আপনি পুলিশ। তার আগে কারো বাবা কিংবা ভাই কিংবা স্বামী কিংবা ছেলে!

আপনি পুলিশ। তার আগে কারো বাবা কিংবা ভাই কিংবা স্বামী কিংবা ছেলে!
আপনি ছাত্রলীগ। তার আগে কারো ছেলে কিংবা ভাই কিংবা স্বামী কিংবা বাবা!

চাকুরিতে যাওয়ার উদ্দেশ্য বাড়ি হতে বাহির হওয়ার আগে ছেলে-মেয়েদের জিজ্ঞেস করলেন আসার সময় তাদের জন্য কি আনতে হবে? স্ত্রী’র জন্য শাড়ী আনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন। বাবার রুমে প্রবেশ করে টেবিলের উপরে এক হাজার টাকার চকচকে নোট রাখলেন। ছোট ভাইকে সারপ্রাইজ হিসেবে নতুন শার্ট দিলেন। সবাই খুশিতে আত্মহারা।

ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফিরলেন। ছেলে-মেয়ের জন্য অনেকগুলো চকলেট আনলেন। অন্যদিন আপনি বাড়ি ফিরলেই তারা আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু আজ তারা আপনার থেকে বেশ দূরত্বে অবস্থান করছে। স্ত্রী’র দিকে শাড়ী বাড়িয়ে দিলে সে সেটা প্রত্যাখান করে। ছোট ভাইকে যে শার্টটি দিয়েছিলেন সেটা ছেঁড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে। বাবার টেবিলের উপরে এখনও এক হাজার টাকার চকচক নোটটি রয়েছে। ডিউটিতে যাওয়ার আগে সবার চোখে আপনার জন্য যতটা সম্মান ছিল, এখন ঠিক ততটাই ঘৃণা!
পরক্ষণেই আপনি আসল ঘটনা উপলব্ধি করতে পারলেন। আপনি আজ নিজের ভাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। একজন মুসলিম হয়ে অপর এক মুসলিম ভাইয়ের বুকে গুলি চালিয়েছেন। মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার পরে-ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আসল ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছে। আপনার সে-ই ছোট্ট ছেলে-মেয়ের চোখে আপনি একজন মস্ত বড় অপরাধী। তারা আর কখনও গর্ব করে বলতে পারবে না তাদের বাবা সুপারহিরো। আপনার স্ত্রী আর কাউকে আপনাকে তারর স্বামী বলে পরিচয় দিতে পারবে না। আপনার ভাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপনার সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না।

কারণ সে ওতো মুসলিম। আজকে আপনি বাহিরের ভাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন কাল তার বিরুদ্ধে ও ধরতে পারেন। আপনার বাবার চোখে জল! আপনার বাবা কপালে হাত দিয়ে চিন্তা করছে এত বছর তিনি কাকে লালন-পালন করেছেন? কি শিখিয়েছেন? নিজের দেওয়া শিক্ষার প্রতি নিজেরই আফসোস হচ্ছে।

আপনি তাদেরকে বলছেন আপনি সেখানে ছিলেন না। আপনি কারো বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেন নি। ঠিক তখনই আপনার ছোট্ট ছেলেটি গুটিগুটি পায়ে আপনার কাছে এসে মোবাইল হতে আপনার একটি ভাইরাল ছবি বের করে দেখাল! আপনি স্তব্ধ! মুহুর্তেই শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছে। কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। ছোট্ট ছেলেটার চোখে জল। সে হয়তো পুরো বিষয়টি না বুঝলেও আংশিক বুঝতে পেরেছে। আর এটাই তার মনে তার বাবার জন্য ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। আপনি পরিবারের সবাইকে বলছেন, আপনি যদি আজ একাজ না করতেন তাহলে আপনার চাকুরি ছুটে যেত। আপনি পরিবারের সকলের কথা চিন্তা করেই একাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। ঠিক তখনই পরিবারের সকলে আপনার একথার বিরোধিতা করল। আপনি একাজ তাদের জন্য করেছেন একথা মানতে তারা নারাজ। তারা কোনভাবেই আপনার পাপের ভাগ নিবে না। দরকার হলে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে কিন্তু তা-ও আপনার একাজ সমর্থন করবে না।

আপনার চোখেও জল টলমল করছে। যাদের জন্য আপনি নিজের জীবন বাজি রেখে এত বছর কাজ করে গিয়েছেন তাঁরাই আজ আপনাকে অস্বীকার করছে! বিষয়টি কি মেনে নেওয়া সম্ভব!
হে ভাইয়েরা আমার। কেয়ামত দিবসের দৃশ্য যে আরও ভয়াবহ হবে। পুরো জীবন যাদের জন্য পাপ করে আসছেন কিংবা নিজের ভাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে আসছেন তাঁরাই সেদিন আপনাকে অস্বীকার করবে। আপনার গুনাহের নূন্যতম ভারও তারা বহন করতে চাইবে না। তাহলে এখন নিজের বিবেকের কাছেই প্রশ্ন করে দেখুন আপনি কি করছেন? কিংবা কাদের জন্য করছেন?
চাকুরি চলে যাবে সে-ই ভয়ে কি নিজের ভাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন?
চাকুরি চলে যাবে সে-ই ভয়ে কি নিজের ঈমান বিক্রি করে দিয়েছেন?

আরও একবার নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আপনার কারণে আপনি বাবা লাঞ্ছিত, অপমানিত। যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসেন অর্থাৎ আপনি স্ত্রী আপনাকে অস্বীকার করছে। আপনার ছেলে-মেয়ের চোখে আপনি অনেক বড় অপরাধী। ভাইটা আপনার প্রতি সমস্ত বিশ্বাস হারিয়ে আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলোই কি আপনার জীবনের প্রাপ্তি? পার্থিব জীবনের চাকুরির কারণে আখিরাত নষ্ট! এটাই কি আপনার প্রাপ্তি?
এখনও সময় আছে। সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন। যেসব চাকরির কারণে নিজেদের ভাইদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয় কিংবা ঈমান হারাতে হয় সেসব চাকরি আজই বর্জন করুন। রিজিকের মালিক তো একজন আছেনই।

আপনি তার জন্য একটি চাকরি ছাড়লে তিনি আরও ভালো কিছুর ব্যবস্থা করবেন। তাই ও-ই চাকুরি বর্জন করে রবের নিকটে ফিরে আসুন। কবরের আজাব কে ভয় করুন! কেয়ামত দিবসকে ভয় করুন। আল্লাহর শাস্তিবিধান কে ভয় করুন। জাহান্নামের আজাব কে ভয় করুন।
ভাইয়েরা আমার আপনার ঈমান কিন্তু অতটা দুর্বল কিংবা সস্তা না যে এটাকে একটা চাকুরির বিনিময়ে বিলিয়ে দিতে হবে। ওই চাকুরি আজই বর্জন করুন যে চাকুরির ফলে ঈমান হারানোর আশংকা থাকে কিংবা হারাতে হয়। ভাইয়ের আমার রবের নিকটে ফিরে আসুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

এক লক্ষ সওয়াব অর্জনের দুআ

Wed Mar 31 , 2021
হাদীসে এমন একটি অবিশ্বাস্য ফযীলতের দুআ আছে, যেটি পাঠ করলে এক লক্ষ সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়, এক লক্ষ গুনাহ মাফ করা হয়, এক লক্ষ গুণ সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হয়। সেটি হলো বাজারে প্রবেশের নিম্নোক্ত দুআটিঃ . রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে লোক বাজারে প্রবেশ […]
এক লক্ষ সওয়াব অর্জনের দুআ