঠে তাহাজ্জুদ পড়ব। হঠাৎ করে মে’য়েটা চি’ৎকার দিয়ে উঠে বলল, বাবা দেখেন তো কোন বেয়াদব ঘরের ভেতর ঢুকছে। আমি আশ্চর্য হইছি। ঘরের ভেতরে ঢুকতে তো পারবে না। কারণ সব চাবি আমা’র কাছে আছে।

কারণ ৫টা গেট ভেঙে কেউ কি আসতে পারে। আমি চোখে ঘুম থাকা অবস্থাতেই উঠে গেলাম ওর রুমে। দরজা সব সময় খোলা থাকে আমাদের। আমি ঘরে ঢোকামাত্রই আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কা মে’রেছে বদমাইশ। আমি তখন ওকে ধাক্কা মা’রছি, ঘু’ষাঘু’ষি ক’রছি। একপর্যায়ে সে আমা’রে ঘা’ড়ে হাতুড়ি দিয়ে আ’ঘা’ত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে বাড়ি মে’রে ফ্যা’কচার করে ফেলে।

আমি তবুও প্রটেকশন দিয়ে গেছি। আবারো বারি মা’রার পর আমি স্টিলের আলমিরাটার কাছে গিয়ে পড়ে গেছি। তবে তখন আমা’র সেন্স ছিল। ওম’র শেখ জানান, অনেকক্ষণ পর সে আমাকে বলে, এই সরে আয় ওখান থেকে। তখন আমি বলি বাবা আমা’র সরার বুদ্ধি নেই। তখন হাত ধরে হা’রামির বা’চ্চাটা আমাকে টেনে নিয়ে এগিয়ে গেল।

নিয়ে গিয়ে ল্যা’ট্রিনের দিকে আমা’র মুখ করে আলনা থেকে দু’টি কাপড় নামিয়ে আমাকে ছুড়ে দিয়ে বলল, এই মুখ ঢাক। আমি তখন ওর কথামতো মুখ ঢাকলাম। আমা’র নাতিটা তখন সারা মেঝেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চার বছর বয়স ওর। এ দিকে বদমাইশটা বলছে, এই চাবি দে। চাবি দে। তখন আমি বললাম, বাবা চাবি কোথায় আছে আমি তো জানি না। জামাই-বেটির ঘর আমি কী’ করে জানব।

তখন সে আমাকে বলে, চাবি না দিলে তোর নাতিকে মে’রে দে’বো। তখন আমি তাকে বললাম। আরে বাবা ওকে মা’রলে কি চাবি পাবা। আমি কি চাবির কথা বলতে পারব। তখন ও বদমাইশটা সুইচ দিলো এবং ওয়ারড্রবের ওপরে থাকা ওর দু’টি ব্যাগে হা’তড়াতে লাগল। ইউএনও মানুষ। টাকা-পয়সা কত কী’ থাকে ওর ব্যাগে। ২০/২৫/৪০ হাজার টাকা অনেক সময় ওর ব্যাগে থেকেই যায়।

ও কোনো দিন ব্যাগ ড্রয়ারের ভেতরে ঢুকায় না। অফিস থেকে নিয়ে আসে ওভাবেই রাখে। আবার ওভাবেই অফিসে যাওয়ার সময় নিয়ে যায়। এরই মধ্যে শুনি ভটভট শব্দ হচ্ছে। তখন মুখ ঢাকা অবস্থায় চোখ বের করে দেখি বদমাইশটা আলমিরা খুলছে। শব্দ শুনতে পাচ্ছি। ভটভট করতেছে।

তবে চাবি খুলে ভেতর থেকে কিছু নিলো, কিছু পাইল কি পাইল না, সেটা ওই সময়ে বুঝতে পারি নাই। তবে আমা’র ধারণা কিছু একটা নিলো। কিছুক্ষণ পরে ল্যাট্রিনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বের হয়ে চলে গেল। ডান হাতে হাতুড়ি ছিল। একজন ছিল তখন ঘরে, গায়ে শার্ট প্যান্ট ছিল, লুঙ্গি কিংবা পিপিই ছিল না।

তখন আমি দেখি আমা’র মে’য়ে শুয়ে আছে খাটে। আমি তখন মে’য়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ডাকলাম মা’রে, মা। অনেকক্ষণ পর সে জবাব দিলো। তখন সে (ওয়াহিদা) বলল, আমাকে মে’রে রেখে গেছে আব্বা। ঘাড়ে মে’রেছে। বুকে মে’রেছে। আমাকে মে’রে ফেলেছে আব্বা। আব্বা আমি ঘাড় ফেরাতে পারতেছি না, কথা বলতে পারছি না।

এই টুকুনই আমা’র মে’য়ের সাথে শেষ কথা হয়েছে। আর কোনো কথা বলেনি সে। ওরা হয়তো ভেবেছিল আমা’র মে’য়ে মা’রা গেছে। সে কারণে তাকে বিছানায় ওরা শুয়েই রেখেছিল। কী’ কারণে আমা’র মে’য়ের ওপর হা’মলা হলো সেটি অনুমানের ওপর কিছু বলতে পারব না।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *