মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
সাব’ধান! না’রীর যো’নীতে মুখ দেওয়া’র আগে এই বি’ষয়টা জেনে নিন। প্র’ত্যেক পু’রু’ষের জা’না দরকার যৌ’ন চা’হিদা মেটাতে একি কা’ণ্ড করলেন স’দ্য বিবা’হিতা ত’রুণী ! বিস্তারিত ভিতরে ৫ দিনে ৩ টা খা’ট ভা’ঙলো হোম কোয়া’রেন্টা’ইনে থাকা ব’রিশালের নব দ’ম্পতি ! মা’কে পাশে’র রুমে রে’খে প্রেমিকে’র সঙ্গে শা’রীরি’ক স’ম্প’র্কে লি’প্ত কিশো’রী মায়ে’র জন্য পা’ত্র খুঁজছেন ক’লেজ পড়ুয়া মে’য়ে! বাংলাদেশে সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে তুর্কি অ্যাপ ‘বিপ’ পশ্চিমা কোনো দেশের নির্দেশ মানব না: এরদোগান জয়ী হয়েই বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের বাসায় কাদের মির্জা দ্বি,গুণ উ’ত্তেজনা বাড়াতে এই বিশেষ কাজ চ’রম তৃ’প্তি দেয় মে’য়েদের মি’লনকালে মে’য়েরা ব্য’থা পাওয়ার ৫টি কারণ
তুরস্কে মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর, ১৮ তলা শহর

তুরস্কে মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর, ১৮ তলা শহর

তুরস্কে মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর, ১৮ তলা শহর

সময়টা ১৯৬৩ সাল। মানুষ খুঁজে পায় কয়েক হাজার বছর পুরনো মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় শহর। তুরস্কের মধ্যে আনাতোলিয়ার কাপাডোশিয়ায় অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ শহর ডেরিংকুয়ো।

আজ জানাবো হাজার হাজার বছর পুরনো মাটির নিচে একটি শহর ডেরিংকুয়ো সম্পর্কে-
মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর এই শহরটির ছিল ১৮টি স্তর। এই স্তরগুলো জুড়ে ছিল স্কুল, গীর্জা, রান্নাঘর, গোয়াল, কবর সহ একটি সম্পূর্ণ শহর।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রায় ২০,হাজার মানুষের বাসযোগ্য করে তৈরি করা হয়েছিল এটি। ১৯৬৩ সালে সাধারণ একটি বাড়ি মেরামতের সময় আবিষ্কৃত হয় মাটির নিচে লুকিয়ে রহস্যময় শহরটি।

কয়েক মিলিয়ন বছর আগেই এই এলাকাটিতে অগ্নুৎপাত হয়েছিল।৩ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু মালভূমিতে অবস্থিত এই অঞ্চল। সমস্ত এলাকা ডুবে গিয়েছিল ছাই ও লাভায়। পরবর্তীতে এই ছাই ও লাভা পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় নরম শিলায়। প্রাচীন আদিবাসীরা বুঝতে পেরেছিল, এই শিলা খোদাই করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব।

 

 

 

 

 

 

 

তারপর তারা সেই নরম শিলা খোদাই করে তৈরি করা শুরু করে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল, মাটির নিচে তৈরি করে শহর। এই অঞ্চলের মাটির নিচে এমন বহু স্থাপনা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বিশাল ও গভীর হলো ডেরিংকুয়ো। ধারণা করা হয় কোনো এক জাতি শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যই তৈরি করেছিল মাটির নিচে এই শহর।

তবে মাটির নিচে এই শহরটি কারা ঠিক কোন সময়ে বানিয়েছিলেন তা সঠিক জানা যায়নি। তবে খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১২০০ অব্দে আনাতোলিয়ায় ছিল ‘হিত্তিতি’দের রাজত্ব। এরপর নানা দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের ফলে হিত্তিতি সাম্রাজ্য ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

এরপর এই এলাকায় বলকান থেকে ‘ফ্রিজিয়ান’ দের আগমন ঘটে। কেউ কেউ ধারণা করেন, ফ্রিজিয়ানদের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্যই হিত্তিতিরা ডেরিংকুয়ো নির্মাণ করেছিল। আর হিত্তিতিরা যদি এই শহর তৈরি করে থাকে, তবে তা তারা তৈরি করেছিল খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দের আগেই।

আবার আরেকদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাটির নিচের এই শহর খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দের মধ্যে ফ্রিজিয়ানরাই তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে মিশরীয়, গ্রীক, আমেরিকান, সিরিয়ান লোকজনের আবির্ভাব হয় এই কাপাদোসিয়ায়।

ইতিহাসে লিখিতভাবে কাপাদোসিয়ার এসব ভূগর্ভস্থ শহরের কথা সর্বপ্রথম দেখতে পাওয়া যায় গ্রীক সেনা ও ইতিহাসবিদ জেনোফোনের লেখায়। তিনি বহুকাল ধরে এই অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। তার লেখা ‘অ্যানাবেসিস’ নামক বইতে তিনি লিখেছেন,

 

 

 

 

 

 

 

 

এখনকার ঘরগুলো মাটির নিচে। ঘরে প্রবেশের মুখগুলো কুয়ার মতো হলেও ভেতরে ছিল যথেষ্ট প্রশস্ত। গবাদিপশুর যাতায়াতের জন্য ছিল সুড়ঙ্গ। তবে মানুষ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতো সিঁড়ি।

ঘরগুলোতে ছাগল, ভেড়া, বাছুর সহ বিভিন্ন ধরনের পাখি পোষা হতো এবং প্রতিটি ঘরেই এদের সবার খাবারের ব্যবস্থা ছিল। এসব গুহা ছাড়াও এখানে ছিল কয়েকটি উপাসনালয়, খাবারের দোকান, মদের ভান্ডার এবং কবরস্থান। বিভিন্ন ঝোপঝাড়, দেয়াল ও বাড়ির উঠানের আড়ালে লুকানো ছিল প্রায় একশর মতো প্রবেশপথ।

মাটির নিচের এই শহরে প্রবেশের প্রতিটি দ্বার বন্ধ করা থাকতো প্রায় ৫ ফুট চওড়া ও ৫০০ কেজি ওজনের গোলাকার পাথরের দরজা দিয়ে।গোলাকার পাথরের এই দরজাগুলো শহরকে রক্ষা করতো নানা রকম বিপদের হাত থেকে। প্রতিটি স্তরে এগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছিল যাতে প্রতিটি স্তর আলাদা আলাদাভাবে বন্ধ করে দেয়া যায়।

পুরো শহরজুড়ে বায়ুচলাচলের জন্য ছিল প্রায় কয়েক হাজার খাঁদ। এগুলোর একেকটি ছিল ১০০ ফুট গভীর। শহরের তলদেশ দিয়ে একটি নদীর প্রবাহ ছিল। গোটা শহরজুড়ে তৈরি করা হয়েছিল অনেকগুলো কুয়া। এই কুয়াগুলো সেই নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কুয়া থেকেই সংগ্রহ করা হতো নিত্যদিনের খাবার পানি।

শত্রুর আক্রমণে শহরবাসী যখন মাটির নিচে নিজেদের লুকিয়ে রাখত, তখনও এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্যান্য কাজকর্ম থেমে থাকল না। গণজামায়েতের জন্য এখানে ছিল স্থান, মুদির দোকান বিশাল খাবারের জায়গা, এমনকি সম্পূর্ণ বাজারও ছিল মাটির নিচে এই শহরে।

যেকোনো সময় শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য অস্ত্রাগারের সব সময় জমা থাকলো অস্ত্র। আর যেকোনো সময় এই শহর থেকে পালিয়ে যাওয়ার অনেক সুরঙ্গ পথ ছিল। মাটির নিচে রহস্যময় শহর ডেরিংকুয়ো ১৯৬৯ সাল থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

যদিও ১৮ স্তর বিশিষ্ট এই শহরের মাত্র আটটি স্তর এখন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। পৃথিবীর নানা দেশ থেকে আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত মানব সভ্যতার এই অনন্য নিদর্শন দেখতে আসেন। মাটির নিচে এই শহরে প্রবেশ করলে আপনিও চলে যাবেন সেই হাজার বছর আগের এক নগরীতে।

পাথরের দেয়াল স্পর্শ করলে অনুভব করবেন, শিরশিরে এক অনুভূতি। যা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে হাজার হাজার বছর আগের এই শহরে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর কথা।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *