শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

স্বা,মী টা’না ৩ ঘ,ণ্টা ক’রলো, মহা,বি’পদে ন’তুন ব’উ

স্বা,মী টা’না ৩ ঘ,ণ্টা ক’রলো, মহা,বি’পদে ন’তুন ব’উ

স্বা,মী টা’না ৩ ঘ,ণ্টা ক’রলো, মহা,বি’পদে ন’তুন ব’উ

আধুনিক ভারতীয় নারীদের চিন্তাভাবনা-বিবেচনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিবিসি হিন্দির বিশেষ ধা’রাবাহিক প্রতিবেদন ‘হার চয়েস’। ১২ জন ভারতীয় নারীর বাস্তব জীবনের অ’ভিজ্ঞতা, তাদের আকাঙ্ক্ষা, বিকল্পের সন্ধান- এ সবই উঠে এসেছে তাদের মুখ থেকে। তারই ধা’রাবাহিকতায় শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দক্ষিণ ভারতের এক নারীর জীবনকথা নিয়ে একটি প্রতিবেদন। তবে মেয়েটির অনুরোধে প্রতিবেদনটিতে তার নাম পরিচয় গো’পন রাখা হয়েছে।

‘সেটা ছিল আমা’র বিয়ের প্রথম রাত। প্রথমবার কোনো পুরুষের স’’ঙ্গে অন্তর’’ঙ্গ ‘’হতে চলেছিলাম আমি। প্রাণের বান্ধবীদের কাছ থেকে শোনা কিছু কথা আর কয়েকটা প’র্নো ভিডিও দেখে আমা’র মনের মধ্যে প্রথম রাতের যে ছবিটা বারে বারে মনে পড়ছিল, ইচ্ছাগু’’লোও জেগে উঠছিল সেরকমভাবেই।

মাথা ঝুঁকিয়ে, হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে আমি যখন শোবার ঘরে প্রবেশ করলাম, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ছবির মতোই সব কিছু চলছিল। আমি তখনও জানতাম না যে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমা’র সেই স্বপ্নগু’’লো ভেঙে যাব’’ে। প্রথম রাতের স্বপ্নে এরকমটা হওয়ার ছিল-আমি ঘরে আসার পরে স্বামী আমাকে জড়িয়ে ধরবে, চুম্বনের স্রোতে ভাসিয়ে দেবে, আর সারা রাত ধরে আমাকে ভালবাসবে।

কিন্তু বাস্তব যে ছবিটা দেখলাম তা হলো, আমি ঘরে ঢোকার আগেই আমা’র স্বামী ঘু’মিয়ে পড়েছেন। ওই মুহূর্তে মনে হলো আমা’র অস্তিত্বটাই যেন আমা’র স্বামী সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করলেন। আমা’র বয়স সেই সময়ে ছিল ৩৫। আমি কৌমা’র্য হারাইনি তখনও ।’

স্বপ্নভ’’ঙ্গ কলেজে পড়ার সময়ে, বা তার পরে যখন চাকরি করি, তখনও দেখতাম আমা’রই কাছের কোনো ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছে। তারা একে অন্যের হাত ধরে, বা কাঁধে মাথা রেখে ঘুরে বেড়াতো।

আমি মনে মনে ভাবতাম, আহা, যদি আমা’রও এরকম কোনও সুযোগ আসতো। আমা’রও তো ইচ্ছা ‘’হতো ওইভাবে কারও ঘনিষ্ঠ ‘’হতে! আমা’দের পরিবারটা বেশ বড় ছিল- চার ভাই, এক বোন, বয়স্ক বাবা-মা। তবুও আমা’র সবসময়েই একা লাগতো।

আমা’র ভাই-বোনদের সবারই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। তাদের সকলের পরিবার ছিল। কোনো সময়ে এটাও মনে ‘’হতো যে ভাই-বোনরা কি আমা’র জন্য একটুও চিন্তা করে? তাদের কি মনে হয় না যে আমা’রও বয়স হচ্ছে, তবুও আমি ততোদিনও একা? আমা’রও তো প্রেম করতে ইচ্ছা করতো। একাকীত্ব গ্রাস করছিল আমাকে। কখনো কখনো মনে ‘’হতো যে আমি খুব মোটা- সেজন্যই আমা’র ইচ্ছাগু’’লো পূরণ হয় না। কিন্তু পুরুষ মানুষ কি মোটা মেয়ে পছন্দ করে না?

শুধু কি আমা’র ওজনের জন্য আমা’র পরিবার জীবনস’’ঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না? তাহলে কি চিরজীবন আমাকে একাই কা’টাতে হবে? এই সব প্রশ্ন আমা’র মনের মধ্যে সব সময়ে ঘুরপাক খেতো। অতঃপর বিয়ে শেষমেশ, আমা’র যখন ৩৫ বছর বয়স, তখন বছর চল্লিশেকের একজন আমাকে বিয়ে করতে এগিয়ে এলো। যখন প্রথম দেখা করি তার স’’ঙ্গে, তখনই আমা’র মনের মধ্যে থাকা চিন্তাগু’’লো তাকে জানিয়েছিলাম। সে কোনো কথারই জবাব দেয়নি।

আমা’র মনে ‘’হতো আমা’র কথাগু’’লো যেন মন দিয়ে শুনছেই না। সব সময়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতো সে। কোনো কথারই জবাব দিতো না, শুধু মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিতো। আমি ভাবতাম আজকাল মেয়েদের থেকেও অনেক বেশি ল’জ্জা পায় পুরুষ। আমা’র হবু স্বামীও বোধহয় সেরকম। তাই আমা’র কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না।কিন্তু বিয়ের পরে প্রথম রাতের ঘটনায় আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমি শুধু ভাবছিলাম সে কেন ওরকম আচরণ করল।

পরের দিন সকালে আমি যখন জিজ্ঞাসা করলাম, সে জবাব দিল যে তার শরীর ভাল ছিল না। কিন্তু তার থেকে আর একটা শব্দও বার করতে পারিনি। প্রথম রাতের পরে দ্বিতীয়, তৃতীয় রাতও কে’টে গেল একইভাবে।সব গো’পন করা হয় আমি শাশুড়ির কাছে বি’ষয়টা জানালাম। কিন্তু তিনিও ছেলের পক্ষ নিয়ে বলতে লাগলেন। ‘ও ল’জ্জা পাচ্ছে। ছোট থেকেই মেয়েদের স’’ঙ্গে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে ও। ছেলেদের স্কুলে পড়াশোনা করেছে তো, সেই জন্য।

ওর কোনো দিদি বা বোন নেই, কোনো মেয়ে বন্ধুও নেই। সেজন্যই এরকম আচরণ।’সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলাম কথাটা শুনে। কিন্তু ব্যাপারটা আমা’র মাথা থেকে কিছুতেই গেল না। ওদিকে আমা’র সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন এক এক করে ভেঙে যাচ্ছিল। শুধু যে শারীরিক চাহিদাই আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তা নয়। আমা’র স্বামী কোনো কথাই বলতো না। আমা’র মনে ‘’হতে লাগলো যে সব সময়েই যেন আমাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমা’র থেকে সে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

যখন কোনো নারী পোশাক ঠিক করে, তখনো পুরুষ মানুষ আড়চোখে সেই দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু আমি যদি রাতে সব পোশাক খুলেও ফেলি, তাহলেও আমা’র স্বামী সম্পূর্ণ উদাসীন থাকতেন। তাহলে কি আমা’র ওজন তার এই ব্যবহারের কারণ? কোনো চাপে পড়ে আমাকে বিয়ে করেছে সে? এইসব প্রশ্ন আমা’র মনের মধ্যে আসতে শুরু করেছিল তখন। কিন্তু এসব কথা কানো স’’ঙ্গে যে শেয়ার করব, সেই উপায় নেই।

আর কতো অ’পেক্ষা আমা’র পরিবারের কারো স’’ঙ্গে এই নিয়ে কথা বলার উপায় ছিল না, কারণ সেখানে সবাই মনে করতে শুরু করেছিল যে আমি খুব ভাল আছি। এদিকে আমা’র অ’পেক্ষার সীমা’রেখা ভাঙার দিকে চলেছে। আমাকে এ সমস্যার সমাধান নিজেকেই বের করতে হবে।বেশিরভাগ ছুটির দিনেও আমা’র স্বামী বাড়িতে থাকতো না। হয় কোনো বন্ধুর বাড়িতে চলে যেতো, বা বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে কোথাও যেতো। ঘটনাচক্রে সেদিন বাড়িতেই ছিল আমা’র স্বামী।

আমি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে সরাসরি জানতে চাইলাম, ‘আমাকে কি পছন্দ নয় তোমা’র? আমর’’া দুজনে একবারের জন্যও অন্তর’’ঙ্গ হইনি এতদিনে। তোমা’র সমস্যাটা কি?’ জলদি জবাব দিয়েছিল, ‘আমা’র তো কোনো সমস্যা নেই!’উত্তর পেয়ে আমা’র মনে হল এটাই সুযোগ তার স’’ঙ্গে অন্তর’’ঙ্গ হওয়ার। আমি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলাম তাকে। কিন্তু কোনো ফলই হচ্ছিল না। কোনোভাবেই তাকে উত্তেজিত করতে পারলাম না।

আমি বুঝতে পারছিলাম না যে এটা নিয়ে কার স’’ঙ্গে কথা বলব। একদিন হঠাৎ করেই জানতে পারলাম যে সে নপুংসক। বিয়ের আগেই ডাক্তাররা এটা তাকে নিশ্চিত করেছিল। সে নিজে আর তার বাবা-মা সবকিছুই জানতেন। কিন্তু আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমাকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। আমি সত্যিটা জেনে ফেলেছিলাম, কিন্তু তার কোনো ল’জ্জা ছিল না এটা নিয়ে। তারপরেও কখনো সে নিজের ভুলটা স্বীকার করেনি কেউ শুনলো না আমা’র কথা সমাজ তো নারীদের সামান্য ভুলচুককেও বড় করে তুলে ধরে।

কিন্তু কোনো পুরুষের যদি কোনো ভুল হয়, সেই ক্ষেত্রেও দোষটা আসে মেয়েদের ওপরেই। আমা’র আ’ত্মীয়রা পরামর’’্শ দিল, ‘শারী’রিক মি’লনটাই তো জীবনের সব কিছু নয়। তুমি বাচ্চা দত্তক নেয়ার কথা ভাবছ না কেন?’ আমা’র শ্বশুরবাড়ির লোকরা হাতজোড় করে বলল, ‘সত্যিটা যদি জানাজানি হয়ে যায় তাহলে ল’জ্জায় আমা’দের মাথা কা’টা যাব’’ে।’ আমা’র পরিবার বলে দিলো, ‘এটা তোমা’র ভাগ্য’। তবে যে কথাটা আমা’র স্বামী বললো, তাতে আমি ‘’হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

‘তোমা’র যা ভাল লাগে করতে পার। যদি মনে করো, তাহলে অন্য কোনো পুরুষের স’’ঙ্গেও শুতে পারো। আমি তোমাকে বির,ক্ত করব না, কাউকে কিছু বলবোও না। তা থেকে যদি তোমা’র সন্তান জন্ম নেয়, তাকে আমি নিজের সন্তান বলেও মেনে নেব’। কোনো মেয়ে কি তার স্বামীর কাছ থেকে এসব শুনতে পারে?সে একটা বেইমান। নিজের আর পরিবারকে লোকল’জ্জা থেকে বাঁচানোর জন্য ওইসব বলছিল। আমা’র পা জড়িয়ে ধরে স্বামী বলেছিল ‘প্লিজ, এটা কাউকে বলো না।

আমাকে ডিভোর্সও দিও না’। সে যেসব উপদেশ দিয়েছিল, আমি সেগু’’লো কল্পনাও করতে পারি না।আমা’র ভ বি’ষ্যৎ আমা’র সামনে দুটো রাস্তা খোলা ছিল- হয় তাকে ত্যাগ করা অথবা তাকে নিজের জীবনস’’ঙ্গী রেখে দিয়ে আমা’র নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাগু’’লোকে ত্যাগ করা। শেষমেশ আমা’রই জয় হলো। সেই তথাকথিত স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম আমি। আমা’র বাবা-মা কিন্তু আমাকে ফিরিয়ে নেয়নি। কয়েকজন বন্ধুর সাহায্যে আমি একটি মেয়েদের হোস্টেলে চলে যাই।

বিয়ের আগে চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিছুদিনের চেষ্টায় একটা নতুন চাকরিও যোগাড় করলাম। খুব ধীরে হলেও আমা’র জীবনটা আবার নিজের ছন্দে ফিরতে শুরু করছিলো। আমি কোর্টে বিয়ে বিচ্ছেদের মা’মলা ফাইল করলাম। সেখানেও আমা’র স্বামী আর তার পরিবার নির্লজ্জের মতো সত্যটা গো’পন করে বিয়ে ভাঙার জন্য আমা’র ওপরেই দোষারোপ করে। এমনকি বিয়ের পরে অন্য সম্পর্ক গড়ে তোলার দোষও দেয় আমা’র ওপরে।

লড়াই করে গেলাম আমি লড়াইটা থামাইনি। নিজের মেডিকেল পরীক্ষা করাই। তিনবছর লেগে গিয়েছিল বিয়ে বিচ্ছেদ পেতে। আমা’র যেন পুনর্জন্ম হল। আজ আমা’র ৪০ বছর বয়স, কিন্তু আমি এখনো কুমা’রী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পুরুষের স’’ঙ্গে আমা’র সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাদের সকলেরই ভালবাসাটা ছিল শারীরিক।কেউ বিয়ে করা বা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তোলায় ইচ্ছুক ছিল না। কিন্তু এখন আমি পুরুষদের কাছ থেকে একটু দূরে থাকারই চেষ্টা করি।

আমি শুধু সেইসব পুরুষের স’’ঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখতে চাই, যারা আমা’র খেয়াল রাখবে, আমা’র মনের ইচ্ছাগু’’লোকে বোঝার চেষ্টা করবে, জীবনভর আমা’র স’’ঙ্গে চলার, স’’ঙ্গে থাকার অ’’ঙ্গীকার করবে। এখনো সেরকম পুরুষের অ’পেক্ষায় আছি। আর যতোদিন না সত্যিকারের সেরকম পুরুষ পাচ্ছি, ততোদিন ওয়েবসাইটই আমা’র সবথেকে অন্তর’’ঙ্গ বন্ধু।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *