উ এর কথা শুনে মাকে এবং মায়ের কথা শুনে বউ কে জাজ করবেন না।

বউ এর কথা শুনে মাকে এবং মায়ের কথা শুনে বউ কে জাজ করবেন না। কারণ আপনার জীবনে দুইজনই অপরিহার্য অংশ আপনি কাউকেই বাদ দিতে পারবেন না। কেননা,আপনার মা কে বাদ দিলে যেমন আপনি একপ্রকার এতিম হয়ে যাবেন, ঠিক তেমনই আপনার বউকে বাদ দিলে আপনার সন্তানদের উপরেও আপনার মতোই প্রভাব পড়বে।
মা পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম শব্দের এক দীর্ঘতম অনুভূতি। মা সন্তানের জীবন্ত জান্নাত। মায়ের তুলনা দেবার মতো নশ্বরে কিছু নেই।

অপরদিকে আপনার বউ হলো এমন একজন মানুষ যে তার বাড়িঘর,চিরচেনা আপনজনদের ছেড়ে এককাপড়ে শুধুমাত্র আপনার ভরসায় আপনার হাত ধরে এসেছে আপনার সংসারে। আপনার সন্তানের মা সে।….
আপনার বিপদ আপদে অসুস্থতায় অথবা দৈনিক প্রার্থনার মোনাজাতে আপনি দুইজন নারীর প্রার্থনাতেই থাকে।
আপনার বাড়ি ফিরতে দেরী হলে দুইজন নারীই চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকে। একজন আপনার মা এক হৃদয় সমান স্নেহ,মায়া,মমতা, ভালোবাসা নিয়ে।
অপরজন আপনার স্ত্রী অফুরন্ত ভালোবাসার অপেক্ষা নিয়ে।

দুইজনই আপনার জীবনে অপরিহার্য অংশ। দুইজনকে দেখুন তাদের ক্যাটাগরির দিক দিয়ে। বউ এর মন রক্ষায় মা কে অবহেলা করবেন না। এতোটা কাপুরুষ হলে নিজের বিবেকের দংশনের থেকে রেহাই পাবেন না। অপরদিকে মায়ের কথায় বউ এর উপর নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে জালিমতার শীর্ষে নাম লেখাবেন না। কারণ জালিমদের শেষ পরিনিতি খুবই শোচনীয় হয় এটা ভুলে যাবেন না।
আমাদের সমাজে এমন কিছু নারী আছে যে তার শাশুড়ীকে সহ্য করতে পারে না।
আবার এমনও নারী আছে যে তার ছেলের বউ কে দেখতে পারে না।

এই বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ আবহমানকাল থেকে। স্ত্রীর কথা শুনে মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর যেমন অনেক নজির রয়েছে। ঠিক তেমনই, মায়ের কথা শুনে স্ত্রীকে অত্যাচার করার দৃষ্টান্ত ও কম নেই সমাজে। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ছেলেরা দ্বায়ী। কেননা তারা কেন স্ত্রীর কথায় জন্মদাত্রী মা কে বৃদ্ধাশ্রমে দেবে? আর মায়ের কথা শুনে কেন স্ত্রীকে প্রহার করে জখম করবে!
দুইজনের একজন ও তার জীবনে ফেলনা নয়। সমস্যা সবার জীবনেই হয় কমবেশি সব পরিবারেই। শুধুমাত্র একজনের কথাশুনে আরেকজনকে জাজ করা নেহাত বোকামিই নয় সেইসাথে মূর্খামী।

বিচার যখন করতেই বসবেন নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করুন। মায়ের কোন কথায় ভুল থাকলে মা কে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলুন। কারণ, কোন আদমসন্তানই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তেমনই আপনার স্ত্রীর ভুল ত্রুটি থাকলে তাকেও বুঝিয়ে বলুন।
এই বোঝানোর ক্ষমতাটুকু অথবা ধৈর্য্য না থাকলেই আপনি মুখ থুবড়ে পড়বেন মেরুদণ্ড ভেঙে আর উঠে দাঁড়াতে পারবেন না সহজে।
আপনার বেঁচে থাকার জীবনে দুইজন নারীর ভূমিকায় অনেক বেশি। কাউকে বাদ দেবার অবকাশ নেই। তাই একজনের মন রক্ষার্থে আরেকজনকে কষ্ট দেওয়া বাদ দিন। এতেই আপনার মঙ্গল এতেই আপনার শান্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

তৃতীয়বারও যখন কন্যা সন্তানের বাবা হলাম তখনও মুখে হাসি ভরা ছিলো।

Tue Apr 6 , 2021
তৃতীয়বারও যখন কন্যা সন্তানের বাবা হলাম তখনও মুখে হাসি ভরা ছিলো। ডাঃ এসে যখন বললো মেয়ে হয়েছে, তখন পরিারের সবার মুখ কালো হয়ে গেলো। আমার আবার মেয়ে হয়েছে শুনে হাসি মুখে বলেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্ত্রী সোহাগী তখন কেবিনের ভিতর। ডাঃ মেয়েটা এনে আমার কোলে দিলো। আমি মেয়েটাকে নিয়ে সোহাগীর কাছে […]