বসে আছি এমন সময় ছোট বোন এসে বললো ভাইয়া কাল থেকে

বসে আছি এমন সময় ছোট বোন এসে বললো ভাইয়া কাল থেকে আব্বুর মাথা থেকে আমার বিয়ের ভুত নামাতে পারলাম না। আজ সন্ধ্যায় আমার দেখতে আসবে। আমি বিয়ে করবো না বিয়ে টা ভেঙ্গে দে। আমি পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করবো।

~~আমি বললাম কেন কি হয়ছে তোর তো বিয়ের বয়স হয়েছে। বিয়ে করে ফেল।

— বোন আমার রাগি চোখে তাকিয়ে বললো। আমার তো বিয়ে হয়ে গেলে তোর অনেক ভালো হয়। তোর কাছে টাকা চাইবো না। তোকে জ্বালাবো না।‌ তোরা সবাই চাস আমাকে বিয়ে করিয়ে দিয়ে পর করে দিতে।
—-এটা বলে বোন আমার রাগ করে চলে গেল। আজ রাতে বন্ধুর বাসায় দাওয়াত ছিল কিন্তু যাওয়া হলো না। বোন কে দেখতে আসবে তাই বাসায় থেকে গেলাম। সন্ধ্যায় ছেলেপক্ষ দেখতে আসলো। নাস্তা দেওয়া হলো সবাই কে। তারপর বললো মেয়ে কে নিয়ে আসতে।

~~আমি নিয়ে আসতে গেলাম। রুমে গিয়ে দেখি বোনটা আমার মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আমি বললাম আজ তো তোকে পরীর মতো লাগছে। বিয়েটা মনে হয় হয়ে যাবে। অনেক দিন কারোর বিয়ে খাই নি। এবার তোর বিয়েটা ধুমধাম করে খাবো। বোন আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। বোন কে নিয়ে সবার সামনে গেলাম।
~~এবার শুরু হলো প্রশ্ন পালা। ছেলের মা বলে মা তুমি রান্না করতে পারো?
–জ্বী পারি।

কি কি রান্না করতে পারো?
— মিষ্টি জাতিয় বাদে সব কিছু রান্না করতে পারি।
এতো বড় মেয়ে এখনো মিষ্টি খাবার রান্না করতে পারে না।‌ বোন আমার দিকে রাগি ভাব নিয়ে আড় চোখে তাকালো।
—তো মা তুমি একটু হেঁটে দেখাও তো?
–তোমার পা টা দেখি একটু?
— এমন আরো অনেক ধরনের উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করলো। সব শেষে বললো মেয়ে আমাদের পছন্দ।
~~ কিন্তু মেয়ে পক্ষ থেকে আমাদের কিছু চাওয়া পাওয়া আছে। আপনাদের তো গুলশানে একটা বাড়ি আছে ওটা আমার ছেলের নামে করে দিতে হবে। আর নগত ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আপনারা যদি রাজি থাকেন তাহলে বিয়েটা হবে।
—সবার কিছু বলার আগে আমি বলে উঠলাম হ্যাঁ আমরা বিয়েতে রাজি।

—এটা শোনার পরে বোন আমার দিকে এমন করে তাকলো মনে হচ্ছে কান্না করে দিবে।
~~তখন ছেলের মা বললো যাক আলহামদুলিল্লাহ। আর আমার ছেলে কে যা দিবেন তা তো আপনার মেয়ের। বিয়ে হয়ে গেলে দুজন একসাথে থাকে। সবিই তো ওদের। আর টাকা টা দিয়ে একটা ব্যবসা করলো। অনেক ভালো হবে।
— আমি তখন বললাম হুম ঠিকই তো বলছেন। তো আমরা সব দিতে রাজি। আমার বোনের ব্যাংক একাউন্ট আছে। ওর একাউন্টে জমা দিয়ে দিই। আর বাসা টাও ওর নামে লিখে দিই। আর একটু আদিক্ষেতা দিয়ে বললাম। আমার বোনের সম্পদ মানেই তো আমার হবু দুলাভাই এর।

~~~ছেলের মা আমার দিকে ব্যাকা চোখে তাকালো।
~~~আমি বললাম আচ্ছা হবু দুলাভাই আপনি রান্না করতে পারেন?
—-থালাবাটি মাজতে পারেন?
—–বিয়ের পর ছেলে মেয়ের স্কুলে দিয়ে আসা নিয়ে আসা করতে পারবেন?
তখন হবু দুলাভাই বলে উঠলো এগুলো আমি কেন করবো। এগুলো তো বাড়ির মেয়েদের কাজ।
~~~ওমা দুলাভাই কি কন এগ্লা আপনাকে তো আমরা ১৫ লক্ষ টাকা আর বাড়ি দিয়ে কিনে নিয়েছি। তাহলে আপনি কেন এগুলো করবেন না ।
—–এই কাজগুলো করার জন্য তো আপনাকে বেতন হিসেবে যৌতুক দিচ্ছি।

—আর আপনার বোন হয় এটা?
আমার সাথে বিয়ে দিবেন। কিন্তু আমি চাকরি করি না। বেকার। তখন ছেলের মা বললো বেকার ছেলের সাথে বিয়ে কেন দিব। সমস্যা নাই তো বিয়ের পর বেকার থাকবো না।
~~~আমাকে বাড়িও দিতে হবে না আর ১৫ লক্ষ না ১২ লক্ষ টাকা দিলেই হবে। সেটা দিয়ে ব্যবসা করবো‌। চুপ করে বসে আছে।
~~~~আমি বললাম কি ব্যাপার আমার বোনের সাথে বিয়ে করবেন না। যা যা চেয়েছেন সব দিতে রাজি আমরা।
~~~এখনো বসে আছেন যে লজ্জা শরম নাই কি? লজ্জা শরম থাকলে আর কোন দিন এভাবে যৌতুক চাইবেন না। ওরা সবাই লজ্জায় মাথা নিচু করে চলে গেল।
~~বোন আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলো। আমি বললাম আর কিন্তু সাহায্য করতে পারবো না এটাই শেষ। এখন বিয়ে না করলে কিন্তু পরে বুড়ি হয়ে যাবি তখন বিয়ে হবে না। বিয়ে হলেও চল্লিশ বছর এর মুরুব্বি চাচার সাথে বিয়ে হবে।
হোক তোর সমস্যা কি কুত্তা। যাহ এখান থেকে।

~~রুম থেকে যখন বাহির হলাম তখন আব্বু বললো। ওদের সাথে এভাবে ব্যবহার করা ঠিক হয় নাই। বিয়ে টা হয়ে যেতে পারতো। আমি তখন বললাম বিয়ে হওয়ার দরকার নাই যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিব না। আজ যৌতুক চাচ্ছে কাল আমার বোন কে নির্যাতন করবে টাকার জন্য। একজন আদর্শ ছেলে বা পরিবার কখনো বিয়ের সময় যৌতুক চাইবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

সাইকোলজিকাল ফ্যাক্ট

Tue Apr 6 , 2021
1.জীবনে যখনি কোনো অবস্থায় নার্ভাস হয়ে পড়বেন, তখন আপনার এমন কোনো বন্ধুর কথা ভাবতে থাকুন যার সাথে আপনার অনেক দিন দেখা হয়নি। তাহলে দেখবেন আপনার মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য রিল্যাক্স হয়ে যাবে এবং আপনি নিজেকে সামলে নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যাবেন। ভাইভা বোর্ড, প্রেজেন্টেশন এর সময়ে এমন ঘটনা ঘটেই […]